ঢাকা, শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২০, ৩০ শ্রাবণ ১৪২৭ আপডেট : ৪ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ০৯ জুলাই ২০২০, ০৪:১৯

প্রিন্ট

সাড়া ফেলেছে হাবিপ্রবি শিক্ষকের উদ্ভাবিত গ্রেইন ড্রায়ার

সাড়া ফেলেছে হাবিপ্রবি শিক্ষকের উদ্ভাবিত গ্রেইন ড্রায়ার
দিনাজপুর প্রতিনিধি

আলোড়ন সৃষ্টি করেছে দিনাজপুর হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (হাবিপ্রবি) শিক্ষকের উদ্ভাবিত শস্য শুকানোর প্রযুক্তি টু স্টেজ গ্রেইন ড্রায়ার।

উদ্ভাবিতে এই প্রযুক্তির মাধ্যমে যেকোন প্রতিকূল পরিবেশ এবং বৈরী আবহাওয়াতে খুব দ্রুত সময়ে সীমিত খরচে ধান, গম, ভুট্টা শুকানো যাচ্ছে। এছাড়া আর্দ্রতা ১২-১৪ শতাংশে নিয়ে আসার সুবিধা থাকায় দিন দিন ভুট্টাচাষী ও ব্যবসায়ীদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেছে হাবিপ্রবি শিক্ষকের উদ্ভাবিত প্রযুক্তিটি।

২০১৮ সালে কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন কৃষি গবেষণা ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে ড্রায়ারটি উদ্ভাবনের গবেষণা কাজ শুরু করেন হাবিপ্রবির ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টেকনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান ও অধ্যাপক ড. মো: সাজ্জাত হোসেন সরকারের নেতৃত্বে একদল গবেষক। ড্রায়ারটি তৈরির কাজ সম্পন্ন হলে এর কার্যকারিতা এবং গুণাবলী দেখতে পরিদর্শনে যান হাবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মু. আবুল কাসেম, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. বিধান চন্দ্র হালদার, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. মো.ফজলুল হক (মুক্তিযোদ্ধা), আইআরটি পরিচালক অধ্যাপক ড.মো: তারিকুল ইসলাম, ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড. মারুফ আহমেদসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকবৃন্দ।

পরিদর্শন শেষে উপাচার্য অধ্যাপক ড.মু.আবুল কাসেম বলেন, এটি একটি নিড বেসড টেকনোলজি। প্রতিনিয়ত আবহাওয়ার পরিবর্তন হচ্ছে এবং প্রতিবছরই বৈরী আবহাওয়ার কারণে আমাদের অনেক ফসল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সেই সব বিবেচনা করে সাজ্জাত সাহেব শস্য শুকানোর জন্য যে ড্রায়ারটি উদ্ভাবন করেছেন তা বাংলাদেশের কৃষিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে বলে আমার বিশ্বাস।

গত বছর প্রকল্পটির অর্থায়নকারী কৃষি গবেষণা ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ড. ওয়েস কবীর ও বাকৃবির সাবেক অধ্যাপক ড.বি.কে বালা উপস্থিত থেকে মেশিনটি শুভ উদ্বোধন করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন রংপুর বিভাগীয় কৃষি কর্মকর্তা এবং দিনাজপুর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তাসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। উদ্বোধন হলেও ঐ বছর বানিজ্যিক কার্যক্রমে যায়নি ড্রায়ারটি।

২০২০ সালে শস্য সংগ্রহের শুরু থেকেই বানিজ্যিক কার্যক্রমের জন্য প্রস্তত করা হয় ড্রায়ারটিকে। বাণিজ্যিকভাবে কাজ শুরুর পর থেকেই ব্যাপক সাড়া ফেলতে শুরু করে। চাতালে শুকানোর খরচেই মাত্র কয়েক ঘন্টায় ভুট্টা শুকাতে পারছেন ব্যবসায়ীয়া। একই খরচে আর্দ্রতা ১২-১৪ শতাংশে নিয়ে আসার সুবিধা এবং বৈরী আবহাওয়াতেও শুকানোর সুবিধা থাকায় প্রতিদিন দূর-দুরান্ত থেকে ভুট্টা –ধান শুকানোর জন্য আসছেন ভুট্টা চাষী ও ব্যবসায়ীরা। হঠাৎ করে এতো বেশি চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন কর্তৃপক্ষ। চাহিদার তুলনায় ড্রায়ারের ধারণক্ষমতা কম হওয়ায় শত শত বস্তা শুকানোর জন্য সারিবদ্ধভাবে জমা হয়ে পড়ে আছে ড্রায়ারের পাশে। এমন চিত্র দেখা মিলছে এলমিস চৌধুরীর রাইস মিলের একটি অংশে।

গ্রেইন ড্রায়ারটি উদ্ভাবনের নেতৃত্বে থাকা গবেষক দলের প্রধান অধ্যাপক ড. মো: সাজ্জাত হোসেন সরকার বলেন, এই করোনা পরিস্থিতিতেও প্রতিদিন গড়ে ২৩০ বস্তা (১৪০০০ কেজি) ভুট্টা শুকানো হচ্ছ, এরপরেও কৃষকদের চাহিদা মিটানো যাচ্ছে না। আমাদের দেশে আগে এই ধরনের কোন প্রযুক্তি ছিলনা। আবহাওয়া এবং কৃষকদের কথা বিবেচনা করে আমরাই প্রথম গবেষণার মাধ্যমে এই ধরনের প্রযুক্তি উদ্ভাবন করি। বর্তমানে বাণিজ্যিকভাবে শস্য শুকানোর কার্যক্রম চলছে এবং ব্যাপক সাড়াও পাচ্ছি। আমাদের একটি মাত্র ড্রায়ার হওয়ায় জমাকৃত ভুট্টা শুকাতেই আরও বেশ কয়েকদিন লেগে যেতে পারে।

ড.সাজ্জাত সরকার বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কৃষিকে যান্ত্রীকিকরণ এবং বাণিজ্যকরণের যে উদ্যোগ নিয়েছেন সেটিকে ত্বরান্বিত করতে আমাদের উদ্ভাবিত এই প্রযুক্তিটি সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে আমাদের বিশ্বাস। বাংলাদেশ কৃষি প্রধান দেশ। এদেশের অধিকাংশ মানুষ বিভিন্নভাবেই কৃষির সাথে জড়িত। বৈরী আবহাওয়ার কারণে প্রতিবছর ফসল শুকাতে না পেরে অনেক ভুট্টা চাষী এবং ব্যবসায়ীরা অর্থনৈতিকভাবে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হন। আর আমাদের উদ্ভাবিত ড্রায়ারটির মাধ্যমে যেকোন আবহাওয়াতেই দানা জাতীয় সব ধরনের শস্য শুকানো যায়। ফলে আর্থিকভাবে আগে যে ক্ষতি হতো সেটি আর হবে না।

পরিদর্শনে গিয়ে হাবিপ্রবির রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা.মো.ফজলুল হক বলেন, আমাদের গবেষণার মূল উদ্দেশ্য মানুষের কাছে প্রযুক্তির সেবা পৌঁছে দেয়া। ড.সাজ্জাত সাহেব যে কাজটি করেছেন তা সত্যিকার অর্থেই গর্ব করার বিষয়। এটা শুধু তার একার গর্বের বিষয় নয় এটা পুরো হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় তথা দেশের গর্ব। প্রতিটি জেলা উপজেলায় যদি সরকারীভাবে এই ধরনের ড্রায়ার স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া যায় তাহলে আরও অনেক বেশি মানুষ উপকৃত হতে পারবে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়নে কো ইনভেস্টিগেটর হিসেবে কাজ করেছেন অধ্যাপক ড. মো: মফিজ-উল ইসলাম, সহকারী অধ্যাপক মো: আব্দুল মোমিন সেখ এবং রিসার্চ ফেলো হিসাবে ছিলেন মো: এজাদুল ইসলাম,মো: আখতারুজ্জামান ও মো: হাসান তারেক মন্ডল।

বাংলাদেশ জার্নাল/আর

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত