ঢাকা, শুক্রবার, ২৩ আগস্ট ২০১৯, ৮ ভাদ্র ১৪২৬ আপডেট : ৬ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ০৫ এপ্রিল ২০১৯, ১৬:৩৪

প্রিন্ট

রোজার আগেই দাম বেড়েছে মাছ-মাংস সবজির

রোজার আগেই দাম বেড়েছে মাছ-মাংস সবজির
নিজস্ব প্রতিবেদক

গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই মাছ ও মাংসের দাম মানুষকে অস্বস্তি দিচ্ছে। এছাড়া চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে সব ধরনের সবজি। গত এক সপ্তাহের বাজার বিবেচনায় রাজধানীর সব বাজারেই বাড়িয়ে নেয়া হচ্ছে সকল ধরনের সবজির দাম।

আজ শুক্রবার রাজধানীর নয়াবাজার, সূত্রাপুর, দয়াগঞ্জ, শ্যামবাজার, সেগুনবাগিচাসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য পাওয়া যায়।

সবজি, মাছ, মাংসের ব্যাপক চড়া দামে প্রায় দুই মাস ধরে এক প্রকার অস্বস্তি ভোগ করছেন রাজধানীবাসী। তার উপরে রমজান সামনে রেখে সবজির দাম নতুন করে বেড়েছে।

একদিকে শীতের সবজি শেষ হয়ে আসা, অন্যদিকে রোজা কাছাকাছি আশায় সবজি দাম চড়া বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তবে ক্রেতাদের অভিযোগ সিন্ডিকেট করে সবজির দাম বাড়ানো হয়েছে। রোজার সময় যাতে নতুন করে দাম বাড়ানোর অভিযোগে না পড়তে হয়, তাই রোজা শুরুর একমাস আগেই সব পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। বাজারে কার্যকরী মনিটরিং না থাকায় মুনাফালোভী ব্যবসায়ীরা এই অপচেষ্টা চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ আনছেন রাজধানীর ক্রেতারা।

বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বয়লার মুরগির কেজি আগের সপ্তাহের মতো বিক্রি হচ্ছে ১৬৫ টাকা থেকে ১৭৫ টাকা। তবে লাল লেয়ার মুরগির কিছুটা কমে ২১০ থেকে ২২০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে; যা গত সপ্তাহে ছিল ২৩০ থেকে ২৫০ টাকা। আর পাকিস্তানি কক মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২৭০ থেকে ২৮০ টাকা কেজিতে, যা গত সপ্তাহে ছিল ২৯০ থেকে ৩১০ টাকা কেজি।

এদিকে অতীতের সকল রেকর্ড ভেঙে গত সপ্তাহে গরুর মাংসের কেজি পৌঁছে যায় সাড়ে ৫০০ টাকায়। এ সপ্তাহে গরুর মাংসের দাম নতুন করে বাড়েনি। আগের মতো বাজার ভেদে গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৫৩০ থেকে ৫৬০ টাকা কেজিতে।

মাংসের দামের পাশাপাশি স্বস্তি দিচ্ছে না ডিমের দামও। সপ্তাহের ব্যবধানে ডিমের দাম নতুন করে না বাড়লেও খুচরা পর্যায়ে একপিস ডিম ১০ টাকার নিচে মিলছে না। আর পাইকারিতে ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১০৫ থেকে ১১০ টাকা।

অস্বাভাবিক দামে বিক্রি হচ্ছে ইলিশ মাছ। ছোট আকারের প্রতি কেজি ইলিশ এক হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। এক কেজি ওজনের এক হালি (৪টি) ইলিশ পাঁচ হাজার থেকে ছয় হাজার টাকা, ৮০০ গ্রামের প্রতি হালি ইলিশ চার হাজার থেকে পাঁচ হাজার টাকা, ৫০০ গ্রাম ওজনের প্রতি হালি ইলিশ দুই হাজার ৫০০ থেকে তিন হাজার টাকা।

অন্যান্য মাছের মধ্যে তেলাপিয়া মাছ বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা কেজি। পাঙাশ মাছ বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৮০ টাকা কেজি। রুই মাছ ৩৫০ থেকে ৬০০ টাকা, পাবদা ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা, টেংরা ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, শিং ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা এবং চিতল মাছ বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজিতে।

এদিকে তিন সপ্তাহ ধরে চড়া দামে বিক্রি হওয়া সবজির দাম এখনও চড়াই রয়েছে। বরবটি গত সপ্তাহের মতো ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। পটল বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৬০ থেকে ৮০ টাকায়। একই দামে বিক্রি হচ্ছে ঢেড়স, কচুর লতি ও করলা। শিম বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৬০ টাকা কেজিতে। লাউ বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা, ফুলকপি ৫০ থেকে ৬০ টাকা পিস। আর ধুন্দুল বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি। বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৬০ টাকা, মূলা ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি।

বাজারে নতুন আসা সজনে ডাঁটা বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি। গত সপ্তাহেও সবজির দাম এমন ছিল। দাম অপরিবর্তিত থাকা অন্য সবজিগুলোর মধ্যে কাঁচা পেঁপে বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৫০ টাকা কেজি। পাকা টমেটো বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৫০ টাকা, শসার কেজি ৫০ থেকে ৭০ টাকা, গাজর বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে।

তবে দাম অপরিবর্তিত রয়েছে পেঁয়াজ এবং কাঁচামরিচ। বাজার ভেদে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ২৫ থেকে ৩০ টাকা কেজিতে। আমদানি করা ভারতীয় পেঁয়াজ আগের মতোই ২০ থেকে ২৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। কাঁচামরিচের পোয়া (২৫০ গ্রাম) বিক্রি হচ্ছে ১০ থেকে ২০ টাকা।

বাংলাদেশ জার্নাল/এনএইচ

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত
close
close