আবারও সূর্যের পাশ দিয়ে উড়ে গেল পার্কার সোলার প্রোব
জার্নাল ডেস্ক
প্রকাশ : ১৫ জুন ২০২৬, ১৮:২৯

তারার রহস্য উন্মোচনে সূর্যের আরও একটি সফল প্রদক্ষিণ সম্পন্ন করেছে নাসার পার্কার সোলার প্রোব।
২০২৪ সালের নিজস্ব গতি ও দূরত্বের রেকর্ড স্পর্শ করার পাশাপাশি প্রোবটির হিট শিল্ড ও ভেতরের তাপমাত্রা স্থিতিশীল রয়েছে, যা এর চমৎকার কার্যসক্ষমতারই প্রমাণ বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি সংবাদের সাইট এনগ্যাজেট।
এ সপ্তাহে সূর্যের পাশ দিয়ে আরও এক সফল পরিভ্রমণ সম্পন্ন করেছে সোলার প্রোবটি। এ সময় প্রোবটি সূর্যের পৃষ্ঠ থেকে কেবল ৩৮ লাখ মাইল দূরত্বে অবস্থান করছিল এবং এর গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৪ লাখ ৩০ হাজার মাইল।
এবারেরটি ছিল সূর্যের কাছাকাছি পার্কারের ২৮তম ফ্লাইবাই বা প্রদক্ষিণ, যা ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে প্রথমবার গড়া এর নিজস্ব গতি ও দূরত্বের রেকর্ডকে আবারও স্পর্শ করেছে।
এরপর থেকে এ নিয়ে মোট পাঁচবার প্রোবটি এ একই মাইলফলক স্পর্শ করল। ৩ জুন প্রোবটি সূর্যের দিকে তার সর্বশেষ যাত্রা শুরু করেছে এবং বৃহস্পতিবার পৃথিবীতে ‘বিকন টোন’ বা সংকেত পাঠিয়ে নিয়ন্ত্রণকারী দলকে নিশ্চিত করেছে, প্রোবটি সম্পূর্ণ সুরক্ষিত ও সচল রয়েছে।
আট বছর ধরে সূর্যকে নিয়ে গবেষণা করে আসছে পার্কার সোলার প্রোব এবং ধীরে ধীরে তা সূর্যের পৃষ্ঠের আরও কাছাকাছি এগিয়ে যাচ্ছে। ২০১৮ সালে উৎক্ষেপণের পর সেই বছরের শরতেই প্রোবটি প্রথমবার সূর্যের সবচেয়ে কাছাকাছি পৌঁছায়।
ওই সময় সূর্যের পৃষ্ঠ থেকে ১ কোটি ৫০ লাখ মাইলের মধ্যে চলে এসেছিল প্রোবটি। প্রথম প্রদক্ষিণের সময় পার্কার ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ২ লাখ ১৩ হাজার ২০০ মাইল গতিবেগ পেয়েছিল।
সূর্যের নিকটবর্তী অঞ্চলের চরম প্রতিকূল পরিস্থিতি, বিশেষ করে প্রোবটি যখন সূর্যের সবচেয়ে কাছে থাকে তখন এর হিট শিল্ড বা তাপ সুরক্ষা বর্মের তাপমাত্রা আনুমানিক ১ হাজার ৭০০ ডিগ্রি ফারেনহাইটে পৌঁছায়।
এরপরও পার্কার বলেছে, এত দীর্ঘ সময় পরেও প্রোবটি বেশ চমৎকারভাবে কাজ করে যাচ্ছে। হিট শিল্ডের নিচে থাকা বিশেষ ‘থার্মাল ব্ল্যাঙ্কেট’ বা তাপ নিরোধক আস্তরণ পরিভ্রমণের সময় প্রোবটির ভেতরের তাপমাত্রা সবসময় একই রকম বা স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করেছে।
‘জনস হপকিন্স অ্যাপ্লাইড ফিজিক্স ল্যাবরেটরি’র পার্কার সোলার প্রোব মিশনের সিস্টেম ইঞ্জিনিয়ার জন উইরজবার্গার বলেছেন, “তাপমাত্রার এ ধারাবাহিকতা বা স্থিতিশীলতাই মহাকাশযানটির সুস্থতার বড় প্রমাণ। বিষয়টি আমাদের নিশ্চিত করেছে, হিট শিল্ডটি ক্ষয়ে বা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে না। কারণ, এটা ফেটে বা দুর্বল হয়ে গেলে তবে আরও বেশি তাপ ভেতরে ঢুকে পড়ার কারণে ভেতরের তাপমাত্রা ক্রমশ বাড়তে থাকত।”
পার্কার সোলার প্রোবটি সৌরঝড় ও সূর্যের সার্বিক কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণ করছে, যা সূর্যের ১১ বছরের চক্রের সঙ্গে পরিবর্তিত হয়। প্রোবটি প্রথম সূর্যের কাছে পৌঁছানোর সময় সৌরচক্রের শান্ত অবস্থা বা ‘সোলার মিনিমাম’ দশা চলছিল।
এরপর পার্কার সেখানে এত দীর্ঘ সময় ধরে অবস্থান করেছে যে, সূর্যের সবচেয়ে সক্রিয় অবস্থা বা ‘সোলার ম্যাক্সিমাম’ দেখার সুযোগ পেয়েছে, যা ২০২৪ সালে নিশ্চিত করা হয়েছিল।
এ সময়ে সৌর ক্রিয়াকলাপ সর্বোচ্চ চূড়ায় পৌঁছায়, ফলে সৌর কলঙ্ক বেড়ে যায় পায় এবং সৌর শিখা ও করোনাল মাস ইজেকশনের মতো শক্তিশালী ঘটনার জন্ম হয়।
সূর্যের এ অতি সক্রিয় রূপ এখন পরবর্তী ধাপে প্রবেশ করার সঙ্গে সঙ্গে সৌর ক্রিয়াকলাপগুলো আবারও ধীরে ধীরে কমতে শুরু করবে।
পার্কার প্রোবটি এ পুরো মহাজাগতিক রূপান্তরের একদম সম্মুখ সারিতে আসন গেড়ে বসেছিল, যা থেকে এমন কিছু অভূতপূর্ব তথ্য ও উপাত্ত সংগ্রহ করেছে, যা আমাদের তারাকে আরও গভীরভাবে বুঝতে ও মহাকাশের আবহাওয়ার ওপর এর প্রভাব সম্পর্কে জানতে সাহায্য করবে।
বাংলাদেশ জার্নাল/এসআইপি










