ঢাকা, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ আপডেট : ১ ঘন্টা আগে
শিরোনাম

যুদ্ধ অবসানের চুক্তি হলে খুলে দেওয়া হবে হরমুজ প্রণালি: ইরান

  জার্নাল ডেস্ক

প্রকাশ : ১৩ জুন ২০২৬, ১২:৪৫

যুদ্ধ অবসানের চুক্তি হলে খুলে দেওয়া হবে হরমুজ প্রণালি: ইরান

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধের একটি চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং এর আওতায় কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে তিনি বলেছেন, এই চুক্তির মধ্যে ইরানের ওপর থেকে মার্কিন নৌ-অবরোধ প্রত্যাহারও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা পরবর্তীতে শুরু হবে বলে জানান তিনি।

মার্কিন কর্মকর্তারাও চুক্তির বিবরণ নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, ইরান তাদের প্রতিশ্রুতি কতটা পূরণ করছে, তার ওপরই ইরানের অর্থনৈতিক সুবিধা পাওয়া নির্ভর করবে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানজুড়ে মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার মাধ্যমে এই সংঘাত শুরু হয়েছিল। এর জবাবে ইরান ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন মিত্র দেশগুলোতে পাল্টা হামলা চালায়।

একই সঙ্গে তারা বিশ্ববাজারে তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহনের অন্যতম প্রধান রুট হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। গত এপ্রিলে দুই পক্ষ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলেও চলতি সপ্তাহেও তাদের মধ্যে কয়েক দফা পাল্টাপাল্টি হামলা চলেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার বলেছিলেন, আলোচকেরা একটি ‘দারুণ সমঝোতায়’ পৌঁছেছেন। একারণে তিনি ইরানের ওপর নির্ধারিত কিছু হামলা বাতিল করেছেন এবং খুব দ্রুতই এই চুক্তি সই হতে যাচ্ছে।

শুক্রবার ইরানি গণমাধ্যমে এই চুক্তির সম্ভাব্য ১৪টি শর্ত প্রকাশ করা হয়। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই বিবরণকে সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করে বলেন, এর সাথে সম্মত হওয়া শর্তগুলোর কোনো মিল নেই এবং এর সাথে সত্যের কোনো সম্পর্ক নেই।

এর কয়েক ঘণ্টা বাদে চুক্তির অন্যতম মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক চূড়ান্ত হয়েছে এবং এটি এখন অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাকচি অবশ্য স্বীকার করেছেন, এই চুক্তির সর্বশেষ শর্তগুলো নিয়ে ইরানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা পরিষদের ভেতরে পক্ষে-বিপক্ষে তীব্র মতভেদ রয়েছে।

তিনি বলেন, আপাতত আমাদের অপেক্ষা করতে হবে। যৌথ সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। তবে অনুমোদিত হলে চুক্তিটি দূরবর্তীভাবেই স্বাক্ষর করা হবে।

এই আলোচনায় ইসরায়েল সরাসরি যুক্ত নেই। মার্কিন কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া, ৬০ দিনের আলোচনার মাধ্যমে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সংকটের সমাধান, ইরানের ওপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা ধীরে ধীরে প্রত্যাহার, নির্দিষ্ট শর্ত পূরণের ভিত্তিতে ইরানের জব্দ থাকা সম্পদ ধাপে ধাপে মুক্ত করা এবং মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর অর্থায়ন বন্ধ করার কথা সমঝোতা স্মারকে বলা হয়েছে।

হরমুজ প্রণালি নিয়ে আরাকচি সতর্ক করে বলেন, এটি আর আগের মতো থাকবে না। প্রণালি বন্ধের পর থেকে ইরান সেখানে জাহাজ চলাচলের জন্য নির্দিষ্ট ফি দাবি করছে, যদিও যুক্তরাষ্ট্র এটি সবার জন্য বিনামূল্যে উন্মুক্ত রাখার পক্ষে।

আরাকচিবলেছেন, এই চুক্তির আওতায় ইসরায়েল এবং লেবাননের হিজবুল্লাহর মধ্যকার সংঘাতেরও অবসান ঘটবে। তবে মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, লেবানন এই চুক্তির অংশ নাও হতে পারে।

এদিকে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ইতোমধ্যে জানিয়ে দিয়েছেন, উত্তর ইসরায়েলে হামলা অব্যাহত থাকলে তারা হিজবুল্লাহর ওপর আক্রমণ চালিয়ে যাবেন।

বাংলাদেশ জার্নাল/সিএম

  • সর্বশেষ
  • পঠিত