ঢাকা, রোববার, ১২ জুলাই ২০২০, ২৮ আষাঢ় ১৪২৭ আপডেট : ৩ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১২ মার্চ ২০২০, ১৬:৩৩

প্রিন্ট

কাজ মানহীন হলে দর্শক প্রশ্ন তুলবেই : শিমুল

কাজ মানহীন হলে দর্শক প্রশ্ন তুলবেই : শিমুল
ইমরুল নূর

‘শোবার ঘরটি নীল হোক’ নব্বই দশকের শেষের দিকে বার্জারের বিজ্ঞাপনের এই সংলাপটি দর্শকমহলে বেশ পরিচিত। প্রকাশ্যে আসার পর এই বিজ্ঞাপনটি সেসময় তুমুল আলোচিত হয়। সেই ধারাবাহিকতায় গেল বছরে নির্মাণ হয়েছিল সেই বিজ্ঞাপনটির সিক্যুয়েল। সেখানেও দেখা গেছে সেই মডেল ও অভিনেতা মনির খান শিমুলকে। তার সঙ্গে জুটি বেঁধেছিলেন সেই চৈতি। অনেকদিন ধরেই অভিনয়ে অনিয়মিত শিমুল। তবে মাঝেমধ্যে দেখা মিলে তার নাটক কিংবা সিনেমাতে। তবে সেটা খুব কম। চলতি বছরেই মুক্তি পেতে যাচ্ছে তার নতুন সিনেমা ‘পাপ-পুণ্য’। সাম্প্রতিক ব্যস্ততা, কাজ ও সমসাময়িক ব্যস্ততা নিয়ে তিনি কথা বলেন বাংলাদেশ জার্নালের সাথে। তাকে নিয়ে লিখেছেন ইমরুল নূর

বাংলাদেশ জার্নাল: চলচ্চিত্র দিয়েই আপনার অভিনয় শুরু। এরপর বিজ্ঞাপনেই আপনাকে বেশি দেখা যেত। বিজ্ঞাপন দিয়েই জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন। এরপর নাটকে থীতু হন। এখন খুব একটা বিজ্ঞাপনে দেখা যায় না আপনাকে?

শিমুল: আমি ব্যাসিক্যালি অনেকদিন ধরেই ব্যবসায়ের সাথে জড়িত। বায়িং হাউজের বিজনেস করতাম অনেক আগে থেকেই। তার পাশাপাশি থিয়েটার করতাম। তারপর একটা সিনেমা করলাম ( একাত্তরের যিশু), তারপর ধারাবাহিক নাটক, বিজ্ঞাপন করলাম। সেসময়ে জনপ্রিয় নাটকগুলোতে নিয়মিত কাজ করতাম। বিজ্ঞাপনটা আসলে টিভিতে বেশী প্রচার হতো যেটা নাটক বা সিনেমার ক্ষেত্রে খুব বেশী সুযোগ ছিলো না। এই জন্য বিজ্ঞাপনের জনপ্রিয়তা থাকতো অনেকটা সময় ধরে। আরেকটা কথা হলো, আমি অভিনয়টাকে কখনওই প্রফেশনালি নেইনি। যার জন্য নিয়মিত কাজ করা হয় নি কখনও। ছোটবেলা থেকেই যেই কাজটার প্রতি মন টানতো না সেই কাজটা করতে না। এর জন্যেই হয়তো নিয়মিত কাজ করা হয় নি।

বাংলাদেশ জার্নাল: নব্বই দশকের শেষের দিকে বার্জার বিজ্ঞাপনটি তুমুল জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। গেল বছর সেটির সিক্যুয়েলে কাজ করেছেন। সেইসময় আর এখনকার পার্থক্যটা কেমন ছিল বা অভিজ্ঞতা কেমন?

শিমুল: প্রথমত আমি বলতে চাই এটা বার্জারের দ্বিতীয় বিজ্ঞাপন ছিল না, এটা ছিল তৃতীয়। বার্জারের প্রথম বিজ্ঞাপন টা ছিলো ৯৫ কিংবা ৯৬ সালে। এরপর ১৯৯৯ সালে সেটার সিক্যুয়েল হয়, আর তখন সেই বিজ্ঞাপনটা বেশ সাড়া ফেলে। কিন্তু আমার কাছে খুব পছন্দের কাজ ছিল প্রথম কাজটা। আর গতবছর আমি করলাম বার্জারের তৃতীয় সিক্যুয়েল বিজ্ঞাপনে। তবে এটা বলবো এখনও সেই কাজটা দর্শক মনে রেখেছেন। নতুন করে তৈরি করা এই কাজটা করতে গিয়ে সেই প্রথম কাজটার রেশ খুঁজে পেয়েছি। এই কাজটাও খুব ভালো হয়েছে। আদনান ভালো বানিয়েছে আর প্রযুক্তিগত দিক দিয়ে এই কাজটা এগিয়ে থাকবে।

বাংলাদেশ জার্নাল: এখন খুব একটা নাটকে দেখা যায় না আপনাকে। নাটকে অনিয়মিত কেন?

শিমুল: ওইভাবে বললে কিন্তু আমি কখনওই এতটা নিয়মিত ছিলাম না। যেই কাজটাতে মন টানতো না, সেটা করতাম না। তবে মাঝখানে একটা লম্বা বিরতি ছিল বলা যায়। কিন্তু এই বিরতিতেও কাজ করেছি, সেটা হাতেগুণা। ৭ বছরে কাজ করেছি মাত্র ৮টা। প্রায় ৭ বছর পর আবার কাজ শুরু করেছি। এবার কাজে ফিরেই গত দুমাসে ৯টা নাটকে কাজ করেছি। নাটকগুলোর গল্প ভালো ছিলো, খুব যত্ন নিয়ে করা কাজগুলো। দর্শকদের থেকেও ভালো ফিডব্যাক পাচ্ছি, আলহামদুলিল্লাহ। দিনশেষে দর্শকের জন্যেই তো কাজ করা। যখন তাদের থেকে ভালো ফিডব্যাক পাই তখন কাজের প্রতি ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধ বেড়ে যায়। এখন অনলাইন প্ল্যাটফর্মের জন্য কাজ করছি কিছু ওয়েব সিরিজে। এই বছর টাতে অনেকগুলো কাজ করার ইচ্ছে আছে, বাকিটাতো ডিরেক্টর, প্রডিউসারের উপর নির্ভর করছে।

বাংলাদেশ জার্নাল: নব্বইয়ের দশকে বিজ্ঞাপনে ছিল মৌ-এর জয়জয়কার। সেসময়ে মৌয়ের সঙ্গে জুটি বেঁধে কাজও করেছেন। কিন্তু এরপর অনেকটা দিন পেরিয়ে গেলেও আপনাদের আর দেখা যায় নি কেন?

শিমুল: না, মৌ-এর সাথে কোনো বিজ্ঞাপনে কাজ করা হয় নি আমার। মৌ-এর সাথে নাটক করেছি বেশ কয়েকটা। তার প্রথম যে নাটকটা ছিলো ঐটাতেই আমি ছিলাম, আফজাল ভাইও ছিলো। তারপর তো আমার দীর্ঘ একটা বিরতি ছিলো তাই জন্যেই আমাদেরকে আর একসাথে দেখা যায় নি। তবে কিছুদিন আগে মৌ-এর সঙ্গে একটা নাটকে কাজ করেছি অনেক বছর পর। কাজটাও ভালো হয়েছে।

বাংলাদেশ জার্নাল: আপনাদের শুরুর দিকে যেসব নাটক নির্মাণ হতো, সেসব দেখার জন্য দর্শক মুখিয়ে থাকতো। সেগুলো হিটও হতো। কিন্তু এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে, ইউটিউবের কমেন্ট বক্সে দর্শকের অভিযোগ দেখা যায় দিন দিন নাটক থেকে পারিবারিক আবহ, পারিবারিক সদস্যদের আবেগ-অনুভূতি কমে যাচ্ছে। এখন পরিবার বলতে বাবা-মা, স্বামী-স্ত্রী বড়জোর একটা ভাইবোন বা শিশু। নায়ক-নায়িকার বাইরে তাদের চরিত্রের গুরুত্বও কম। যার ফলে নাটক সাময়িকভাবে হিট হলেও টিকে থাকছে না। আপনি কী তা মনে করেন?

শিমুল: ঐ সময় সবার মধ্যেই কাজের ব্যাপারে ব্যাপক প্রতিযোগিতা ছিলো। অল্প সংখ্যক চ্যানেল ছিলো, শিল্পীদের মধ্যেও একটা প্রেশার ছিলো। তাই তখন শিল্পীরা কাজটা খুব সিরিয়াসভাবে করতো, সেরাটা দিয়ে কাজ করতো। অভিনয়ের প্রতি তাদের ভালোবাসা আর ডেডিকেশনটা ছিল অনেক বেশী। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই বাজেটের স্বল্পতা, তারপর স্পন্সর ভ্যালু আর্টিস্টদের নিয়েই কাজ করা হয়। আর কাজের সংখ্যা প্রচুর। কোয়ালিটির চেয়ে কোয়ানটিটি বেশি অনেক, যার কারণে আগের অবস্থাটা এখন আর নেই। এখন কাজের সংখ্যাটা অনেক বেড়ে যাওয়ায় জবাবদিহিতার দায়বদ্ধতা খুঁজে পাওয়া যায় না।

বাংলাদেশ জার্নাল: নাটকে গল্পের মান অনেকক্ষেত্রেই প্রশ্নবিদ্ধ। একজন অভিনয়শিল্পী হিসেবে নিজেদের দায়বদ্ধতা কতটুকু মনে করেন?

শিমুল: হ্যাঁ, এখন প্রায়ই দেখা যাচ্ছে আমাদের নাটকগুলোর গল্প বারবার প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। সেক্ষেত্রে একজন অভিনয়শিল্পী হিসেবে আমায় জায়গা থেকে যদি বলি তবে বলবো, এই ব্যাপারে দায়বদ্ধ থাকা আবশ্যক। কারণ একটা নাটকের গল্প যদি মানহীন হয় তবে দর্শক মানহীন গল্পের কাজ দেখে প্রশ্ন তুলবেই। সেক্ষেত্রের দর্শকের কাছে আস্থার জায়গাটাতেও ঘাটতি হয়ে যায়। এজন্য এদিকটাতে আমাদের দায়বদ্ধতা থাকাটা জরুরী।

বাংলাদেশ জার্নাল: এখন দর্শকরা টেলিভিশনের চেয়ে অনলাইন প্ল্যাটফর্মের দিকেই ঝুঁকছে বেশি। টেলিভিশনের দর্শক দিন দিন কমছে। সেদিক থেকে আপনার কাছে কি মনে হয়, নাটকের জনপ্রিয়তা এখন টিভিতে নাকি ইউটিউবে?

শিমুল: সত্যি কথা বলতে এখন নাটকের জনপ্রিয়তা ইউটিউবে। দর্শক এখন ইউটিউব অথবা অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোতে নাটক দেখছে কোনোরকম বিরতি ছাড়া। নাটক এখন ইউটিউব নির্ভর হয়ে গেছে এবং জনপ্রিয়তাও পাচ্ছে।

বাংলাদেশ জার্নাল: একাত্তরের যীশু,নন্দিত নরকে, শ্যামল ছায়া, মহব্বত জিন্দাবাদ, মনপুরা সিনেমায় কাজ করেছিলেন। এরপর সর্বশেষ ‘পুত্র’ সিনেমায় দেখা গিয়েছে আপনাকে। এরপর আর সিনেমায় দেখা যায় নি কেন?

শিমুল: সিনেমার জায়গাটা নাটক থেকে অনেকটা আলাদা। এখানে বিগ এরেঞ্জমেন্ট নিয়ে কাজটা হয়। সিনেমার কাজটা অনেক গুছিয়ে করতে হয়। এছাড়াও অনেক বিষয় থাকে। ব্যাটে-বলে মেলারও ব্যাপার থাকে। আর গিয়াস উদ্দিন সেলিমের পাপ-পূণ্য সিনেমাতে সর্বশেষ কাজ করেছি। আর কয়েকটা সিনেমার কথা চলছে। এবছরই হয়তো আরও দুয়েকটা সিনেমার কাজ করা হবে।

বাংলাদেশ জার্নাল: ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন। পাঁচ বছর সংসারের পর বিচ্ছেদও হয়ে যায়। এরপর নতুন করে আর কোন পরিকল্পনা করেন নি কেন?

শিমুল: ৫ বছরের প্রেম তারপর বিয়ে। এরপর একসাথে ৫ বছর সংসার করলাম। আবার আলাদাও হয়ে গেলাম। এরপর এতটা সময় গেলেও মন থেকে আর ইচ্ছেটাই আসে নি। এখন নানান কাজ নিয়ে ব্যস্ত আছি তাই ঐভাবে কোনো প্ল্যান নাই। আর বিয়ে যে করবো না তাও না, আবার কালকেই বিয়ে করে ফেলবো এমনটাও কিন্তু না। যখন হবার, হয়ে যাবে আরকি। আমি বারবার প্রেমও করতে পারি না, বারবার বিয়েও করতে পারি না। সত্যি কথা বলতে আমি একটু অন্যভাবে চলি, আমার কোনো কিছুতে যদি মন না টানে, আর বিশ্বাসটা না পেলে ঐ কাজটাই করিনা বা করতে পারি না। সো, দেখা যাক কি হয়, আপাতত এসব নিয়ে ভাবছি না।

আইএন

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত
best