হার্ট অ্যাটাকের আগেই শরীর দেয় ৩০টি সংকেত
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ : ১২ জুন ২০২৬, ১৬:৪৫ আপডেট : ১২ জুন ২০২৬, ১৭:৩৬

হৃদরোগ বিশ্বজুড়ে মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হলেও অনেকেই এর প্রাথমিক লক্ষণগুলো সাধারণ সমস্যা ভেবে এড়িয়ে যান। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হার্ট অ্যাটাক হঠাৎ মনে হলেও শরীর আগে থেকেই একাধিক সতর্কসংকেত দেয়। একাধিক উপসর্গ একসঙ্গে দেখা দিলে বা নতুন কোনো লক্ষণ শুরু হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
হৃদরোগের ঝুঁকি নির্দেশ করে এমন ৩০টি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কসংকেত নিচে তুলে ধরা হলো।
কোনো পরিশ্রম ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে অস্বাভাবিক ক্লান্তি বা দুর্বলতা হৃদপিণ্ডে রক্ত সরবরাহ কমে যাওয়ার ইঙ্গিত হতে পারে। হঠাৎ মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়া হৃদস্পন্দনের অনিয়ম বা গুরুতর অ্যারিদমিয়ার লক্ষণ হতে পারে। অল্প সময়ের মধ্যে অস্বাভাবিক ওজন বৃদ্ধি শরীরে তরল জমার ইঙ্গিত দেয়, যা হৃদযন্ত্র দুর্বল হলে সাধারণত ঘটে।
হৃদযন্ত্র দুর্বল হলে হজমপ্রক্রিয়া ধীর হয়ে যায়, ফলে বমিভাব ও ক্ষুধামান্দ্য দেখা দিতে পারে—যা অনেকে গ্যাস্ট্রিক ভেবে ভুল করেন। হৃদপিণ্ড অনিয়মিতভাবে ধড়ফড় করলে তা হৃদযন্ত্রের বৈদ্যুতিক সিগন্যালের সমস্যার লক্ষণ এবং কিছু ক্ষেত্রে স্ট্রোকের ঝুঁকিও বাড়ায়। সাদা বা গোলাপি কফসহ দীর্ঘস্থায়ী কাশি ফুসফুসে তরল জমার কারণে হতে পারে, যা হৃদযন্ত্রের ব্যর্থতার সংকেত।
শারীরিক পরিশ্রম ছাড়াই হঠাৎ ঠান্ডা ঘাম হওয়া হার্ট অ্যাটাকের গুরুত্বপূর্ণ পূর্বলক্ষণ। হৃদযন্ত্র পর্যাপ্ত রক্ত পাম্প করতে না পারলে মস্তিষ্কে অক্সিজেন কমে গিয়ে মাথা ঘোরা বা ভারসাম্য হারানোর ঘটনা ঘটে। রাতে বারবার ঘুম ভেঙে যাওয়া বা শ্বাসকষ্টে ঘুম ভাঙাও হৃদরোগের ইঙ্গিত বহন করে। গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘস্থায়ী মাড়ির প্রদাহ বা রক্তপাত শরীরে প্রদাহ বাড়িয়ে হৃদরোগের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
ঘুমের মধ্যে অস্বাভাবিক নাক ডাকা বা শ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়া হৃদযন্ত্রের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে। হার্ট অ্যাটাকের অন্যতম পরিচিত লক্ষণ হলো বুকের ব্যথা যা বাম হাত, কাঁধ, ঘাড় বা পিঠে ছড়িয়ে যায়। অল্প কাজেই শ্বাসকষ্ট হৃদযন্ত্র দুর্বলতার স্পষ্ট লক্ষণ। বুকের মাঝখানে চাপ, ভারী অনুভূতি বা জ্বালাপোড়া হার্ট অ্যাটাকের প্রধান সতর্কসংকেত, যা কয়েক মিনিট থেকে দীর্ঘ সময় পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।
হাঁটার সময় উরু বা পায়ে ব্যথা রক্তনালীতে ব্লকের লক্ষণ হতে পারে। ধমনিতে ব্লক থাকলে রক্তপ্রবাহ কমে গিয়ে পায়ে লোম কমে এবং ত্বক ঠান্ডা ও চকচকে হয়ে যেতে পারে। ফুসফুসে তরল জমলে কাশির সঙ্গে গোলাপি বা ফেনাযুক্ত কফ বের হতে পারে। হৃদযন্ত্র দুর্বল হলে শরীরে তরল জমে এবং রাতে তা প্রস্রাবের মাধ্যমে বের হয়, ফলে ঘুম বারবার ভাঙে।
বুকে পূর্ণতা বা অস্বস্তি হার্ট অ্যাটাকের আগাম সংকেত হতে পারে। পুরুষদের ক্ষেত্রে ধমনিতে ব্লকেজ থেকে যৌন অক্ষমতা দেখা দিলে তা হৃদরোগের প্রাথমিক ইঙ্গিত হিসেবে বিবেচিত। রক্তে অক্সিজেন কমে গেলে স্মৃতিভ্রংশ, বিভ্রান্তি বা মনোযোগের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। ঘুমের মধ্যে শ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়া বা স্লিপ অ্যাপনিয়া স্ট্রোক ও হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ায়।
বুক ধড়ফড়, ঘাম ও শ্বাসকষ্টসহ প্যানিক অ্যাটাকের উপসর্গ অনেকটা হার্ট অ্যাটাকের মতোই হয়, তাই সতর্ক থাকা জরুরি। হৃদপিণ্ড জোরে ধড়ফড় করা বা লাফিয়ে ওঠার অনুভূতি অ্যারিদমিয়ার লক্ষণ হতে পারে। বিশ্রামেও শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া হার্ট ফেইলিওরের গুরুতর সংকেত। তীব্র মাথাব্যথার সঙ্গে বমি বা মাথা ঘোরা থাকলে স্ট্রোকের ঝুঁকি থাকতে পারে।
বুকের ব্যথা পিঠ পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়া হার্ট অ্যাটাকের অস্বাভাবিক কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ। শরীরে অতিরিক্ত তরল জমলে পা ও গোড়ালি ফুলে যায়, যা হৃদযন্ত্র দুর্বলতার পরিচিত লক্ষণ। হঠাৎ অতিরিক্ত ঘাম, দুর্বলতা ও শরীর কাঁপাও হৃদরোগের সংকেত বহন করতে পারে। সবশেষে, বুকের চাপ বা অস্বস্তি বারবার বা দীর্ঘ সময় ধরে হতে থাকলে তা হার্ট অ্যাটাকের আগাম সতর্কতা হিসেবে গণ্য করতে হবে।
হৃদরোগের লক্ষণ সবসময় একইভাবে প্রকাশ পায় না। হালকা উপসর্গ দিয়ে শুরু হয়ে তা ধীরে ধীরে গুরুতর আকার নিতে পারে। তাই শরীরের যেকোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তনকে গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া এবং প্রয়োজনে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই জীবন রক্ষার সবচেয়ে কার্যকর পথ।
বাংলাদেশ জার্নাল/এসআইপি










