ঢাকা, শনিবার, ০৬ জুন ২০২০, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ আপডেট : ১৭ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ০৪ এপ্রিল ২০২০, ১৮:৪১

প্রিন্ট

আরও একবার ক্ষমা করো আমাদের

আরও একবার ক্ষমা করো আমাদের

Evaly

সবুজ খান

কোথায় তোমাদের বিশ্বায়ন, কোথায় মুক্ত বাজার, কোথায় নব্য উদারবাদ অর্থনীতি? কোথায় তোমাদের পুঁজিবাদের দৌরাত্ম্য? কোথায় তোমাদের শক্তি, কোথায় তোমাদের সক্ষমতা, কোথায় তোমাদের আধিপত্য?

নিরাপত্তার নামে আরও বেশি অস্ত্রের মজুদ করেছো তোমরা; আজ কোথায় সেই অস্ত্র? কথা ছিলো প্রযুক্তি মানুষকে একত্রিত করবে, বরং আরো বিচ্ছিন্ন করে দিলো। কোথায় সেই প্রযুক্তি, আজ কোথায়, এসো একত্রিত করো এই বিচ্ছিন্ন পৃথিবীকে।

আমরা কি এই পৃথিবীর স্বপ্ন দেখেছিলাম- যে পৃথিবীতে খুন, ধর্ষণ, অত্যাচার, জুলুম বাড়তে থাকে দিনের পর দিন। একদিকে পাপের পূণ্যভূমি হয়ে উঠছে এই ক্ষুদ্র পৃথিবী, অন্যদিকে পাল্লা দিয়ে কমছে মানবতা। নৈতিকতা আর মূল্যবোধের বদলে পৃথিবী ছেয়ে গেছে অনৈতিকতার কালো ছায়ায়।

আমরা কি এই পৃথিবীর স্বপ্ন দেখেছিলাম- যে পৃথিবীতে বাবা খাদ্যের জন্য নিজে সন্তানকে হত্যা করে; সন্তান হত্যা করে মা'কে? যে পৃথিবীতে প্রতিদিন শিশুরা ধর্ষণের শিকার হয়; একখণ্ড ভূমি নেই যেখানে শিশুরা থাকবে নিরাপদ।

আমরা কি এই পৃথিবীর স্বপ্ন দেখেছিলাম- যে পৃথিবীতে অস্ত্র-গোলাবারুদ হয় শ্রেষ্ঠত্ব, ক্ষমতা আর আধিপত্য বিস্তারের উৎস। নারী প্রতিনিয়ত আরও বেশি পণ্যে রুপান্তরিত হয়। বংশ মর্যাদা আর শারীরিক সৌন্দর্য হয় প্রেম-ভালোবাসার পরিমাপক।

না, আমরা স্বপ্ন দেখেছিলাম অন্য এক পৃথিবীর। আমাদের স্বপ্নের পৃথিবী ছিলো সবুজ-শ্যামল, স্নিগ্ধতাপূর্ণ। যেখানে রৌদ্র-ছায়ার খেলা আছে, আছে অজস্র নদী-নালা আর খাল-বিল। যেখানে বাতাসে আছে শীতলতা, রাতগুলো নীরবতাপূর্ণ। আছে জোৎস্নার অবাধ আনাগোনা, আছে অসংখ্য রঙিন ফুলের ছড়াছড়ি। নানা জাতের পাখির মিষ্টি কলরব আর শিশুদের আনন্দময় কোলাহলে হাসবে ফুলের বাগান। আমরা চেয়েছিলাম শিশুরা বেড়ে উঠবে প্রকৃতির কোলে, অজস্র রঙিন প্রজাপতি আর ফড়িংয়ের ভীড়ে।

আমরা স্বপ্ন দেখেছিলাম অন্য এক পৃথিবীর। আমাদের স্বপ্নের পৃথিবীতে মানুষের মৌলিক অধিকার পূর্ণতা পাবে। নারীরা আরও বেশী অধিকার পাবে; পুরুষেরা নারীর প্রতিবন্ধক নয় বরং সহায়ক হবে। ধনি-গরীব, ভিক্ষুক আর দাতা আইনের দৃষ্টিতে সবাই হবে সমান; থাকবে না কোন বৈষম্যমূলক ব্যবস্থা।

কিন্তু তোমরা তা হতে দাওনি, তা হতে দিচ্ছো না। তোমরা প্রকৃতি আর কৃত্তিমত্তার পার্থক্য বোঝোনি। তোমরা বুঝেছো অর্থ-সম্পদ, তোমরা বুঝেছো আধিপত্য, তোমরা বুঝেছো ক্ষমতা। তোমরা প্রকৃতির সবুজ কেড়ে নিয়েছো, ধূসর মরুদ্যান করেছো এই বন। মুক্তভাবে শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়ার মতো প্রতি ফোটা বাতাসকে করেছো দূষিত, সীসাযুক্ত আর অনিরাপদ। প্রকৃতির এই সুবিশাল হৃদয়ে রক্তক্ষরণ দেখে তোমরা জল্লাদের মতো করে হেসেছো। ভয়ঙ্কর তোমরা, খুব বেশি আঘাত করেছো প্রকৃতির স্নিগ্ধ বুকে। তোমরা ভুলে গেছো- ভয়ঙ্কর অতি ভয়ানকভাবেই নিস্ফল হয়।

প্রিয় প্রকৃতি, তবুও তোমার কাছে আমার আজন্ম প্রার্থনা- ঘুম থেকে উঠে শিতের কুয়াশার চাদরে ঘেরা সরিষা ফুলের মাঝে খালি পায়ে হাঁটার সুযোগ করে দাও আরও একবার। ভরদুপুরে ক্লান্তি ভুলে ঝাপ দিতে দাও কৈশরে হারিয়ে যাওয়া সেই যমুনায়। আরও একবার প্রিয় ধলেশ্বরীর বুকে যৌবন আসুক; প্রাণ ফিরে পাক আমন ধানের গুছিগুলো।

আরও একবার নবান্নে দুয়ার খুলে ভরা ক্ষেতে ধানের গন্ধে মাতাল হতে দাও। বর্ষায় তোমার বুকে ফুটে ওঠা শাপলা-শালুকের দেশে আরও একবার হারিয়ে যেতে দাও আমাদের। আরও একবার পূর্ণিমা রাতে নৌকায় বসে বিলের স্বচ্ছ জ্বলে চাঁদের অবাধ নাচন দেখুক সবাই।

আরও একবার এক হাতে আইসক্রিম, আরেক হাতে কাশফুল নিয়ে আঁকাবাঁকা গ্রামীণ মেঠো পথ হয়ে দৌড়ে যেতে চাই শিমুলতলায়। তোমার সৌন্দর্যের মুগ্ধতায় আচ্ছন্ন হয়ে আরও একবার তোমার কোলে নিজেকে সপে দেয়ার সুযোগ করে দাও। আরও একবার তুমি ক্ষমা করো আমাদের...

বাংলাদেশ জার্নাল/এসকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত