ঢাকা, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২০, ১৬ কার্তিক ১৪২৭ আপডেট : ১৫ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২১:০৬

প্রিন্ট

করোনায় আক্রান্ত-মৃত্যুর সংখ্যা ওঠানামা করছে

করোনায় আক্রান্ত-মৃত্যুর সংখ্যা ওঠানামা করছে
নিজস্ব প্রতিবেদক

দুই মাস ধরে দেশে করোনা আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা উঠানামা করছে। এই দুই মাসে কোনো দিন আক্রান্তের সংখ্যা কম হলে আরেকদিন মৃত্যুসংখ্যা বাড়ে। আর মৃত্যু সংখ্যা বাড়লে আক্রান্তের সংখ্যা কম হয়। আবার কোনো দিন ‘আক্রান্ত ও মুত্যুর সংখ্যা’- দুটাই কমতে দেখা গেলেও করোনাভাইরাস স্থিতিশীল অবস্থা নেই। তবে দুই মাসে ঢাকা, রাজশাহী, রংপুর ও খুলনা বিভাগে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে। আর চট্টগ্রাম, বরিশাল ও সিলেট বিভাগে মৃত্যু সংখ্যা কমেছে। কিন্তু গত এক মাসে রাজধানীতে করোনা আক্রান্ত রোগী ৫৬ শতাংশ বেড়েছে।

যদিও রাজধানীতে করোনা আক্রান্ত রোগী বৃদ্ধি পেলেও গত দুই মাসে ঢাকা বিভাগে মৃত্যু কিছুটা বেড়েছে।

তবে দেশে শীতকালে করোনার প্রকোপ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাই করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে এবং চিকিৎসার ব্যাপারে সরকার একটি রোডম্যাপ তৈরি করেছে।

এবিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, শীতকালে কোভিড-১৯ পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। এই মুহূর্ত থেকেই তা মোকাবিলায় প্রস্তুতি গ্রহণ করতে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোববার দেয়া বিজ্ঞপ্তির তথ্যানুযায়ী, সর্বশেষ গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হয়ে দেশে ৩২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে ভাইরাসটিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল পাঁচ হাজার ১৬১ জনে। আর এই সময়ের মধ্যে নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছেন এক হাজার ২৭৫ জন।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, করোনা শনাক্তে গত ২৪ ঘণ্টায় ১০৪টি পরীক্ষাগারে ১০ হাজার ৬৮৫টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এসব পরীক্ষায় এক হাজার ২৭৫ জনের করোনা শনাক্ত হয়। ফলে দেশে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল তিন লাখ ৫৯ হাজার ১৪৮ জনে। এ পর্যন্ত মোট নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯ লাখ ৯ হাজার ৪৬০টি।

বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন আরো এক হাজার ৭১৪ জন। এ নিয়ে মোট সুস্থ রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল দুই লাখ ৭০ হাজার ৪৯১ জনে।

গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষার তুলনায় রোগী শনাক্তের হার ১১ দশমিক ৯৩ শতাংশ এবং এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষার তুলনায় রোগী শনাক্তের হার ১৮ দশমিক ৮১ শতাংশ। রোগী শনাক্তের তুলনায় সুস্থতার হার ৭৫ দশমিক ৩১ এবং মৃত্যুর হার এক দশমিক ৪৪ শতাংশ।

দেশে এ পর্যন্ত মারা যাওয়া ৫ হাজার ১৬১ জনের মধ্যে ৩ হাজার ৯৯৬ জনই পুরুষ এবং ১ হাজার ১৬৫ জন নারী। তাদের মধ্যে ২ হাজার ৬১৭ জনের বয়স ছিল ৬০ বছরের বেশি। এছাড়া ১ হাজার ৩৯৫ জনের বয়স ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে, ৬৬৯ জনের বয়স ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে, ২৯৬ জনের বয়স ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে, ১১৮ জনের বয়স ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে, ৪২ জনের বয়স ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে এবং ২৪ জনের বয়স ছিল ১০ বছরের কম।

এর মধ্যে ২ হাজার ৫৬৬ জন ঢাকা বিভাগের, ১ হাজার ৬৫ জন চট্টগ্রাম বিভাগের, ৩৩৭ জন রাজশাহী বিভাগের, ৪৩৩ জন খুলনা বিভাগের, ১৮৭ জন বরিশাল বিভাগের, ২২৮ জন সিলেট বিভাগের, ২৩৭ জন রংপুর বিভাগের এবং ১০৮ জন ময়মনসিংহ বিভাগের বাসিন্দা ছিলেন।

দেশে করোনাভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়ে ৮ মার্চ, তা সাড়ে তিন লাখ পেরিয়ে যায় ২১ সেপ্টেম্বর। এর মধ্যে ২ জুলাই ৪ হাজার ১৯ জন কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হয়, যা এক দিনের সর্বোচ্চ শনাক্ত। আর প্রথম রোগী শনাক্তের পর ১৮ মার্চ প্রথম মৃত্যু হয়। ২২ সেপ্টেম্বর সেই সংখ্যা পাঁচ হাজার ছাড়িয়ে যায়। এর মধ্যে ৩০ জুন এক দিনেই ৬৪ জনের মৃত্যুর খবর জানানো হয়, যা এক দিনের সর্বোচ্চ মৃত্যু।

বাংলাদেশ জার্নাল/কেএস/আরকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত