স্থানীয়রা না থাকলে ঘটনা অন্যরকম হতে পারত:নাঈম হাসান
জার্নাল ডেস্ক
প্রকাশ : ১৩ জুন ২০২৬, ১৯:৪৯

নগরীর লালখান বাজার মোড়ের যে জায়গাটায় পুলিশ সদস্যদের হাতে মারধরের শিকার হয়েছেন, সেখানে স্থানীয়রা জড়ো না হলে অন্যরকম কিছু ঘটতে পারত বলে মনে করেন ক্রিকেটার নাঈম হাসান।
শনিবার (১৩ জুন) বিকালে নগরীর বহদ্দারহাটের ফরিদারপাড়া এলাকায় নিজ বাসায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নাঈম হাসানকে বেশ বিমর্ষ দেখা যায়।
দুয়েক মিনিট কথা বলার পর জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসান বলেন, “আমি এখন চাই একটু একা থাকতে। কালকে সারারাত ঘুমাই নাই। এখন আমাকে একটু স্পেস দিলে ভালো হয়।”
এর আগে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হওয়ার কারণ জানিয়ে নাঈম বলেন, “আমি এখানে এসেছি একটা বিষয় জানানোনর জন্য। কাল রাতে যে ভাইয়াগুলো অনেকে ছিল, প্রায় ১০০ জন বা ১২০ জনের মতো। ওদেরকে ‘স্পেশালি থ্যাংকস’।
“ওরা না থাকলে ঘটনাটা অন্য রকম হতে পারত। যখন আমাকে হেনস্থা করছিল, নিয়ে যাচ্ছিল, তখন আমি বলেছি, ভাইয়া আপনারা আসেন। ওরা আমার সঙ্গে গেছে বিধায় অন্য কিছু করার চেষ্টা করলেও পারে নাই।”
শুক্রবার রাতে ঢাকা থেকে ফিরে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় চড়ে নিজ বাড়ির দিকে যাচ্ছিলেন জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসান।
নাঈমের অভিযোগ, নগরীর লালখান বাজার মোড়ে অটোরিকশাটি থামিয়ে তাকে মারধর করেন পুলিশ সদস্যরা। এসময় তাকে অটোরিকশায় করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়।
স্থানীয় লোকজন জড়ো হয়ে পুলিশকে জানায়, তিনি ক্রিকেটার নাঈম হাসান। এরপরও পুলিশ তাকে ছাড়েনি। পরে তাকে নগরীর খুলশী থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড সভাপতি তামিম ইকবাল ও পরিচালক ইসরাফিল খসরুর ফোন পেয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সেখানে যান।
রাতের ঘটনার বিষয়ে নাঈম হাসান শনিবার বিকালে সাংবাদিকদের বলেন, “মেইনলি হলো উনি (পুলিশ) আমাকে সিএনজির ভেতর তুলতে চাইছে, তাই আমি অনেক ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম।”
এই ঘটনায় জড়িতদের বিষয়ে নাঈম বলেন, “সর্বোচ্চ শাস্তি আমি দাবি করব। যেটা আইনগতভাবে আসবে। যেন ভবিষ্যতে মানুষের সঙ্গে এরকম না হয়।
“আজকে যদি আমি স্টেপটা না নিই, কালকে সাধারণ মানুষের সঙ্গে হলে কেউ জানবে না। আজকে যদি স্টেপটা নিই, হয়ত ১০টা মানুষের উপকার হবে; দেশের জন্য ভালো হবে।”
অটোরিকশা থামিয়ে তল্লাশীর বিষয়ে তিনি বলেন, “কোনো নিউজ (তথ্য) আসতেই পারে। আপনার তো একটা রাইট ওয়ে আছে। যদি ধরেন একটা নিউজ আসে, যে এরকম আসতেছে। তো আপনি ধরে কী করবেন? দাঁড়া করাবেন, জিজ্ঞেস করবেন, আমার একটা নিউজ আছে ব্যাগ চেক করব। অবশ্যই চেক করার রাইট আছে, হান্ড্রেন্ড পারসেন্ট। জিনিসটার তো একটা ওয়ে আছে।
“উনি যদি আমাকে বলতেন, আমি চেক করতে দিতাম। উনি চেক করেন নাই। ওখানে আমি সিএনজি থেকে নামছিলাম। পরে আমাকে বলছে, সিএনজিতে ওঠো। আমি মনে করছি, চলে যাওয়ার জন্য আমাকে উঠতে বলছে। আমি উঠার সঙ্গে সঙ্গে উনি ঢুকে আমার গলা চেপে ধরবে, এটা আমি জানতাম না। তখন আমি খুব ভয় পেয়ে গেছি।”
বাংলাদেশ জার্নাল/এসআইপি










