ঢাকা, বুধবার, ২৭ জানুয়ারি ২০২১, ১৩ মাঘ ১৪২৭ আপডেট : ৪ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ০১ ডিসেম্বর ২০২০, ১২:৪২

প্রিন্ট

বেঁচে থাকতে ৮ সহস্রাধিক শিক্ষকের আকুতি!

বেঁচে থাকতে ৮ সহস্রাধিক শিক্ষকের আকুতি!
কচিকাচা কিন্ডার গার্টেন, ছবি-প্রতিনিধি

রায়পুর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি

মহামারি করোনার কারণে বন্ধ রয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। কবে খুলবে জানা নেই কারো। এমন অবস্থায় কর্মহীন হয়ে পড়েছে কিন্ডার গার্টেনের শিক্ষকসহ কর্মচারীরা। কারণ শিক্ষার্থী নেই তাই বেতনও নেই শিক্ষকদের।

বেতন-ভাতা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার কিন্ডার গার্টেনের শিক্ষক-কর্মচারীরা পরিবার-স্বজন নিয়ে বেকায়দায় পড়েছেন। দীর্ঘ ৮ মাস ধরে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন তারা। এসব শিক্ষকদের সহায়তায় কেউ এগিয়ে না আসায় পরিবারসমেত দুর্ভোগে দিন পার হচ্ছে তাদের। বেঁচে থাকতে সরকারের সহযোগীতা চান তারা।

জানা গেছে, রায়পুর উপজেলার পৌরসভা ও ১০টি ইউনিয়নে কিন্ডার গার্টেন রয়েছে ৬৫টি। এসব প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৮ সহস্রাধিক শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োজিত আছেন। প্রায় ১০ থেকে ১২ হাজার কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাঠদান করে আসছিলেন এসব শিক্ষকরা।

এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালিত হয় শিক্ষার্থীদের বেতনের টাকায়। এমনকি ওই টাকায় বেতন-ভাতা হিসেবে পেয়ে থাকেন এসব শিক্ষক-কর্মচারীরা। শিক্ষার্থীদের দেয়া বেতনের টাকা ও প্রাইভেট টিউশনি করিয়ে যা পান তা দিয়েই কোনোমতে চলতো তাদের পরিবার। কিন্তু প্রাণঘাতী করোনার কারণে সব দিকের আয় বন্ধ হয়ে গেছে তাদের।

এসব শিক্ষকদের মধ্যে কয়েকজনের নাম সরকারি সাহায্যের খাতায় উঠলেও লাজ-লজ্জার কারণে লাইনে দাঁড়িয়ে ত্রাণ নিতেও পারছেন না তারা। যদিও সরকার ননএমপিওভুক্ত কিছু শিক্ষককে সহযোগীতা করেছে। কিন্তু তা দিয়ে কি আর মাসের পর মাস চলা যায়।

কয়েকজন কিন্ডার গার্টেন শিক্ষক বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, ‘আমরা সরকারি-বেসরকারি কোনোটারই সাহায্য-সহযোগীতা পাই না। করোনার মধ্যে পরিবার নিয়ে অনেক কষ্টে আছি।’

কচিকাচা কিন্ডার গার্টেনের অধ্যক্ষ কামরুনাহার ও হলিচাইল্ড শিশু নিকেতনের অধ্যক্ষ ফিরোজ বলেন, ‘বিলাসিতার চিন্তাতো দূরের কথা, পেটের ভাত জোগাড় করতেই হিমশিম খাচ্ছি। সাধ আছে সাধ্য নেই অবস্থা। সরকারিভাবে সাহায্য না পেলে কিন্ডার গার্টেনের সকল শিক্ষকের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠবে।’

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ জার্নালের প্রতিনিধির সঙ্গে কথা হয় উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা একেএম মুস্তাক আহম্মেদ ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাবরিনা চৌধুরীর সঙ্গে। তারা বলেন, ‘মানুষ গড়ার কারিগর শিক্ষকরাই আজ খুব কষ্টের মধ্য রয়েছে।’

বাংলাদেশ জার্নাল/ওয়াইএ

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত