ঢাকা, রোববার, ২৯ নভেম্বর ২০২০, ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৭ আপডেট : ১০ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ২৬ অক্টোবর ২০২০, ২২:১৮

প্রিন্ট

সচিবের স্বেচ্ছাচারিতায় অস্থির স্বাস্থ্যখাত

সচিবের স্বেচ্ছাচারিতায় অস্থির স্বাস্থ্যখাত
নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামী শীতে সারাবিশ্বে করোনাভাইরাসের প্রকোপ আবারও বাড়তে পারে। যাকে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ বলা হচ্ছে। এই ঢেউ মোকাবেলায় প্রয়োজন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং অধিদপ্তরের সমন্বিত উদ্যোগ। তবে স্বাস্থ্য সচিবের একপেশে মনোভাবের কারণে স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এরই মধ্যে সামনে চলে এসেছে মন্ত্রী ও সচিবের সমন্বয়হীনতা।

স্বাস্থ্য সচিব (সেবা) বারবার মন্ত্রীর নির্দেশ উপেক্ষা করে চলেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। যে কারণে মন্ত্রী-সচিব দ্বন্দ্ব এখন প্রকাশ্যে। প্রশ্ন উঠেছে জনপ্রতিনিধি মন্ত্রী বড়, নাকি প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী আমলা বড়? জনপ্রতিনিধিদের জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকতে হয়। আমলাদের তা করতে হয় না। কিন্তু দেখা গেছে করোনার এ সংকটকালে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে আমলার দাপটে মন্ত্রী, জনপ্রতিনিধিরা কোণঠাসা। দেশের স্বাস্থ্য খাতে হাজারো সমস্যা। বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালের কেনাকাটায় দুর্নীতি, অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন দপ্তরের দুর্নীতি অনিয়মের খবর হরহামেশাই সংবাদপত্রে প্রকাশিত হচ্ছে। এদিকে মন্ত্রণালয়ের নজর দেয়ার যেন সুযোগ নেই।

সমপ্রতি রাজধানীতে ‘করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলায় করণীয়’ শীর্ষক সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান হয়। স্বাস্থ্য-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠন, স্বাস্থ্যমন্ত্রীসহ ওই বিভাগের বিভিন্ন বিশেষজ্ঞরা মতামত প্রকাশ করেন। সেখানেও সমন্বিত উদ্যোগের উপর জোর দেয়া হয়। করোনা মোকাবিলায় এই উদ্যোগ নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহল মাঠে নামলেও তা সম্পূর্ণ পণ্ড হতে চলেছে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিবের একক খবরদারির কারণে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরে মন্ত্রী ও সচিবের মধ্যে স্মরণকালের চরম সমন্বয়হীনতায় দেশের স্বাস্থ্য খাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবিয়ে তুলেছে সচেতন মহলকে। এরই মাঝে সরকারি হাসপাতালগুলোর সেবার মান নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, স্বাস্থ্য বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পদে যেখানে স্বাস্থ্য ক্যাডাররা নিয়োগ পেতেন, সেখানে বর্তমান স্বাস্থ্য সচিব বিভিন্ন পদে অন্যান্য ক্যাডার থেকে নিয়োগ দিচ্ছেন। ফলে সৃষ্টি হচ্ছে নানা সমস্যা। এ জাতীয় কর্মকাণ্ডের জন্য স্বাস্থ্য সচিবের একপেশে মনোভাবকে দায়ী করেন সংশ্লিষ্টরা। আর এসব পদক্ষেপের কারণে শুধু চিকিৎসকদের মধ্যেই নয়, সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরের মধ্যেও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। স্বাস্থ্য-সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডে তৈরি হচ্ছে নানা সংকট। যেখানে পেশাগত চিকিৎসক প্রয়োজন, সেখানে অন্য ক্যাডারের কর্মকর্তা থাকায় আজ হুমকির মুখে স্বাস্থ্য খাতের পুরো প্রক্রিয়াটি।

এদিকে চিকিৎসকদের সংগঠন থেকেও দাবি তোলা হয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে চিকিৎসক পেশাজীবীদের প্রতিনিধি দেয়ার জন্য। তবে সেই দাবিটিও আমলে নেয়া হচ্ছে না।

এ প্রসঙ্গে স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) মহাসচিব অধ্যাপক ডা. এম এ আজিজ সম্প্রতি গণমাধ্যমকে বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে চিকিৎসক পেশাজীবীদের কেউ থাকবেন এই যৌক্তিক দাবি শুধু চিকিৎসকদের নয়, এটা সবার দাবি। যারা এই দাবি মানছেন না, তারা নিশ্চয়ই কারও দ্বারা প্রভাবিত কিংবা ব্যক্তিগত কোনো উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য এসব করছেন বলে মনে হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) মহাসচিব ডা. এহতেশামুল হক চৌধুরী দুলাল বলেন, এই অনভিপ্রেত ঘটনাই এখন সংশ্লিষ্ট বিভাগে ঘটে চলেছে। এটাই নির্মম সত্য। মন্ত্রী বিষয়টি প্রথমে অবগত ছিলেন না। তিনি পরে অবগত হলেও তার করণীয় নিয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। তবে যা ঘটছে, এটা কোনোভাবেই কাম্য নয় এবং এটা কোনো স্বাভাবিক ঘটনাও নয়, এটা হলো আমলাতান্ত্রিক আগ্রাসন।

আরো পড়ুন

আমলাতন্ত্রে বন্দি স্বাস্থ্য খাত

বাংলাদেশ জার্নাল/টিআর/আরকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত