ঢাকা, সোমবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১১ আশ্বিন ১৪২৯ আপডেট : ১৮ মিনিট আগে

চোখের যাবতীয় সমস্যায় বিশেষ সেবা

  জার্নাল ডেস্ক

প্রকাশ : ১৭ মে ২০১৮, ১৬:৪৪

চোখের যাবতীয় সমস্যায় বিশেষ সেবা
জার্নাল ডেস্ক

পরিচিতি

অন্ধত্ব দূর করাসহ চোখের সব চিকিৎসায় ১৯৬০ সালে ইস্পাহানি ইসলামিয়া আই ইনস্টিটিউট অ্যান্ড হাসপাতালের যাত্রা শুরু। অলাভজনক ও আর্তমানবতার কল্যাণের উদ্দেশ্যে সমাজসেবী ও ইস্পাহানি গ্রুপের কর্ণধার এমএ ইস্পাহানি এটি প্রতিষ্ঠা করেন। ঢাকার ফার্মগেটে অবস্থিত এ হাসপাতাল সময়ের পরিবর্তনে এখন চোখের সেবায় বিশেষায়িত চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত আউটডোরে এবং হাসপাতালের কার্যক্রম চলে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত। ২২০ শয্যার এই হাসপাতালে মোট কেবিন আছে ১১টি। সার্বিক দেখাশোনার জন্য চিকিৎসক হিসেবে নিয়োজিত আছেন ৮০ জনের অধিক। শুক্রবার ও সরকারি ছুটির দিন ছাড়া বাকি সব দিনই খোলা থাকে। নিতান্ত গরিব ও অসহায় রোগীদের জন্য প্রতিষ্ঠানটির সমাজসেবা বিভাগ সহায়তা করে। আবেদন ও সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজন অনুযায়ী চশমা, নগদ টাকা, খাদ্য, বস্ত্র, যাতায়াত খরচ, অপারেশন খরচ দেওয়ার ব্যবস্থাও করা হয়ে থাকে। চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি রয়েছে শিক্ষা ইনস্টিটিউট, দেশের বাইরে থেকেও এখানে পড়াশোনা ও প্রশিক্ষণে শিক্ষার্থীরা আসেন।

যেসব চিকিৎসা পাবেন

সাধারণ নিম্নবিত্তের জন্য রয়েছে সাধারণ ওপিডি বিভাগ, আর যারা সময় বাঁচিয়ে দ্রুত সেবা নিতে চান তাদের জন্য প্রাইভেট ওপিডি। সাধারণ ওপিডিতে ৫০ টাকায় টিকিট কেটে সেবা পাবেন, আর প্রাইভেট ওপিডিতে টিকিটের দাম নেবে ৬০০ টাকা। তবে সেবার মানে কোনো বৈষম্য থাকে না বলে জানান প্রতিষ্ঠানটির প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. শহিদুজ্জামান। তার ভাষায়, দেশের প্রত্যন্ত এলাকা থেকে আগত নিম্ন আয়ের মানুষ এখানে সেবা নিতে আসছেন, তাদের জন্য মাত্র ৫০ টাকায় আমরা সর্বোচ্চ সেবাটাই দিয়ে যাচ্ছি। অনেক ক্ষেত্রে এ প্রতিষ্ঠান বিনামূল্যে চোখের অপারেশনের ব্যবস্থা করে বলেও জানান এই কর্মকর্তা। এ ছাড়া চোখের সব ধরনের সমস্যার সেবায় বিশেষ প্যাকেজের ব্যবস্থা রয়েছে ইস্পাহানি ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালে, যেখানে ন্যূনতম ১৫ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকায় চিকিৎসা পাওয়া যাবে। চোখের অপারশেনর মধ্যে রয়েছে ছানি অপারেশন, ডেসিয়ার অপারেশন, কর্নিয়া অপারেশন, রেটিনা অপারেশন, অর্ডবিট অপারেশন, টমা অপারেশন, নেত্রনালি অপারেশন। এ ছাড়া এ হাসপাতালে চোখের যাবতীয় রোগের টেস্ট করার সুবিধা রয়েছে। যেমন- প্রিলাছিক, সেক, হামপ্রে, সিইপি, এফএফএ, ইসিজি, সিসিটি, ব্লাড, ওসিটি ও ইউরিনসহ অন্যান্য।

সেবাপ্রক্রিয়া

ইস্পাহানি ইসলামিয়া আই ইনস্টিটিউট অ্যান্ড হসপিটাল থেকে চিকিৎসা নিতে চাইলে প্রতিষ্ঠানটির মূলগেট দিয়ে প্রবেশ করে ১৬ নম্বর কাউন্টার থেকে ৫০ টাকা দিয়ে টিকিট কেটে বহির্বিভাগের চিকিৎসকের পরামর্শ পাবেন। প্রাথমিক চিকিৎসায় ভর্তি বা অপারেশনের প্রয়োজন হলে চিকিৎসক রোগীকে ভর্তির পরামর্শ দেন। তখনই রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। ভর্তির জন্য আলাদা ফি লাগে না। আর এ ক্ষেত্রে আগে ভবনের নিচে অবস্থিত হেল্প ডেস্ক থেকে সব তথ্য জেনে নিতে হবে। ভর্তি করার জন্য হাসপাতালের সি ব্লকে যোগাযোগ করতে হয়। হাসপাতালের নির্ধারিত ফরম পূরণ করে রোগী ভর্তি করা হয়। জ্যেষ্ঠ চিকিৎসকরা প্রাইভেট আউটডোরে রোগী দেখেন। আর রোগী নিজেই ঠিক করতে পারেন কোন চিকিৎসককে তিনি দেখাবেন। প্রাইভেট আউটডোরটি পুরোপুরি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত, তুলনামূলক কম ভিড় থাকে। প্রাইভেট হোক আর সাধারণ আউটডোর হোক একটি ফরম বাংলা বা ইংরেজিতে পূরণ করে টিকিট সংগ্রহ করতে হবে।

বিশেষত্ব

ইস্পাহানি চক্ষু হাসপাতাল তাদের মিশন, ভিশন আর ভ্যালুস মেনে অন্ধত্ব মোচনে ভিশন-২০২০ পূরণে কাজ করে যাচ্ছে বলে দাবি করলেন দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তারা। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এখানকার চিকিৎসার ক্ষেত্রে ভারতের হায়দরাবাদের এলভি প্রাসাদ আই ইনস্টিটিউট, মাদ্রাজের অরবিন্দ আই হাসপাতাল, শঙ্কর নেত্রালয়সহ বিশ্বের খ্যাতিসম্পন্ন চক্ষু সেবাকেন্দ্রকে অনুসরণ করা হয়। প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. শহিদুজ্জামান বলেন, এই হাসপাতালকে মানবতার সর্বোচ্চ সেবায় কাজে লাগাতে প্রতিনিয়তই চেষ্টা চালানো হচ্ছে। সেবার মানসিকতা নিয়ে এখানকার সব চিকিৎসক সব সময় কাজ করে যাচ্ছেন। ইস্পাহানি চক্ষু হাসপাতালে যে কোনো রোগীর সঙ্গে আমরা গেস্ট ম্যানেজার সম্বোধন করছি, অর্থাৎ যারা এখানে সেবা নিতে আসছেন তারা সবাই আমাদের অতিথি। এ জন্য সেই সেবাটাই আমরা দেওয়ার চেষ্টা করছি, যেটা আশা করে মানুষ এখানে আসবে।

খরচ

মোট ১৫টি বিভাগ দ্বারা পরিচালিত এ হাসপাতাল থেকে সব মিলিয়ে চোখের ১৩টির অধিক রোগের চিকিৎসাসেবা পাওয়া যাবে। বিশেষত যে কটি শাখায় চিকিৎসা হয় সেগুলো হচ্ছে- গ্লুকোমা, রেটিনা, কর্নিয়া, ক্যাটার‌্যাক্ট, লোভিশন, ইনজুরি, শিশু চক্ষুরোগ ইত্যাদি। বিশেষ করে চোখের কর্নিয়া, রেটিনা অপারেশনে হাসপাতালটি ইতোমধ্যে বিশেষ খ্যাতি অর্জনে সক্ষম হয়েছে। চিকিৎসা খরচের শুরুতে আসে ওয়ার্ড কিংবা কেবিনে থাকা খরচের প্রসঙ্গটি। তুলনামূলক কিছুটা ভালোভাবে থাকতে চাইলে কেবিনের জন্য ন্যূনতম ভাড়া গুনতে হবে ১৭৫০ টাকা, আর ভিআইপি কেবিন নিতে চাইলে সর্বোচ্চ সাড়ে ৫ হাজার টাকার মধ্যে পাওয়া যাবে। বহির্বিভাগে প্রতিদিন গড়ে ১৫শ রোগীর বেশি এখান থেকে সেবা পাচ্ছেন। যদিও হাসপাতালটিতে চিকিৎসক কম থাকায় রোগীদের ভিড় একটু বেশি থাকে অধিকাংশ সময়। চোখের বিভিন্ন ধরনের সমস্যার মধ্যে অন্যতম কর্নিয়া সংযোজন, প্রতি মাসে গড়ে ২০টি কর্নিয়া সংযোজন করছে প্রতিষ্ঠানটি। এতে সব মিলিয়ে খরচ পড়ে ৩০০০ থেকে ১৫০০ টাকা। অন্যান্য জটিল অপারেশনও করা হয় এখানে। সে ক্ষেত্রে রোগের ধরনের ওপর নির্ভর করে খরচের বিষয়। রেটিনাল ডিটাচমেন্ট সার্জারির মাধ্যমে ডায়াবেটিস রোগীদের চোখের ভেতর ইনজেকশন দেওয়া হয়। প্রতিদিন এখানে ৩-৪টি ট্যারা-বাঁকা চোখ সার্জারির মাধ্যমে সোজা করা হয়। এ সেবায় খরচ লাগে ৮ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকার মতো। এখান রেটিনা অপারেশনে সর্বোচ্চ খরচ ৩৫ হাজার টাকা।

চিকিৎসা পাওয়া সেবাপ্রার্থীরা যা বললেন

সাতক্ষীরা থেকে শেখ নাসিম উদ্দীন এসেছেন স্ত্রীর চোখের ডাক্তার দেখাতে। তিনি বলেন, এর আগে এখানে এসেছিলাম স্ত্রীর চোখের অপারশনের সময়, এবার চেকআপ করানোর জন্য আসা। এ হাসপাতালের সেবা তুলনামূলক দেশের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের চেয়ে বেশ ভালো। ৪ বছরের সন্তানকে নিয়ে চাঁদপুর থেকে আসা মো. ফারুক হোসেনের সঙ্গে কথা হলো। তিনিও এ সেবা প্রতিষ্ঠানের সেবা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করলেন। তার ভাষায়, ডাক্তারদের ব্যবহার আর চিকিৎসার মান ভালো লেগেছে। এখন পর্যন্ত আমার সন্তানের চোখের সমস্যায় যতটুকু সেবা পেয়েছি, তাতে আমরা খুশি।

যেভাবে যেতে হবে

প্রতিষ্ঠান ভবনটি ৩ তলাবিশিষ্ট। ভবনের এক ফোর থেকে অন্য ফোরে যাতায়াতের জন্য রয়েছে সিঁড়ি এবং লিফট। লিফটটি ভবনের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে অবস্থিত। ফার্মগেট কৃষি বিপণন অধিদপ্তর থেকে ৫০ গজ দক্ষিণ দিকে ইস্পাহানি ইসলামিয়া আই ইনস্টিটিউট অ্যান্ড হসপিটালটি অবস্থিত। ঠিকানা শেরেবাংলা নগর, ফার্মগেট, খামারবাড়ি, ঢাকা। ফোনে যোগাযোগ করতে চাইলে ৮১৪১৯৬৯, ৯১১৯৩১৫। যে কোনো এলাকা থেকে ফার্মগেটে পৌঁছে সংসদ ভবন অভিমুখেই হাসপাতালটি অবস্থিত। ঢাকার যে কোনো রুটের বাস বা সিএনজিতে করে এখানে আসা যাবে।

ওষুধ ও চশমার দোকান

হাসপাতালটির নিজস্ব ওষুধের দোকান রয়েছে। রয়েছে চশমার দোকানও। ওষুধের দোকানটি হাসপাতালের নিচতলায় উত্তর-পশ্চিম কোণে অবস্থিত। প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত এটি খোলা থাকে। এখানে দেশি-বিদেশি সব ধরনের ওষুধ পাওয়া যায়। চশমা বিভাগ খোলা থাকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত।

পার্কিং

হাসপাতালের ঠিক পেছনের অংশে সব ধরনের

গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা রয়েছে। মোটরসাইকেল

কিংবা ব্যক্তিগত প্রাইভেট কার রাখার জন্য টিকিট কাটতে হবে। এ জন্য আলাদা নিরাপত্তাকর্মীরা নিয়োজিত রয়েছে।

  • সর্বশেষ
  • পঠিত