ঢাকা, শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২০, ৩০ শ্রাবণ ১৪২৭ আপডেট : ৪৬ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ০১ মার্চ ২০২০, ২০:৫৭

প্রিন্ট

আস্ত তোয়ালে গিয়ে খেল অজগর, জীবন বাচাঁলেন চিকিৎসক

আস্ত তোয়ালে গিয়ে খেল অজগর, জীবন বাচাঁলেন চিকিৎসক
ছবি: সংগৃহীত
ফিচার ডেস্ক

একটা ‘খাই-খাই’ ভাব পেয়ে বসেছিলো অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে পালিত পোষা অজগর সাপ ‘মন্টি’কে। আর লোভের বশীভূত হয়ে বিশাল আকারের আস্ত একটা তোয়ালে গিলে খেল সে। এরপর বাধে বিপত্তি।

সাপটির জীবন সংশয় দেখা দেয়ার পর এটির মালিক সাপটিকে নিয়ে স্থানীয় পশু চিকিৎসক ড. অলিভিয়া ক্লার্কের সরনাপন্ন হন।

এরপর ড. ক্লার্ক তার হাসপাতালে অতি যত্ন সহকারে সাপটির পেট থেকে তোয়ালেটা বের করেন। যার একটি ভিডিও এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। অনেকে ভিডিওটি দেখে ওই পশু চিকিৎসকের প্রশংসা করেছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চিকিৎসক ক্লার্ক বলেন, ‘আমি আগেও জীবজন্তুকে আজব সব জিনিসি খেতে দেখেছি। এটা অসাধারণ কোনো বিষয় না। কিন্তু কোনো সাপ তোয়ালে খেয়ে ফেলেছে এমন ঘটনা আমি কখনো দেখিনি বা শুনিনি।’

‘মন্টিকে আমি যখন প্রথম দেখলাম তখন এটি আসলেই একটা বড় তোয়ালে গিলে ফেলেছে শুনে অবাক হই। এরপর যখন সাপের শরীরটা দেখলাম তখন লক্ষ্য করলাম তার শরীরের সম্ভবত প্রায় এক তৃতীয়াংশের বেশি জায়গায় পেট ফুলে শক্ত হয়ে রয়েছে। আমি পরিস্কার বুঝতে পারছিলাম সেখানে কিছু একটা আটকে আছে। এরপর আমরা মন্টিকে ওষুধ দিয়ে অবচেতন করলাম। তাকে অজ্ঞান করার পর আমরা কিছু এক্স-রে করলাম- তোয়ালেটা ঠিক কোথায় আটকে আছে সেটা চিহ্নিত করার জন্য। তোয়ালেটা মন্টির মাথা থেকে কতোটা ভেতরে আছে যাতে আমরা ধরতে পারি তারপর আমরা খোঁজ করি লম্বা চিমটা বা ফরসেপের খুবই লম্বা চিমটা যা তার গলার ভেতর দিয়ে পেটে পৌঁছবে। যেখানে তোয়ালেটা আটকে আছে।’

‘গলা থেকে সেটার দূরত্ব ছিল প্রায় এক মিটার, অনেকটা লম্বা। শেষ পর্যন্ত ফরসেপ একটা জোগাড় হলো। আমরা লম্বা এবং নমনীয় ধরনের একটা এন্ডোস্কোপ যন্ত্র আনলাম। নলের মতো এ যন্ত্রটির মাথায় একটি ক্যামেরা ছিলো। আমরা এটি সাপটির গলার মধ্য দিয়ে ঢুকিয়ে দেই। এটা পাকস্থলীতে পৌঁছলে তোয়ালেটা দেখতে পাই। এরপর আমরা এন্ডোস্কোপের মধ্য দিয়ে চিমটা ঢুকিয়ে তোয়ালেটা ধরি এবং খুব আলতো করে আস্তে আস্তে তোয়ালেটা টেনে বের করি।’

‘ক্যামেরায় হওয়ায় ভিডিও দেখে মনে হয় আমরা খুব দ্রুত এটা টেনে এনেছি। কিন্তু এটা আসলে ঠিক নয়। তোয়ালেটা বের করে আনতে আমাদের লম্বা সময় লেগেছিলো। আমাদের হাত শক্ত রেখে ধীরে ধীরে একই মাত্রার গতিতে টানতে হয়েছে। আমরা খেয়াল রেখেছি যাতে খাদ্যনীতে ক্ষতি না হয়। অথচ তোয়ালেটা বের করে আনার জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি যেন থাকে। আমার ধারণা প্রায় আধ ঘণ্টা সময় লেগেছে।’

তোয়ালে বের হওয়ার পরের অনুভূতির কথা তুলে ধরে ক্লার্ক বলেন, ‘তোয়ালেটা বের করতে পেরে আমরা খুব খুশি হয়েছি। এটা একটা বড় সন্তুষ্টির ব্যাপার। আপনি যখন কাজে যান তখন ভাবেন না যে কোনো জন্তুর পেট থেকে আস্ত একটা তোয়ালে বের করব।’

তিনি আরো বলেন, মন্টি এখন পুরো সুস্থ হয়ে উঠেছে। আমরা ওর মালিকের সাথে দু’দিন আগে কথা বলেছি। তিনি জানিয়েছেন মন্টি ভালো আছে। পুরোদমে খাচ্ছে-দাচ্ছে এবং খোশ মেজাজে আছে।

বাংলাদেশ জার্নাল/এইচকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত