ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০৪ মার্চ ২০২১, ১৯ ফাল্গুন ১৪২৭ আপডেট : ৫ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১৮ জানুয়ারি ২০২১, ১১:৫৬

প্রিন্ট

ঢাবি বন্ধ তবুও আদায় হচ্ছে পরিবহন ফি

ঢাবি বন্ধ তবুও আদায় হচ্ছে পরিবহন ফি
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ছবি সংগৃহীত

(ঢাবি প্রতিনিধি) মো. মনিরুজ্জামান

পরিবহন সেবা বন্ধ থাকলেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের থেকে নেয়া হচ্ছে পরিবহন ফি। গতবছরের অক্টোবরে উন্নয়ন ফি ৫০ শতাংশ কমানো হলেও, তা নিশ্চিত না করেই ভর্তি কার্যক্রম শুরু করেছে অনেক বিভাগ।

তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বলছেন, পরিবহন ফি ‘প্রতীকী’ অর্থে নেয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট খাতে উন্নয়নে সেটা ব্যয় হবে।

মহামারি করোনার কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস ও পরীক্ষার মত বন্ধ হয়ে যায় আবাসিক হল, পরিবহন, লাইব্রেরিসহ খেলাধুলা কার্যক্রম। তবে, এসব বিষয়ে শিক্ষার্থীদের থেকে নির্ধারিত ফি গ্রহণ থেমে থাকেনি। গতবছরের অক্টোবরে সিন্ডিকেট সভায় উন্নয়ন ফি ৫০ শতাংশ কমানো হলেও তা বাস্তবায়ন না করেই ভর্তি করানো হচ্ছে।

জানা যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থীকে প্রত্যেক বর্ষে ভর্তির সময় পরিবহন ফি ১০৮০ টাকা, বেতন ফি ৩০০ টাকা, হল উন্নয়ন ফি ৬০ টাকা, বিশ্ববিদ্যালয় উন্নয়ন ফি ৬০ টাকা, হল খেলাধুলা ফি ৫০ টাকা, বিশ্ববিদ্যালয় খেলাধুলা ফি ৫০ টাকা, আবাসিক পরিদর্শক ফি ১০ টাকা, কোর্স ভর্তি ফি ১৭০০ টাকা, রশিদ বহি ফি ৫ টাকা, হেল্থ কার্ড ফি ৫০ টাকা, গ্রন্থাগার উন্নয়ন ফি ১২৫ টাকা, সেশন ফি ২০০ টাকা প্রদান করতে হয়। কিছু কিছু বিভাগে আরো অনেক অতিরিক্ত ফি দিতে হয়। তবে, অনুষদভেদে নির্ধারিত চাঁদার পরিমাণ কিছু ক্ষেত্রে কমবেশি হয়ে থাকে।

গত সেপ্টেম্বর থেকে পরিবহন ব্যবস্থা বন্ধ থাকলেও নেয়া হচ্ছে পরিবহন ফি। পরিবহন অফিসের তথ্যমতে, গত মার্চ থেকে বন্ধ রয়েছে শিক্ষার্থীদের সকল পরিবহন। শুধুমাত্র শিক্ষক-কর্মকর্তাদের জন্য চলছে সীমিত পরিসরে কিছু যানবাহন।

বাস চলাচল বন্ধ থাকলেও কেন ফি নেয়া হচ্ছে এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে শিক্ষার্থীদের মাঝে। তারা বলছেন, এসব বিষয়ে সেবা দেয়া না হলেও নেয়া নেয়া হচ্ছে পূর্ণাঙ্গ ফি। তবে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছেন, এটা প্রতীকী অর্থে নেয়া হচ্ছে, পরিবহন খাতের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে তা ব্যয় করা হবে।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধিকাংশ শিক্ষার্থী মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র পরিবারে বাস করে। মহামারির কারণে অনেকের জীবিকার উৎসটুকুও বন্ধ হয়ে গেছে। অন্যদিকে দীর্ঘদিন ধরে অনলাইনে ক্লাস করার কারণে শিক্ষার্থীদের আর্থিক অবস্থা একেবারে নাজুক হয়ে পড়েছে। এমতাবস্থায় এসব ফি যেন ‘মরার উপর খাঁড়ার ঘা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ জার্নালের প্রতিনিধির সঙ্গে কথা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশকিছু শিক্ষার্থীর সঙ্গে। ইসলামের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী হিমেল বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ফি কমানোর কথা বলেছিল কিন্তু তা বাস্তবায়ন হয়নি। আমাদেরকে পূর্বের ন্যায় টাকা-পয়সা জমা দিতে হচ্ছে। এছাড়া পরিবহন সেবা বন্ধ থাকলেও এই খাতেই দিতে হচ্ছে সবচেয়ে বেশি টাকা।’

