ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২০, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ আপডেট : ১৩ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ০৭ মে ২০২০, ১৯:২৮

প্রিন্ট

অতিরিক্ত বেতন নয়, যাতায়াত ব্যয় পাবেন ব্যাংকাররা

অতিরিক্ত বেতন নয়, যাতায়াত ব্যয় পাবেন ব্যাংকাররা

Evaly

জার্নাল ডেস্ক

দেশে করোনাভাইরাসের কারণে বন্ধ রয়েছে অনেক কিছুই। তবে কিছু কিছু মন্ত্রণালয়সহ ব্যাংক সীমিত আকারে খুলে দিয়েছে সরকার।

এদিকে জানা গিয়েছে, সাধারণ ছুটি চলাকালীন কোনও ব্যাংক কর্মী ১০ দিনের বেশি ব্যাংকে উপস্থিত থাকলেও প্রণোদনা ভাতা হিসেবে অতিরিক্ত বেতন পাবেন না। পাবেন শুধু এক মাসের বেতন।

তবে ব্যাংক কর্মকর্তাদের জন্য একটি সুখবরও রয়েছে। যেমন, প্রয়োজনে ১০ দিনের বেশি উপস্থিত থাকলে নিজস্ব নীতিমালা অনুযায়ী অতিরিক্ত যাতায়াত ব্যয় পরিশোধ করবে ব্যাংক।

গত মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

এতে বলা হয়, ছুটিকালীন ব্যাংকের কর্মকর্তা কর্মচারীগণ ১০ দিন সশরীরে ব্যাংকে কর্মরত থাকলে তা পূর্ণ মাস হিসেবে গণ্য হবে। কেউ ১০ কার্যদিবসের কম উপস্থিত থাকলে আনুপাতিক হারে ভাতা প্রাপ্য হবেন।

তবে ১০ দিনের বেশি উপস্থিত থাকলেও অতিরিক্ত ভাতা পাওয়ার কোনও সুযোগ নেই। অতিরিক্ত দিনগুলোতে ব্যাংকের নিজস্ব নীতিমালা অনুযায়ী যাতায়াত ব্যয় পরিশোধ করবে ব্যাংকগুলো।

ব্যাংকের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, প্রণোদনা ঘোষণার পর সব ব্যাংকের শাখাগুলোয় কর্মকর্তাদের ব্যাপকহারে উপস্থিতি বেড়ে গেছে। বিশেষ করে উঁচু পর্যায়ের যেমন- ডিজিএম, এজিএম পর্যায়ের প্রায় সবাই অফিস করা শুরু করেছেন।

জানা গেছে, শাখা পর্যায়ে হাতে লেখা হাজিরা খাতায় অনেকে একদিন এসেই বাকি দিনের স্বাক্ষর করে রেখেছেন। এখন ব্যাংকে উপস্থিতি দেখিয়ে প্রণোদনার অর্থ চেয়ে প্রধান কার্যালয়ে পাঠাচ্ছে শাখাগুলো।

বিষয়টি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নজরে আসার পর তা স্পষ্ট করতে এ প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

এর আগে ১৩ এপ্রিল প্রণোদনা ভাতার বিষয়ে প্রজ্ঞাপনে বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছিল, সাধারণ ছুটির সময় যেসব ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মচারী সশরীরে অফিস করছেন তাদের জন্য বিশেষ প্রণোদনা হিসেবে ১০ দিন অফিসে গেলেই তাদের বাড়তি এক মাসের বেতন দেয়া হবে।

এতে আরো বলা হয়েছিল, সাধারণ ছুটি শুরু হওয়ার তারিখ হতে মাস গণনা শুরু হবে। প্রতি ৩০ দিন অতিক্রান্ত হওয়ার পর পুণরায় নতুন মাস গণনা শুরু হবে। এ নির্দেশনা সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটির মেয়াদকাল পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।

এদিকে করোনাভাইরাসে দেশে ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এ নিয়ে দেশে করোনা মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ১৯৯ জন। বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে প্রতিষ্ঠানটি আরো জানায়, যারা মারা গেছেন, তাদের ম‌ধ্যে আটজন পুরুষ ও পাঁচজন নারী। এদের মধ্যে ষাটোর্ধ্ব ছয়জন, পঞ্চাশোর্ধ্ব চারজন, চল্লিশোর্ধ্ব দুজন এবং ১১ থেকে ২০ বছর একজন। ১১ থেকে ২০ বছর বয়সী তরুণ ক্যান্সার আক্রান্ত ছিলেন।

এর আগে দুপুর আড়াইটার নিয়মিত অনলাইন স্বাস্থ্য বুলেটিনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা জানান, করোনাভাইরাস শনাক্তে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৫ হাজার ৮৬৭টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এ নিয়ে দেশে মোট নমুনা পরীক্ষা করা হলো এক লাখ পাঁচ হাজার ৫১৩টি। নতুন নমুনা পরীক্ষায় আরও ৭০৬ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে দেশে মোট আক্রান্ত হয়েছেন ১২ হাজার ৪২৫ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন আরও ১৩০ জন। সব মিলিয়ে সুস্থ হয়েছেন এক হাজার ৯১০ জন।

এছাড়া শেষ ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে এসেছেন ১০৪ জন। মোট আইসোলেশনে আছেন এক হাজার ৭৭১ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে এসেছেন দুই হাজার ৩৩১ জন। এ পর্যন্ত কোয়ারেন্টিনে এসেছেন দুই লাখ চার হাজার ৩১ জন।

বাংলাদেশ জার্নাল/ওয়াইএ

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত