প্রশ্ন তুলেছিলেন গ্রকের নিরাপত্তা নিয়ে, হয়েছেন ছাঁটাই
জার্নাল ডেস্ক
প্রকাশ : ১৩ জুন ২০২৬, ১৭:১৩

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই চ্যাটবট গ্রকের নিরাপত্তা ও মানবজাতির জন্য এর ঝুঁকি নিয়ে ‘উদ্বেগ প্রকাশ করায়’ চাকরি হারাতে হয়েছে ইলন মাস্কের কোম্পানি এক্সএআইয়ের এক শীর্ষ প্রকৌশলীকে।
মঙ্গলবার ক্যালিফোর্নিয়ার আদালতে দায়ের করা এক মামলায় সাবেক ওই প্রকৌশলী দাবি করেছেন, চ্যাটবটটিতে নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা বসানোর চেষ্টা করায় তাকে অন্যায়ভাবে বরখাস্ত করেছে মাস্কের কোম্পানিটি।
স্পেসএক্সের মেগা আইপিও চালুর ঠিক আগমুহূর্তে এ মামলা ও গ্রকের মাধ্যমে লাখ লাখ আপত্তিকর ডিপফেইক ছবি তৈরির বৈশ্বিক তদন্ত মাস্কের প্রযুক্তি সাম্রাজ্যকে নতুন এক বিতর্কের মুখে ফেলল বলে প্রতিবেদনে লিখেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান।
ক্যালিফোর্নিয়ার এক আদালতে ডেভিন কিম নামের ওই প্রকৌশলী এ মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় তার দাবি, এক্সএআইয়ের তৈরি চ্যাটবট গ্রকের উন্নয়নে কিছু নিরাপত্তামূলক বিধিনিষেধ বসানোর চেষ্টার কারণেই তিনি কোম্পানির শীর্ষ নেতৃত্বের রোষানলে পড়েছেন।
মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে, “কিম বারবার অভিযোগ করেছিলেন, এক্সএআই এআইয়ের নিরাপত্তাকে, বিশেষ করে গ্রকের নিরাপত্তার বেলায় কোম্পানিটি অগ্রাধিকার দিতে ব্যর্থ হচ্ছে। ফলে সমাজে বৈষম্য ছড়ানো থেকে শুরু করে গণবিধ্বংসী অস্ত্রের বিস্তার ঘটানোর মতো মারাত্মক বেআইনি কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়তে পারে কোম্পানিটি।”
কিমের দায়ের করা এ মামলার বিষয়ে গার্ডিয়ানের মন্তব্যের অনুরাধে সাড়া দেয়নি এক্সএআই ও স্পেসএক্স।
কিমের মামলাটি দায়ের করার দিনই কানাডার এক সরকারি নজরদারি সংস্থা প্রতিবেদনে লিখেছে, “এক্সএআইয়ের তৈরি গ্রক দেশটির প্রাইভেসি আইন লঙ্ঘন করেছে।”
চ্যাটবটটিতে এমন এক ইমেজ-জেনারেশন বা ছবি তৈরির টুল চালু করা হয়েছিল, যার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা সম্মতি ছাড়াই অন্যের আপত্তিকর ও যৌন উদ্দীপক ডিপফেইক’ বা নকল ছবি তৈরি ও শেয়ার করতে পারছিল।
এ বিষয়ে এ বছরের জানুয়ারিতে কানাডার প্রাইভেসি কমিশনার ফিলিপ ডুফ্রেসনে আনুষ্ঠানিক এক তদন্ত শুরুর পর এক্সএআই কিছু পরিবর্তন আনার ঘোষণা দিয়েছে। ফলে গ্রক এখন আর কোনো ব্যক্তির ছবিতে আপত্তিকর পোশাক বা খোলামেলা রূপ দেওয়ার অনুমতি দেয় না।
গ্রকের মাধ্যমে তৈরি এমন আপত্তিকর কনটেন্টের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া দেশের তালিকায় ব্রিটেন ও কানাডার মতো আরও অনেক দেশের নামও যোগ হচ্ছে।
এদিকে, গত সপ্তাহে এআইয়ের সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে কাজ করা অলাভজনক সংগঠন ‘সেন্টার ফর এআই সেইফটি’ ঘোষণা করেছে, তারা কিমকে তাদের প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিযুক্ত করেছে।
২০২৩ সালে এক্সএআই প্রতিষ্ঠা করেছিলেন বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি ইলন মাস্ক। ওই সময় তিনি দাবি করেছিলেন, এটাই হবে ওপেনএআইয়ের চেয়ে ‘নিরাপদ বিকল্প’।
এক দশকেরও বেশি সময় আগে ওপেনএআই প্রতিষ্ঠাতেও মাস্কের ভূমিকা ছিল। তবে মানবজাতির কল্যাণে কাজ করার মূল লক্ষ্য থেকে ওপেনএআই সরে আসার অভিযোগে মাস্কের করা এক মামলা গেল মাসে আদালত খারিজ করে দিয়েছে।
নতুন এ মামলার বিবরণ অনুসারে, ২০২৪ সালে এক্সএআইয়ের শুরুর দিকের কর্মী হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন কিম। যোগদানের কেবল কয়েক মাসের মধ্যেই তাকে ‘গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্বস্থানীয় পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছিল’।
মামলার এজাহারে কিম বলেছেন, মাস্ক নিজে আশা করেছিলেন, এক্সএআই উপযোগী নিরাপত্তা পরীক্ষা ও প্রক্রিয়া মেনে চলবে। তবে কিমের তত্ত্বাবধায়ক ও এক্সএআইয়ের সহ-প্রতিষ্ঠাতা জিমি সেসব নির্দেশনাকে তোয়াক্কা করেননি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালুর বিষয়ে কিমের জোরালো দাবি ‘সরাসরি বাতিল করেছেন’।
কিমের দাবি, গেল সেপ্টেম্বরে এক দিনে কোম্পানির শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে এআইয়ের নিরাপত্তা নিয়ে তার এক প্রেজেন্টেশনে কথা ছিল। কিন্তু এর ঠিক আগমুহূর্তে জিমি তাকে ‘আকস্মিক ও অন্যায়ভাবে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছেন’।
ক্যালিফোর্নিয়ার আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে এ মামলায় এক্সএআই ও স্পেসএক্সের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক আচরণ ও বেআইনিভাবে চাকরিচ্যুতির অভিযোগ এনে ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন কিম।
মাস্কের স্পেসএক্সসহ অন্যান্য কোম্পানি দীর্ঘদিন ধরেই নানা নিরাপত্তা ঘাটতির অভিযোগে জর্জরিত। যার মধ্যে রয়েছে কর্মীদের কর্মক্ষেত্রের ঝুঁকি, স্বয়ংক্রিয় গাড়ি চালনা প্রযুক্তির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ ও চ্যাটবটের বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিরুদ্ধে হওয়া মামলা।
বাংলাদেশ জার্নাল/এসআইপি










