ঢাকা, শুক্রবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৯, ১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ আপডেট : ৭ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৭:২৫

প্রিন্ট

বৈঠকে বসছে গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়

বৈঠকে বসছে গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়
অনলাইন ডেস্ক

সহকারী শিক্ষকদের বেতন স্কেল উন্নীতকরণের ব্যাপারে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সুস্পষ্ট প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয় সরাসরি নাকচ করে তা ফেরত পাঠিয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন সারা দেশের সহকারী শিক্ষকরা।

এ ব্যাপারে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আকরাম আল হোসেন বলেছেন, সহকারী শিক্ষকদের বেতনবৈষম্যের বিষয়ে সরকার আন্তরিক ও সদিচ্ছার বহিঃপ্রকাশ হিসেবেই অর্থমন্ত্রণালয়ে সুস্পষ্ট প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে কেন ফেরত পাঠানো হয়েছে, তা এখনো আমি দেখিনি। কারণ ফাইলটি এখনো আমার দফতরে আসেনি।

গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বর্তমানে অর্থ সচিব রাষ্ট্র সফরে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। তিনি ফিরলেই এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসবেন গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।

এ ব্যাপারে মো. আকরাম আল হোসেন বলেন, বুধবার আমি বিষয়টি নিয়ে অর্থ সচিবের সাথে কথা বলেছি। তিনি (অর্থ সচিব) রাষ্ট্রীয় সফরে দেশের বাইরে যাচ্ছেন। আগামী ২০ সেপ্টেম্বর দেশে ফেরার পর পাঠানো প্রস্তাব নিয়েই কথা হবে। অর্থ সচিবও এ ব্যপারে সম্মতি দিয়েছেন।

প্রাথমিকের সচিব আকরাম আল হোসেন আরো বলেন, যোগ্যতা ও ন্যায্যতার ভিত্তিতেই বেতনবৈষম্য দূর করার প্রস্তাব করা হয়েছে। আশা করি বৈঠকে বসলেই সব অস্পষ্টতা দূর করা যাবে।

উল্লেখ্য সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন-বৈষম্য কমানোসহ গ্রেড উন্নীতকরণের জন্য প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে যে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, তা নাকচ করে দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

প্রাথমিকের শিক্ষকদের বিদ্যমান বেতন যথাযথ রয়েছে বলে জানানো হয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়কে। অর্থ মন্ত্রণালয়ে উপসচিব সাদিয়া শারমিন স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক পদে বেতন গ্রেড যথাযথ ও সঠিক থাকায় প্রধান শিক্ষক পদের বেতন গ্রেড-১০ ও সহকারী শিক্ষক পদের বেতন গ্রেড-১২তে উন্নীতকরণের সুযোগ নেই।’

অর্থ মন্ত্রণালয়ে উপসচিব সাদিয়া শারমিন স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক পদে বেতন গ্রেড যথাযথও সঠিক থাকায় প্রধান শিক্ষক পদের বেতন গ্রেড-১০ ও সহকারী শিক্ষক পদের বেতন গ্রেড-১২তে উন্নীতকরণের সুযোগ নেই।’

জানা গেছে, প্রাথমিক শিক্ষকদের দীর্ঘ আন্দোলনের পর গ্রেড পরিবর্তনের প্রস্তাবনা গত ২৯ জুলাই অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। শিক্ষকদের দাবির মুখে এ প্রস্তাবনায় প্রধান শিক্ষকদের দশম গ্রেড ও সহকারি শিক্ষকদের ১২তম গ্রেডে উন্নীত করার সুপারিশ করা হয়েছিল। যদিও সহকারি শিক্ষকদের দাবি ছিল ১১তম গ্রেডে বেতন ভাতা। তাই অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবটি সমালোচিত হয়েছিল শিক্ষক মহলে।

বেতন বাড়ানোর প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয় প্রত্যাখ্যান করায় ক্ষুব্ধ সারা দেশের প্রাথমিক শিক্ষকরা। বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সহ কাব স্কাউট সম্পাদক মোহাম্মদ নাছিম ফারুকী বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের সংগঠন বাংলাদেশ প্রাথমিক সমিতি জাতির পিতার সুযোগ্য উত্তরসূরী জননেত্রী শেখ হাসিনা শিক্ষকদের বেতন বৈষম্যের বিষয়ে ভয়েজ কলে আশ্বস্ত হয়ে দ্বিগুন আন্তরিকতা নিয়ে সারা দেশে নৌকা প্রতিকের পক্ষে কাজ করেছিরেন। আমরা শিক্ষকরা দীর্ঘ সময় ধরে প্রধান শিক্ষকের ১০ গ্রেড ও সহকারি শিক্ষকদের ১১তম গ্রেড দাবি করে আসছিলাম। আমরা সেই ১০ম ও ১১তম গ্রেডের দাবিতেই আছি। এ দাবি আদায়ে খুব শীঘ্রই সমিতির কেন্দ্রীয় নীতি নির্ধারক কমিটির সিদ্ধান্ত নিয়ে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

প্রথমে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ওই চিঠির সত্যতা নিয়ে বিভ্রান্তি দেখা দিলেও পরে তা সত্য বলে নিশ্চিত হয়েছেন প্রাথমিক শিক্ষকরা। এ নিয়ে তারা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখানোর পাশাপাশি আন্দোলনে নামার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ শামছুদ্দীন মাসুদ বলেন, অর্থ মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করে আমরা চিঠির বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছি। এটা হতাশাজনক। এ নিয়ে কথা বলতেও ভালো লাগছে না।

তিনি বলেন, আমরা এতদিন ধরে ১১তম গ্রেড দেওয়ার দাবিতে আন্দোলন করে আসছি। সেখানে আমাদের ১৪তম গ্রেডেই রাখার প্রক্রিয়া চলছে। আমরা সবগুলো সংগঠন শিগগিরই বিষয়টি নিয়ে বসব। এখন আমাদের সামনে আন্দোলনের কোন বিকল্প নেই।

বর্তমানে দেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোয় প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক পদ রয়েছে। প্রধান শিক্ষকের নেতৃত্বে পাঠদানের কাজ করেন সহকারী শিক্ষকেরা। বর্তমানে প্রধান শিক্ষকেরা বেতন পাচ্ছেন দশম গ্রেডে ১৬ হাজার টাকা স্কেলে। (কোর্টের রায় অনুসারে যেহেতু বকেয়াও পাবেন)। এছাড়া সহকারী শিক্ষকেরা বেতন পান ১৪তম গ্রেডে ১০ হাজার ২০০ টাকা স্কেলে।

অবশ্য সম্প্রতি গণমাধ্যমে খবর বের হয়, সহকারী শিক্ষকদের ১২তম গ্রেড আর আর প্রধান শিক্ষকদের ১০ম গ্রেড দেওয়ার প্রস্তাব করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ প্রস্তাব দিয়ে সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছে গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। তবে এটি বাস্তবায়ন হলে তা মানবেন না বলে ইতোমধ্যেই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন সহকারী শিক্ষকরা। এরইমধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়ের এ চিঠির বিষয়টি সামনে আসলো।

বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে বলা হয়েছিল, শিক্ষকদের মর্যাদা ও বেতন বৃদ্ধিসহ সরকারের নানা কল্যাণমূখী ও যুগোপযোগী উদ্যোগ সত্ত্বেও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকগণের বেতন গ্রেডসহ শিক্ষাখাতের কিছু কিছু ক্ষেত্রে যে বৈষম্য এখনও রয়ে গেছে, আগামী মেয়াদে তা ন্যায্যতার ভিত্তিতে নিরসনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষকরা জানিয়েছেন, ১১তম গ্রেডসহ বৈষম্য নিরসনের দাবিতে তারা যখন আন্দোলন করছিলেন তখন আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা এসব দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দেন। সর্বশেষ নির্বাচনী ইশতেহারেও তাদের দাবি পূরণের বিষয়টি যোগ করা হয়। কিন্তু এখনো সে দাবি মানা হয়নি।

জানা গেছে, সর্বশেষ গত ১৩ মে মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সহকারী শিক্ষক সংগঠনগুলোর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা বৈঠক করেন। সেখানে বেতন বৈষম্য নিরসন, শতভাগ পদোন্নতি, বিদ্যালয়ের সময়সূচি, চিত্তবিনোদন ভাতাসহ নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। সভায় দাবি মানার আশ্বাস দিয়ে আন্দোলন না করার আহবান জানানো হয়।

তবে এখন ১২তম গ্রেড দেওয়ার বিষয়টি সামনে আসায় ফের ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষকরা। তারা ইতিমধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে পৃথকভাবে আন্দোলন কর্মসূচিও পালন করেছেন। এছাড়া দাবি মানা না হলে বৃহৎ আন্দোলন কর্মসূচি দেওয়ার হুশিয়ারি দিয়েছেন তারা।

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত