ঢাকা, সোমবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২১, ৪ মাঘ ১৪২৭ আপডেট : ৬ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ০২ জানুয়ারি ২০২১, ১৭:১৬

প্রিন্ট

ইন্টারন্যাশনালি পারফর্ম করতে হবে: আফরান নিশো

ইন্টারন্যাশনালি পারফর্ম করতে হবে: আফরান নিশো
আফরান নিশো

ইমরুল নূর

‘২০২০ সালের কথা যদি হিসেবে করি তাহলে একদম স্ট্রেইট ৫ মাস কিন্তু আমাদের জীবনে ছিলো না। আমি প্রায় পাঁচ মাস কাজ করিনি। বাকি রইলো সাত মাস। এই সাত মাসে বেশ কিছু কাজ করেছি। আমি বেশ কিছু জায়গায় দেখেছি যে, বছরটাতে আমার প্রায় ৫৪টি নাটক প্রচার হয়েছে। এই সাত মাসে আমার যেটা প্রাপ্তি সেটা তার আগের বছরের চেয়েও অনেক অনেক বেশি। আমি নিজেকে একজন পারফর্মার বলতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। একজন পারফর্মার হিসেবে আমি সবসময়ই বিভিন্ন ধরনের চরিত্র করতে পছন্দ করি। আমি একটা জায়গায় স্থির থাকতে চাই না। বিভিন্নভাবে নিজেকে উপস্থাপন করতে চাই। সেই জায়গা থেকে বছরটা আমার অনেক ভালো গিয়েছে।’ - নতুন বছরের প্রথম দিন অর্থাৎ শুক্রবার রাজধানীর একটি শুটিং স্পটে নিজের প্রাপ্তি সম্পর্কে বলতে গিয়ে কথাগুলো বলেন ছোট পর্দার বড় তারকা আফরান নিশো।

তিনি বলেন, ‘৫৪টা নাটকের মধ্যে তো আর সবগুলোই কখনো আলোচনায় আসবে না, এটা আমি জানি। আমি এটা বিশ্বাস করি, ভিউ আর রিভিউ দুইটা দুই জিনিস। একজন পারফর্মারের জন্য ভিউ যেমন গুরুত্বপূর্ণ তেমনি রিভিউও। কিন্তু এটা মানতে হবে যে, ভিউ কখনোই ভালো নাটকের মান নির্ধারক হতে পারে না। কোনো কন্টেন্ট দেখলেই কিন্তু সেটার ভিউ কাউন্ট করা হয়। গুণগত দিক থেকে, মানের দিক থেকে কন্টেন্টটি ভালো কিনা, সেটা কিন্তু ভিউ দেখে নির্ধারণ করা যায় না। সেটার জন্য রিভিউ গুরুত্বপূর্ণ। ভিউ হচ্ছে শুধুমাত্র একটি ডাটা, যার মাধ্যমে আমরা জানতে পারি যে এই কাজটি এতজন দর্শক দেখেছেন। একটা কাজের ভিউ হয় নি তেমন কিন্তু সেটা গুণগত বা মানের দিক থেকে অনেক ভালো হয়েছে। অনেক বোদ্ধা বা বিজ্ঞরা সেটারা প্রশংসা করেছেন, সেটা নিয়ে কিছু লিখেছেন সেটা রিভিউ। ভিউ যেমন একজন পারফর্মারকে সুখ দেয় তেমনি রিভিউও। একজন পারফর্মারের জন্য দুটোই দরকার।

আমার ইতি, মা; ভিক্টিম, উপহার, কেন, নির্বাসন, মেমোরিজ, ভুল এই শহরের মধ্যবিত্তদের ছিলো, একাই ১০০, জন্মদাগ, গজদন্তিনী, ইরিনা, মাইনকার চিপায় (ওয়েব), পরিপূরক, তৃতীয়জন, শিফট এই কাজগুলো দর্শকদের ভালো লেগেছে। বছর শেষে যদি ত্রিশটা কাজের লিস্ট করা হয় সেখানে আমার ১৫/১৬টা কাজ থাকে। এটা আমার কাছে ভালো লাগে। যদিও আমাদের আসলে অথেনটিক কোনো সাইট বা পেইজ নেই যেখান থেকে আমরা এই তথ্যগুলো পরিপূর্ণ ও সঠিকভাবে পেতে পারি। তারপরও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন জায়গা থেকে সংগৃহীত কিছু তথ্য পাই। কিন্তু সেটা কতটা অথেনটিক, আমি জানিনা। আমার মনে হয় এর জন্য কোনো অথেনটিক সাইটের ব্যবস্থা করলে ভালো হয় সবার জন্য।

সবকিছু মিলিয়ে আমি বলবো, প্রাপ্তিটা বেশি আমার। শিফট ও তৃতীয়জন নাটকের জন্য বছর শেষে সম্মাননা পেয়েছি। এটা ভীষণ আনন্দের আমার জন্য। করোনার মধ্যেও আমরা ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেছি। আর সেটার জন্য যখন পুরস্কৃত হই, তখন সত্যি অনেক আনন্দিত হই। পুরস্কার আমাকে সবসময় অনুপ্রাণিত করে। এই জন্য আমি আল্লাহর কাছে অনেক শুকরিয়া।’

অপ্রাপ্তি নিয়ে এই তারকা বলেন, ‘বছরটাতে অনেক প্রাপ্তির মাঝে একটা বড় অপ্রাপ্তি হলো, আমি আমার বাবাকে হারিয়েছি। এটা আমাকে পীড়া দেয়। কাজের জায়গা থেকে যতটুকুই পেয়েছি তার থেকে অনেক বেশি হারিয়ে ফেলেছি। সেই জায়গা থেকে এটাও একটা লাইফের ফেইজ। বাবার বিষয়টা বুঝতে পেরেছি যখন আমি নিজে বাবা হয়েছি। আরও বেশি বুঝতে পেরেছি যখন আমার বাবাকে হারিয়েছি। এই দুইটা সময়ে বাবাকে নতুন করে চেনা যায়, বুঝা যায়, আবিষ্কার করা যায়। প্রফেশানাল জায়গাতে আমার প্রাপ্তিটা বেশি হলেও ব্যক্তিগত জীবনে এই অপ্রাপ্তিটা, হারানোর বেদনাটা নতুন বছরে কাটিয়ে উঠার চেষ্টা করবো।’

‘নতুন বছরে আমার এটাই চাওয়া, ভালো কাজ এবং পুরস্কারের সংখ্যাটা যেন আমি আরও বাড়াতে পারি। ভালো কাজের মান বাড়াতে চাই আরও। ভালো কাজের জন্য কখনো নমিনেট হওয়া বা পুরস্কার পাওয়া; সেটা কখনো হবে আবার কখনো হবে না। কিন্তু নিজের কাজের মান নির্ধারণ আমার নিজেকেই করতে হবে। এখন আমাদের ট্রান্সফর্মেশন হচ্ছে। টেলিভিশন এরপর ইউটিউব এখন ওটিটির জন্য কাজ করছি ইন্টারন্যাশনালি। সেই জায়গা থেকে আরও ভালো কাজ করতে হবে। আমাকে ইন্টারন্যাশনালি পারফর্ম করতে হবে। আর সিনেমার কথা যদি বলি, যেকোন মুহূর্তে যেকোন কিছুই হতে পারে।’- নতুন বছরে পরিকল্পনা জানাতে গিয়ে এভাবেই বলেন ভার্সেটাইল এই অভিনেতা।

নতুন বছরের প্রথম দিনেই বিজ্ঞাপনের শুটিংয়ে নিশো। ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে প্রচুর বিজ্ঞাপনে দেখা গেলেও এরপর বেশ অনেকবছর বিজ্ঞাপনে অনুপস্থিত ছিলেন। এর কারণ কি? এমন প্রশ্নে নিজেকে পারফর্মার বলতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করা এই অভিনেতা বলেন, ‘আমার ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে অর্থাৎ যখন আমি ছোট ছিলাম তখন আমাকে সিনিয়ররা কাজের বিষয়ে পরামর্শ দিতেন। আমার শুরুটা ছিলো আফজাল হোসেন আংকেলের মাধ্যমে। উনার সাথেই প্রথম বিজ্ঞাপনে কাজ করেছি। এরপর আরও অনেকের সাথে কাজ করেছি। তখন সিলেকশন কিংবা যাচাই বাছাইয়ের যে একটা ব্যাপার থাকে, সেটা আমার হাতে ছিল না। সেই বিষয়গুলো আমার সিনিয়ররা বা পরিচালকরাই নির্ধারিত করতেন। কিন্তু যখন একটু একটু করে বড় হয়েছি, বুঝতে শিখেছি তখন নিজে বেছে বেছে কাজ করেছি।

আর কোনো এন্ডরসমেন্টের প্রস্তাব আসলে আমি আগে দেখতাম আমি যেই প্রোডাক্টের হয়ে কাজ করবো সেটা আমার সাথে যাচ্ছে কিনা বা সেটা আমি করতে পারবো কিনা! আমি বিশ্বাস করি, যেটা আমি নিজে ব্যবহার করি, পছন্দ করি বা আমার সাথে যায় এরকম হলে আমি সেটা করেছি। কোয়ালিটিটা অবশ্যই দেখি। একটা প্রোডাক্টের জন্য আমি কিছু টাকা পেলাম তার জন্য সেটা নিয়ে আমি কিছু বলে দিলাম, এটা আমার কাছে সমস্যা মনে হয়। সেগুলো আমি কখনোই করতে চাই না। এরজন্য রেনডমলি বা একেবারে নিয়মিত কাজ করা হয়নি আমার।

যখন কোনো ক্লায়েন্ট বা প্রোডাক্টের সাথে একটা লম্বা সময়ের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয় তখন হয়তো টানা বেশ কিছু তাদের বিজ্ঞাপনে কাজ করি।’

বাংলাদেশ জার্নাল/আইএন

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত