করোনায় বদলে গেল ভারতীয় ক্রিকেটারের ভাগ্য
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ : ১২ জুন ২০২৬, ১৬:৩১

অস্ট্রেলিয়ায় ঘুরতে গিয়ে যাত্রা শুরু হয়েছিল এক সাধারণ সফর হিসেবে। কিন্তু সেই সফরই এখন বদলে দিয়েছে ভারতীয় ক্রিকেটার নিখিল চৌধুরীর জীবন। ২০২০ সালে কুইন্সল্যান্ডে থাকা চাচার সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে করোনা মহামারির কারণে অস্ট্রেলিয়ায় আটকে পড়েন তিনি। আর সেখান থেকেই শুরু হয় তার ক্রিকেটের ভাগ্য বদলের গল্প।
করোনার লকডাউনে দীর্ঘ সময় সীমান্ত চলাচল বন্ধ হয়ে পড়েছিল। অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থানকালে সেই কঠিন সময়ে স্থানীয় ক্রিকেটে যুক্ত হন নিখিল চৌধুরী। সেই পারফরম্যান্সই ধীরে ধীরে খুলে দেয় বড় মঞ্চের দরজা। তার অলরাউন্ড নৈপুণ্যে মুগ্ধ হন হোবার্ট হারিকেন্সের তৎকালীন বোলিং কোচ জেমস হোপস।
এরপর আর পেছনে তাকাতে হয়নি। বিগ ব্যাশ লিগের দল হোবার্ট হারিকেন্সে সুযোগ পেয়ে টানা তিন মৌসুম খেলেছেন নিখিল। ব্যাটিং-বোলিং দুই বিভাগেই ধারাবাহিক পারফরম্যান্স করে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন তিনি। পরবর্তীতে তাসমানিয়ার হয়ে লিস্ট ‘এ’ ও প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটেও অভিষেক হয় তার।
ঘরোয়া ক্রিকেটে দারুণ পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতায় এবার এসেছে সবচেয়ে বড় স্বীকৃতি। বাংলাদেশের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে অস্ট্রেলিয়া জাতীয় দলে ডাক পেয়েছেন তিনি।
কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে সীমান্ত বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে নিখিল আর ভারতে ফিরতে পারেননি। সেই সময় থেকেই অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করছেন তিনি। বর্তমানে তার অস্থায়ী ভিসার মেয়াদ ২০২৭ সাল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ায় পাঁচ বছরের বেশি বসবাস করায় জাতীয় দলে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছেন এই ভারতীয় বংশোদ্ভূত ক্রিকেটার।
ভারতে জন্ম নেওয়া নিখিল পাঞ্জাবের হয়ে ২০১৭ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে ঘরোয়া ক্রিকেট খেলেছেন। সৈয়দ মুশতাক আলি ট্রফিতে ১২টি টি-টোয়েন্টি এবং বিজয় হাজারে ট্রফিতে দুটি লিস্ট ‘এ’ ম্যাচ খেলেছিলেন তিনি। তবে কখনোই ছিলেন না জাতীয় দলের আলোচনায়। কিন্তু এক করোনো তাকে অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় দলের দরজায় পৌঁছেছে।
টি-টোয়েন্টিতে ৪১ ইনিংসে ২৪ গড়ে ৮৪৫ রান করেছেন নিখিল। বল হাতে শিকার করেছেন ১৬ উইকেট। তবে বাংলাদেশের বিপক্ষে এশিয়ান কন্ডিশনে খেলা থাকায় ভারতীয় এই ক্রিকেটারকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে অস্ট্রেলিয়ার নির্বাচকেরা।
বাংলাদেশ জার্নাল/এসআইপি