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষার্থী তানজির আহমেদ বলেন, ‘করোনার সময়ে শিক্ষার্থীরা এমনিতেই আর্থিক অনটনে পড়েছে, একই সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকা সত্ত্বেও পরিবহন ফি নেয়া হচ্ছে ১০৮০ টাকা; যা সত্যিই অমানবিক এবং শিক্ষার্থীদের জন্য বহন করা কষ্টসাধ্য। বিশেষ করে যারা মধ্যবিত্ত, আমাদের মধ্যে অনেকেই আছে যারা টিউশনি করে নিজে এবং ফ্যামিলির ব্যয় বহন করতো। এখন টিউশনিও নেই তারা কীভাবে এত ব্যয় বহন করবে?’

ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী রিফাত হোসেন বলেন, ‘গত বছরের অক্টোবরে উন্নয়ন ফি ৫০ শতাংশ কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিলেও ভর্তি হওয়ার সময় আমরা তা দেখছি না। এছাড়া মার্চে ক্যাম্পাস বন্ধ হওয়ার পর থেকে শিক্ষার্থীরা আর পরিবহন ব্যবহার করেনি, তবুও আমাদের থেকে নেয়া হচ্ছে পরিবহন ফি। যেখানে বিশ্ববিদ্যালয় একটি শিক্ষার্থী বান্ধব প্রতিষ্ঠান হওয়ার কথা সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে যাচ্ছে।’

গত ৫ জানুয়ারি বেতন-ফি মওকুফসহ তিন দফা দাবিতে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে সংহতি সমাবেশ করেছে প্রগতিশীল ছাত্র জোট। একই দাবিতে ৭ জানুয়ারি উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচিও পালন করেন তারা। পরে প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা না নিলে ১২ জানুয়ারি প্রশাসনের শীর্ষ ব্যক্তিদের কুশপুত্তলিকা দাহ করেন নেতাকর্মীরা। এছাড়া বেতন-ফি মওকুফের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন ও বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ।

করোনাভাইরাসের কারণে গতবছরের মার্চে বন্ধ হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। মহামারিতে শিক্ষার্থীদের আর্থিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে উন্নয়ন ফি ৫০ শতাংশ করার আহ্বার জানান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ। পরে গত ২৯ অক্টোবর করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতিতে চলতি শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থীর উন্নয়ন ফি ৫০ শতাংশ কমানোর সিদ্ধান্ত নেয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেট। তবে তা কাগজে কলমে সীমাবদ্ধ থাকলেও বাস্তবে দেখা যায়নি।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তকে কেউ এড়িয়ে যেতে পারে না। দীর্ঘদিন ক্যাম্পাস বন্ধ থাকার কারণে বিষয়টি অনেক শিক্ষার্থীরা জানে না; তাই তারা পূর্বের ন্যায় ফি দিয়ে এসেছে। কয়েকটি বিভাগে পূর্ণাঙ্গ ফি নেয়া হয়েছিল, আমরা তাদের সঙ্গে কথা বলেছি, তারা শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত টাকা ফেরত দেবেন।’

পরিবহন ফি’র বিষয়ে সাদ্দাম হোসেন আরো বলেন, ‘যেহেতু পরিবহন সেবা বন্ধ, তাই এ ধরনের ফি আদায় অযৌক্তিক। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে পরিবহন ফি না নেয়ার জন্য আহ্বান করছি।’

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, ‘পূর্ণাঙ্গ ফি নেয়ার কথা না। পূর্ণাঙ্গ ফি নেয়া হচ্ছে এমন বিভাগের কথা উল্লেখ করলে তিনি সংশ্লিষ্ট বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।’

পরিবহন ফি’র বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘পরিবহন ফি’র টাকা পরিবহন খাতেই ব্যয় করা হবে। এটা শিক্ষার্থীদের থেকে প্রতীকী অর্থে নেয়া হচ্ছে। এটা পরিবহন খাত উন্নয়নে ব্যয় করা হবে, কারো বেতন-ভাতা দেয়ার জন্য নয়।’

আরো পড়ুন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়: কমে যাচ্ছে মুক্ত চিন্তার জায়গা!​

সেরা এক হাজারেও নেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়​

শতবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যাল

বাংলাদেশ জার্নাল/এনএইচ/ওয়াইএ

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত