ঢাকা, মঙ্গলবার, ১০ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ আপডেট : ৪ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১৫ নভেম্বর ২০১৯, ১১:১৯

প্রিন্ট

প্রেমে ব্যর্থ হয়ে ছাত্রীর দাঁত ভেঙে দিলো বখাটে

প্রেমে ব্যর্থ হয়ে ছাত্রীর দাঁত ভেঙে দিলো বখাটে
শরীয়তপুর প্রতিনিধি

শরীয়তপুরে নিজের কলেজ ক্যাম্পাসে কলেজছাত্রী খাদিজা আক্তারের (১৯) ওপর হামলা চালিয়ে পাঁচটি দাঁত ভেঙে দেওয়া হয়েছে। প্রেম নিবেদন করে ব্যর্থ হয়ে আজমির উল্লাহ (১৮) ইট দিয়ে আঘাত করে ওই ছাত্রীর দাঁত ভেঙে দেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

বুধবার (১৫ নভেম্বর) বিকেলে এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আহত কলেজছাত্রী খাদিজা আক্তারকে (১৯) উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

শরীয়তপুর সরকারি কলেজের সহপাঠী ও সদরের পালং মডেল থানা সূত্র জানায়, শরীয়তপুর সদর উপজেলার চর কোয়ারপুর গ্রামের আবুল কালাম ঢালীর মেয়ে খাদিজা আক্তার সরকারি কলেজের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। একই কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র আজমির উল্লাহ অমিত পৌরসভার তুলাসার এলাকার শাহ আলম খানের ছেলে।

গেল কয়েক মাস ধরে অমিত খাদিজাকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। দিন দিন অমিতের বখাটেপনা বাড়তে থাকে। ছাত্রী সহপাঠীদের বিষয়টি জানায় এবং তাদের মাধ্যমে অমিতকে সতর্ক করে। গেলে বুধবার ক্লাশ শেষে কলেজ থেকে বের হওয়ার সময় খাদিজার পথরোধ করে অমিত। তখন তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। অমিত মেয়েটির ওপর চড়াও হয় একপর্যায়ে ইট দিয়ে ওই ছাত্রীর মুখে আঘাত করে। এতে ওই ছাত্রীর নিচের পাটির দুটি ও ওপরের পাটির তিনটি দাঁত ভেঙে যায়। সহপাঠীরা তাকে উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।

শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে দন্ত বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে খাদিজাকে বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক সুমন কুমার পোদ্দার বলেন, দাঁত ভাঙা নিয়ে খাদিজা নামের এক কলেজ ছাত্রীর ভর্তি হয়। তার ওপরের ও নিচের পাটির পাঁচটি দাঁত ভেঙে গেছে। এছাড়া চোয়ালে সে বেশ আঘাত পেয়েছে। তার মুখে অস্ত্রপচার প্রয়োজন কিন্তু সদর হাসপাতালের দন্ত বিভাগে এ ধরনের সুবিধা নেই। তাই তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক খাদিজার এক সহপাঠী বলে, ‘ছেলেটি জুনিয়র। তাকে অনেকবার নিষেধ করেছি। কিন্তু সে বেপরোয়া ছিল। কারও কথা শোনেনি।’

খাদিজার বাবা বলেন, ‘কলেজে একটি ছেলে উত্ত্যক্ত করত, খাদিজা বাড়িতে দুই-একবার আলোচনা করেছে। কিন্তু গুরুত্ব দিইনি। এর মূল্য এমনভাবে দিতে হবে বুঝতে পারিনি।’

শরীয়তপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ হারুন অর রশিদ বলেন, এ ঘটনায় আমরা মর্মাহত। তাৎক্ষণিক বিষয়টি নিয়ে শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা করেছি। আগামী শনিবার বিষয়টি নিয়ে শিক্ষক পরিষদের সভা ডেকেছি।

এদিকে ঘটনার পর থেকেই পলাতক থাকায় আজমিরের বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। বাড়িতে গিয়েও পরিবারের কোনো সদস্যকে পাওয়া যায়নি।

পালং মডেল থানার ওসি মো. আসলাম উদ্দিন জানান, এ ঘটনায় বখাটে আজমির বিরুদ্ধে ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে মামলা করেছেন। মামলার হওয়ার পর আজমির পালিয়ে বেড়াচ্ছে। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

বাংলাদেশ জার্নাল/কেআই

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত