ঢাকা, রবিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯, ১ পৌষ ১৪২৬ আপডেট : কিছুক্ষণ আগে English

প্রকাশ : ২৫ নভেম্বর ২০১৯, ০০:২৪

প্রিন্ট

মাল্টা বাগানের ‘আইডল’ সাখাওয়াত

মাল্টা বাগানের ‘আইডল’ সাখাওয়াত
চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলা সাখাওয়াত মাল্টা চাষে দেশ সেরা খ্যাতি অর্জন করেছেন। এলাকায় অনেকেই তাকে গাছ পাগল সাখাওয়াত বলেও ডাকেন। সরকারি চাকরিজীবী হলেও ইচ্ছা শক্তি দিয়ে গ্রামে গড়ে তুলেছেন ৪০ বিঘা জমির উপরে মাল্টার বাগান।

চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে সাখাওয়াতের মাল্টার বাগানটি এখন দেশের সব থেকে বৃহৎ মাল্টার বাগান।

আব্দুর রহমানের ছেলে সাখাওয়াত হোসেন বাবুলের শুরুটা সহজ ছিলো না। অভিযোগ রয়েছে, মাঠ পর্যায়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কোনো মাঠ কর্মীর সহযোগীতাও পায়নি তিনি। কিন্তু ছোটবেলা থেকে সাখাওয়াতের বুকে গাছের প্রতি ভালবাসা ছিলো। আর সেই সুবাদে ২০১৩ সালে খুলনা কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট থেকে দুই ২০টি মাল্টার চারা কেনেন। অল্প পুঁজি দিয়ে গাছ লাগানোর এক বছরের মাথায় গাছগুলো কলম করে চারা গাছ তৈরি করেন সাখাওয়াত।

এরপর গ্রামের কৃষকের কাছ থেকে ২৪ বিঘা জমি লিজ নিয়ে প্রায় চার হাজার কলম মাল্টার চারা গাছ রোপণ করেন। বর্তমানে একই দাগে ৪০ বিঘা মাল্টা আছে কৃষক সাখাওয়াতের। গাছ লাগানোর দুই বছর পর ফুল আসতে শুরু করে মাল্টার চারাগুলোতে। বর্তমানে সাখাওয়াতের মাল্টার বাগানে ডালে ডালে মাল্টা ফলে ভরা।

মাল্টা চাষী সাখাওয়াত জানান, মাল্টা বাগান করতে ৫ বছরে এ পর্যন্ত তার খরচ হয়েছে ২৯ লাখ টাকা। প্রতি বিঘা জমিতে বছরে ৬০-৭০ মণ মাল্টা ফল পাওয়া যাবে। যা বাজারে বিক্রি হবে প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকায়। এ ছাড়া সমস্ত মাল্টার বাগানের মাল্টা বিক্রি হবে ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকায়। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে মাল্টার ফলন ভালো হয়। প্রতি কেজি মাল্টা ৮০-১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে বর্তমান বাজারে।

উঁচু জমিতে মাল্টার চারা রোপণ করতে হয়। বাগানে রাসায়নিক সারের চেয়ে জৈব সার বেশি ব্যবহার করা হয়।

এদিকে সাখাওয়াতের মাল্টার বাগান থেকে উৎসাহ নিয়ে মাল্টা বাগান করে আরও ১২ জন বাগান শ্রমিক পরিবারে সচ্ছলতা ফিরিয়েছেন।

স্থানীয় চেয়ারম্যান আজিজুল হক বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, সাখাওয়াতের ৪০ বিঘা জমিতে উপর চার হাজার মাল্টার চারা রয়েছে। প্রতিটি গাছে মাল্টা ঝুলে মাটিতে নুয়ে পড়ে আছে। তার এই সাফল্য দেখে গ্রামের অন্য বেকার যুবকরাও মাল্টার বাগান তৈরি করছে।

সাখাওয়াতের প্রতিবেশী আকতার হোসেন বাংলাদেশ জার্নালকে জানান প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে সাখাওয়াতের মাল্টার বাগান দেখতে আছে বিভিন্ন ফল ব্যবসায়ীরা। এদের ভেতর বেশির ভাগই সাখাওয়াতের কাছে থেকে মাল্টার চারা কিনে নিয়ে যান। অনেকে আবার মাল্টা বাগান তৈরির পরামর্শও নিতে আসেন। সবকিছু মিলে ছোট্ট গ্রামের সাখাওয়াত এখন বাংলাদেশের মাল্টা বাগানের ‘আইডল’।

চুয়াডাঙ্গা দামুড়হুদা উপজেলা কৃষি অফিসার মনিরুজ্জামান জানান, দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে সাখাওয়াতের মাল্টার বাগান দেখতে এসেছেন বাগান চাষীরা। কৃষি বিভাগ থেকে মাল্টা চাষি সাখাওয়াতকে সব রকম সহযোগীতা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ জার্নাল/এইচকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত