ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০১৯, ১ শ্রাবণ ১৪২৬ অাপডেট : ৬ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১৬ মে ২০১৯, ১৯:১৬

প্রিন্ট

ঈদের আগেই পাটকল শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধের তাগিদ

ঈদের আগেই বকেয়া পরিশোধের তাগিদ
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঈদের আগেই পাটকল শ্রমিকদের বকেয়া মজুরীসহ সব পাওনা পরিশোধের তাগিদ দিয়েছে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। কমিটির এই সুপারিশের প্রেক্ষিতে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ বিষয়ে ইতোমধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। পাওনা পরিশোধের জন্য দ্রুতই সরকার অর্থ বরাদ্দ দিবে বলে মন্ত্রণালয় আশা করছে।

জাতীয় সংসদ ভবনে বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সংসদীয় কমিটির সভাপতি মির্জা আজমের সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী, মো. ইসরাফিল আলম, রনজিত কুমার রায়, নজরুল ইসলাম চৌধুরী, খাদিজাতুল আনোয়ার ও তামান্না নুসরাত (বুবলী) এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কমিটি সূত্র জানায়, বৈঠকে বাংলাদেশ পাট কল কর্পোরেশনে (বিজেএমসি) বিদ্যমান শ্রমিক অসন্তোষের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। এসময় শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি পরিশোধ ছাড়াও পাটকলগুলোতে যেসব অস্থায়ী শ্রমিক আছে তাদের বিভিন্ন সময় ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহার করার বিষয়টি উঠে আসে। অনেক সময় তারা তাদের মজুরিও ঠিক মতো পায় না। এ বিষয়গুলো সমাধানের জন্য কমিটিতে আলোচনা হয়েছে। তবে শ্রমিকদের মূল দাবি, বকেয়া মজুরি পরিশোধ বিষয়ে মন্ত্রণালয় থেকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় অর্থ ছাড়ের মাধ্যমে সমস্যা নিরসনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।

বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি মির্জা আজম সাংবাদিকদের বলেন, আমরা শ্রমিকদের পাওনা দ্রুত পরিশোধ করতে বলেছি। একইসঙ্গে কোনো ভুয়া শ্রমিক যাতে বেতন না পায় সেজন্য ব্যাংকের মাধ্যমে পরিশোধের জন্য বলা হয়েছে। ঈদের আগেই তারা মজুরী পাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। এবিষয়ে কমিটির সদস্য ইসরাফিল আলম সাংবাদিকদের বলেন, আমরা বলেছি, ঈদের আগেই শ্রমিকদের ন্যায্য পরিশোধ করতে হবে। আর শ্রমিকরা যাতে সরাসরি তাদের টাকা পায়, সেজন্য ব্যাংক হিসাবে তাদের বকেয়া পরিশোধ করতে বলা হয়েছে। এজন্য প্রয়োজনীয় অর্থ সরকার দিবে বলেও তিনি জানান।

উল্লেখ্য, বিজেএমসি’র অধীনে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনা অঞ্চলের ২৭টি রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলে প্রায় ৮০ হাজার শ্রমিক রয়েছে। বকেয়া মজুরীসহ ৯ দফা দাবিতে লাগাতার ধর্মঘট করছেন শ্রমিকরা। গত ৬ মে থেকে দ্বিতীয় দফায় দেশব্যাপী একযোগে ধর্মঘটের ফলে মিলগুলোর উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। সমস্যা সমাধানে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় কাজ শুরু করেছে।

এদিকে কমিটি বৈঠকে জানানো হয়েছে, পাটপণ্য বহুমুখীকরণ প্রক্রিয়া ও কার্যক্রমকে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য জেডিপিসি কর্তৃক ঢাকা, নরসিংদী, চট্টগ্রাম, রংপুর, যশোর, টাঙ্গাইল ও জামালপুরে সাতটি বহুমুখী পাট শিল্প উদ্যোক্তা সেবা কেন্দ্র (জেইএসসি) স্থাপন করা হয়েছে। এ পর্যন্ত জেডিপিসির উদ্যোক্তারা প্রায় ২৮০ ধরণের পাটজাত পণ্য উৎপাদন এবং তা স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রি করেছে। এবিষয়ে আলোচনাকালে বহুমুখী পাটপণ্যের বাজার সম্প্রসারণে কাঁচামালের উচ্চমূল্য হ্রাস ও সহজপ্রাপ্তির জন্য কম্পোজিট (স্পেশালাইজড) জুট মিল স্থাপন, বিশ্ববাজারের চাহিদা অনুযায়ী ডিজাইন উন্নয়নে ডিজাইন সাপোর্ট সেন্টার স্থাপন, দেশে ও বিদেশে প্রদর্শনী এবং বিক্রয় কেন্দ্র স্থাপনসহ নানাবিধ কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের উপর গুরুত্বারোপ করা হয়। এছাড়া পাটজাত পণ্যের বাজার সম্প্রসারণে স্থায়ী কমিটির সদস্যদের নিজ নিজ এলাকায় পাটপণ্য মেলা আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়ার সুপারিশ করা হয়।

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • অালোচিত
close
close