ঢাকা, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৫ আশ্বিন ১৪২৭ আপডেট : ১০ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ০৯ আগস্ট ২০২০, ১৪:২৮

প্রিন্ট

যেসব কারণে একাদশের ভর্তি অনলাইনে

যেসব কারণে একাদশের ভর্তি অনলাইনে
ছবি: সৈয়দ মেহেদী হাসান
নিজস্ব প্রতিবেদক

মহামারী করোনার এই সময়ে বাড়তি খরচ কমানো, অনিয়ম রোধ ও সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে অনলাইনে ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের ভর্তির কার্যক্রম পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

করোনাকালীন সময়ে শিক্ষার্থীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করেই এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন, আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক অধ্যাপক হারুন-অর-রশিদ। তিনি বলেন, মূলত তিন কারণে আমরা এসএমএস এর পরিবর্তে অনলাইন ভর্তি কার্যক্রমের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

তিনটি কারণের ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন-

১. অনলাইন কার্যক্রমের প্রচুর টাকা বেঁচে যায়। এসএমএস আবেদনের ক্ষেত্রে একজন শিক্ষার্থীকে ১২০ টাকা করে পাঁচটি কলেজের জন্য কমপক্ষে ৬০০ টাকা এবং ১০টি কলেজে আবেদন করতে গেলে তাকে ১২০০ টাকা ফি দিতে হয়। অথচ একজন শিক্ষার্থী অনলাইনে আবেদন করতে গেলে মাত্র ১৫০ টাকার মধ্যে সব কয়টি কলেজে আবেদন করতে পারছে। এতে করে শিক্ষার্থীদের একটা মোটা অঙ্কের টাকা বেঁচে যাচ্ছে।

২. এসএমএসে আবেদন করতে প্রক্রিয়ায় অনিয়মের আশঙ্কা থাকে। বিভিন্ন কলেজগুলো তাদের শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন নম্বর রেখে দেয় এবং অটো ভর্তি করে রাখে। এতে করে ওই শিক্ষার্থীরা অন্য কলেজের জন্য এসএমএস আবেদন করতে গেলে সেটা সাবমিট হয় না। এতে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি বাড়ে। তাই শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমাতে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

৩. এসএমএসে আবেদন করতে গেলে অনেক জটিলতা বাড়ে। অনেকে ফিরতি এসএমএস পায় না। যার কারণে প্রতিদিন প্রায় ৫ সহস্রাধিক শিক্ষার্থী বোর্ডে এসে ভিড় জমায়। যেটি শিক্ষার্থী এবং বোর্ড কর্তৃপক্ষ সবার জন্যই বেশ ভোগান্তির। তাই করোনাকালীন পরিস্থিতি বিবেচনা করে নতুন এ সিদ্ধান্ত।

প্রসঙ্গত, মহামারী করোনার কারণে বিলম্বিত একাদশ শ্রেণিতে অনলাইন ভর্তি কার্যক্রম আজ থেকে শুরু হয়েছে। রোববার সকাল সাতটায় ভর্তির কার্যক্রম শুরু হয়। চলবে ২০ আগস্ট পর্যন্ত। তবে ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসে অনলাইন সার্ভিস ও কল সেন্টার বন্ধ থাকবে। সব প্রক্রিয়া শেষে আগামী ১৩ থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে বলে জানিয়েছে আন্তঃশিক্ষা সমন্বয়ক বোর্ড।

বোর্ড থেকে জানানো হয়, ভর্তি আবেদন ফি পরিশোধ করার সময় এবং প্রথমবার আবেদনের সময় শিক্ষার্থীকে একটি মোবাইল নম্বর (নিজের/অভিভাবকের) দিতে হবে, যেটি শিক্ষার্থীর যোগাযোগ নম্বর হিসেবে বিবেচিত হবে। যোগাযোগ নম্বরটি শিক্ষার্থীর জন্য অতীব গুরুত্বপূর্ণ, কেননা পরবর্তী সময়ে শিক্ষার্থীর সকল যোগাযোগ ও আবেদনের জন্য এটির প্রয়োজন হবে। আবেদন করার সময় কলেজের পছন্দক্রম বিশেষ বিবেচনাপূর্বক সাবধানে পূরণ করতে বলা হয়েছে।

বোর্ড থেকে আরও বলা হয়েছে, এসএসসি/সমমান পরীক্ষায় প্রাপ্ত জিপিএ-র ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের মেধাক্রম নির্ধারণ করা হবে। সমান জিপিএপ্রাপ্তদের ক্ষেত্রে ধারাবাহিক মূল্যায়ন (Continuous Assessment) ব্যতীত মোট প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে মেধাক্রম নির্ধারণ করা হবে। একাদশে ভর্তি নীতিমালায় বলা হয়েছে, ২০১৮, ২০১৯ ও ২০২০ সালে মাধ্যমিক উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হতে পারবেন। আর উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় উত্তীর্ণদের ভর্তির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়স হবে ২২ বছর।

এবার ৯৫ শতাংশ আসন সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে, যা মেধার ভিত্তিতে ভর্তি করা হবে। মেধার ভর্তির পর পাঁচ শতাংশ আসন মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। তবে কোটায় উপযুক্ত প্রার্থী পাওয়া না গেলে তা কার্যকর থাকবে না।

বাংলাদেশ জার্নাল/এইচকে/ওয়াইএ

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত