ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৩ মে ২০২১, ৩০ বৈশাখ ১৪২৮ আপডেট : ১০ মিনিট আগে

প্রকাশ : ১০ এপ্রিল ২০২১, ২১:৪৮

প্রিন্ট

এনবিআরের এক আদেশ চিন্তায় ফেলেছে ব্যবসায়ীদের

এনবিআরের এক আদেশ চিন্তায় ফেলেছে ব্যবসায়ীদের

নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে একটি নতুন আদেশ জারি হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ২০১২ সালের ভ্যাট আইনের মূল্য সংযোজন ও সম্পূরক শুল্ক বিধিমালার বিধি ৪৭ অনুযায়ী, প্রতি কর মেয়াদের (প্রতি ইংরেজি মাস) বেচাকেনার বিপরীতে ভ্যাটের রিটার্ন পরের মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে জমার বাধ্যবাধকতা আছে। অন্যথায় জরিমানা ও সুদ আরোপের বিধান আছে। তাই ভ্যাটদাতারা যাতে সহজেই রিটার্ন দিতে পারেন, সে জন্য সব ভ্যাট কার্যালয় খোলা থাকবে।

আর এই এক প্রজ্ঞাপনে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, যেখানে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানই ঠিক মতো চালু রাখা যাচ্ছে না, সেখানে কিসের আবার হিসাব, কিসের রিটার্ন দাখিল।

করোনার সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় গত সপ্তাহে চার দিন দোকানপাট বন্ধ ছিল। পরে ব্যবসায়ীদের আন্দোলনের মুখে শুক্রবার থেকে সকাল ৯টা হতে বিকেল ৫টা পর্যন্ত খোলার অনুমতি দেয় সরকার। পয়লা বৈশাখকে কেন্দ্র করে বেচাকেনা করতে চান ব্যবসায়ীরা। কিন্তু সরকার ১৪ এপ্রিল থেকে সর্বাত্মক লকডাউন দেওয়ার চিন্তাভাবনা করছে। সরকারি-বেসরকারি অফিসের পাশাপাশি দোকানপাট, যানবাহন—সবই বন্ধ থাকতে পারে। শুল্ক-কর কার্যালয়গুলো খোলা থাকবে কি না, তা এখনো পরিষ্কার নয়।

করোনা সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি, বৈশাখ-রোজার বেচাকেনা—এসবের মধ্যেও এনবিআরের এই আদেশ চিন্তায় ফেলেছে ব্যবসায়ীদের। এনবিআর বলেছে, নিয়ম অনুযায়ী ১৫ এপ্রিল বা আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে মার্চ মাসের বেচাকেনার হিসাব জানিয়ে দেশের সব ব্যবসায়ীকে নিজ নিজ কমিশনারেটে ভ্যাট রিটার্ন জমা দিতে হবে, অন্যথায় আইন অনুযায়ী জরিমানা ও সুদ আরোপ হবে।

এনবিআরের আদেশে আরও বলা হয়েছে, প্রতিটি ভ্যাট কার্যালয়ে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে যাতে ভ্যাটদাতারা রিটার্ন জমা দিতে পারেন, তা নিশ্চিত করা হবে। এ ছাড়া পুরো বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কমিশনার নিজে তদারক করবেন। আইন অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ে ভ্যাট রিটার্ন না দিলে ১০ হাজার টাকা জরিমানা এবং নির্ধারিত ভ্যাটের টাকার ওপর ২ শতাংশ হারে সুদ আরোপ হয়।

বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি মো. হেলাল উদ্দিন বাংলাদেশ জার্নালকে জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে তারা এনবিআরের সাথে কথা বলবেন। তিনি বলেন, এই করোনা পরিস্থিতিতে এমনিতেই ব্যবসায়ীরা চিন্তিত। এ ছাড়া লকডাউনের পরিকল্পনা করছে সরকার। এমন অবস্থায় রিটার্ন দেওয়ার সময় বাড়াতেই হবে। আর সুদ, জরিমানাও মওকুফ করতে হবে। এনবিআরকে দেশের ব্যবসায়ীদের অবস্থা বুঝতে হবে।

এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, এই পর্যন্ত ২ লাখ ৪৪ হাজার ১৬টি প্রতিষ্ঠান ভ্যাট নিবন্ধন নিয়েছে। এর মধ্যে গত মাসে ১ লাখ ২ হাজার ৮৭১টি প্রতিষ্ঠান প্রতি মাসের হিসাব-নিকাশ দিয়ে ভ্যাট রিটার্ন দাখিল করেছে।

এ বিষয়ে কথা হয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী নুরুল আজিমের সাথে। তিনি বলেন, আমরা চরম বিপদে আছি। পুরো বছর জুড়েই ব্যবসায় মন্দা যাচ্ছে। বেচাকেনা একেবারেই নেই। দোকান ভাড়া দিতেই এখন পুঁজি খরচ করতে হচ্ছে। মুনাফা নেই ৬/৭ মাস ধরে। এভাবে একসময় দেখা যাবে ব্যবসা ফেলে চলে যেতে হবে। তিনি নিজের উদাহরণ দিয়ে বলেন, ধারাবাহিক ভাবে গত ৬/৭ মাস ধরে ব্যবসায় লোকসান হচ্ছে। কিন্তু এনবিআরের লোকজন আগের হিসাবেই ভ্যাট নিচ্ছেন। ব্যবসা না হলেও হিসাব ঠিক রাখতে হচ্ছে। এটা একরকম অত্যাচার।

একই কথা বলেন, রাজধানীর নিউমার্কেটের অপর ব্যবসায়ী আব্দুল্লাহ। তিনি বলেন, আমার শাড়ির দোকান। ব্যবসা বন্ধ। সাধারণত বিয়ে, গায়ে হলুদ বা বৈশাখ মাসকে কেন্দ্র করে তার পুরো বছরের ব্যবসা হয়। কিন্তু এবার কিছুই নেই। তিনি জানান, ব্যবসা গুটিয়ে যাবার উপক্রম হয়েছে। এ অবস্থায় এনবিআরের আচরণ আরো মানবিক হওয়া উচিত।

বাংলাদেশ জার্নাল/এসএমআর

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত