ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ আপডেট : ২৭ মিনিট আগে
শিরোনাম

শিক্ষায় বরাদ্দ ২ শতাংশে উন্নীত, স্বাগত জানালেন শিক্ষাবিদরা

  জার্নাল ডেস্ক

প্রকাশ : ১১ জুন ২০২৬, ২১:৩৪

শিক্ষায় বরাদ্দ ২ শতাংশে উন্নীত, স্বাগত জানালেন শিক্ষাবিদরা
ছবি: সংগৃহীত

নতুন অর্থবছরের বাজেটে শিক্ষা খাতে বরাদ্দের পরিমাণ বাড়িয়ে জিডিপির ২ শতাংশে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছেন শিক্ষাবিদ ও শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা।

তারা বলছেন, সরকারের এই সিদ্ধান্ত শিক্ষাখাতে ‘আশার সঞ্চারণ’ করেছে। তবে পর্যায়ক্রমে এ বরাদ্দকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি ব্যয়ের যথাযথ তদারকির মাধ্যমে শিক্ষার মানোন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে।

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বৃহস্পতিবার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার যে বাজেট উত্থাপন করেছেন সেখানে শিক্ষাখাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা, যা মোট বাজেটের ১৪ দশমিক ৫৬ শতাংশ এবং জিডিপির ২ শতাংশ।

বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, “আমরা শিক্ষাখাতে সরকারি বিনিয়োগ পর্যায়ক্রমে ও ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি করে জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছি।”

২০২৫-২৬ অর্থবছরে শিক্ষা ও প্রযুক্তিখাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছিল ১ লাখ ১০ হাজার ৬৫৭ কোটি টাকা, যা মোট বাজেটের ১৪ শতাংশ এবং জিডিপির ১.৭৭ শতাংশ।

সংশোধিত বাজেটে শিক্ষাখাতে বরাদ্দ ৮৭ হাজার ২০৬ কোটি টাকায় নামিয়ে আনা হয়েছিল, যা ছিল জিডিপির ১.৩৯ শতাংশ। শিক্ষায় খরচ করা ওই টাকার পরিমাণ ছিল ৭ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকার সংশোধিত বাজেটের ১১.০৭ শতাংশ।

অথচ, আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে একটি দেশের শিক্ষাখাতে জিডিপির ৬ শতাংশ বা বাজেটের ২০ শতাংশ বরাদ্দ পেলে তা আদর্শ ধরা হয়।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক মো. আজম খান গণমাধ্যমকে বলেন, “সরকার তার প্রথম বাজেটেই শিক্ষাখাতে বরাদ্দ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর যে প্রস্তাব করেছে, তা এ খাত সংশ্লিষ্টদের জন্য নতুন আশার সঞ্চার করেছে।

“শুধু মুখের কথায় শিক্ষার মানোন্নয়ন সম্ভব হয় না, তা বাস্তবায়নে রসদও প্রয়োজন। সরকারের এ উদ্যোগ শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা করি।”

শিক্ষা খাতের বরাদ্দ পর্যায়ক্রমে জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যের বিষয়ে অধ্যাপক আজম বলেন, “এ মেয়াদে সরকার যদি সে লক্ষ্য পূরণ করতে পারে, তা শিক্ষাখাতে ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হবে। জিডিপির ৩ শতাংশ পর্যন্তও যদি সরকার এ খাতের বরাদ্দ বাড়ায়, সেটাও কম নয়, তা দিয়ে এ খাতের উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন সম্ভব হবে।”

একই কথা বলেছেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ।

তিনি গণমাদ্যমকে বলেন, “গত কয়েক বছরের অর্থনৈতিক অবস্থা বিবেচনায় সরকার দায়িত্ব নিয়েই যে জিডিপির ৫ শতাংশ শিক্ষা খাতে বরাদ্দ করবে, তা আশা করা অবিচার হবে। তবে শিক্ষা খাতে পর্যায়ক্রমে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বরাদ্দ আসবে, সে আশার সঞ্চার হল।”

শিক্ষার কোন বিভাগে বরাদ্দ কত বাড়ল?

২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য যে বাজেট অর্থমন্ত্রী প্রস্তাব করেছেন, তাতে শিক্ষার দুই মন্ত্রণালয়ে তিন বিভাগে আগের অর্থবছরের চেয়ে ৩৬ হাজার ৬২৮ কোটি টাকা বেশি বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগে মোট ১ লাখ ২২ হাজার ৪৯৫ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরে সংশোধিত বাজেটে এ দুই মন্ত্রণালয়ের তিন বিভাগে মোট ৮৫ হাজার ৮৬৭ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল। আর মূল বাজেটে মোট ৯৫ হাজার ৬৪৪ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার।

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে ৩৫ হাজার ৪০৩ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছিল, সংশোধিত বাজেটে তা ৩১ হাজার ৭১৮ কোটি টাকায় নামিয়ে আনা হয়। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এ মন্ত্রণালয়ে ৪৬ হাজার ৭৩৭ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।

বরাদ্দ বেড়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের জন্যও। নতুন অর্থবছরে এ বিভাগের জন্য ৫৭ হাজার ৩০১ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরে এ বিভাগে ৪৭ হাজার ৫৬৩ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হলেও সংশোধিত বাজেটে তা কমিয়ে ৪১ হাজার ৭৫৩ কোটি টাকায় নামিয়ে আনা হয়েছিল।

কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা খাতের জন্য ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ১৮ হাজার ৪৫৭ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ বিভাগে ১২ হাজার ৬৭৮ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছিল, পরে সংশোধিত বাজেটে তা ১২ হাজার ৩৯৬ কোটি টাকায় নামিয়ে আনা হয়।

নতুন অর্থবছরে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের জন্য ১৩ হাজার ৪৬৬ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ বিভাগে ১০ হাজার ৮৬৬ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হলেও সংশোধিত বাজেটে তা কমে দাঁড়ায় ৬ হাজার ১২১ কোটি টাকায়।

শিক্ষকদের দক্ষতা ও মানবসম্পদ উন্নয়নে জোর

শিক্ষাখাতের বৃদ্ধি পাওয়া বরাদ্দ শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধি, তাদের জীবনমান উন্নয়ন ও নতুন প্রজন্মকে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করতে ব্যয়ের তাগিদ দিয়েছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মো. আজম খান।

তিনি বলেন, “শিক্ষাখাতের অবকাঠামোগত উন্নয়ন অনেক হয়েছে। কিন্তু শিক্ষার মানের উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়নি, উন্নয়ন হয়নি শিক্ষকদের দক্ষতা ও জীবনমানেরও। বৃদ্ধি পাওয়া বরাদ্দের টাকায় শিক্ষকদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে তাদের প্রশিক্ষণে জোর দিতে হবে। তাদের বেতনসহ অন্যান্য সুযোগ সুবিধা বাড়াতে হবে।

“একইসঙ্গে শিক্ষার্থীদের জন্য যথাযথ ল্যাবরেটরি, লাইব্রেরি ইত্যাদির ব্যবস্থা করতে হবে। তাদের দক্ষতা উন্নয়নে জোর দিয়ে তাদের আগামী দিনের যোগ্য মানবসম্পদে পরিণত করতে উদ্যোগ নিতে হবে।”

বরাদ্দের টাকা শিক্ষার মান ও শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে ব্যয়ের পরামর্শ দিয়েছেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী জিন্নাহও।

বরাদ্দ বাড়ানোর রোডম্যাপ ঘোষণা ও ব্যয় তাদরকির তাগিদ

সরকারের প্রথম বাজেটে শিক্ষাখাতে বরাদ্দ বাড়ানোর ঘোষণায় আশাবাদী শিক্ষা নিয়ে কাজ করা উন্নয়ন সংস্থাগুলোর মোর্চা গণসক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী। তিনি আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে এ খাতের বরাদ্দকে জিডিপির ৫ শতাংশে নিয়ে যেতে রোডম্যাপ ঘোষণার তাগিদ দিয়েছেন।

একইসঙ্গে বৃদ্ধি পাওয়া বরাদ্দে ব্যয় তাদারকি করে তার মাধ্যমে শিক্ষার মানোন্নয়ন নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়েছেন তিনি।

রাশেদা কে চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেন, “সরকার শিক্ষাখাতে বরাদ্দ বাড়ানোর কথা বলেছিলো তার প্রতিফলন আমরা তাদের প্রথম বাজেটে দেখলাম। সরকার পর্যায়ক্রমে এ বরাদ্দ জিডিপির ৫ শতাংশে নিয়ে যাওয়ার কথাও বলেছে।

“সেটি একবারে না হলেও কীভাবে শিক্ষাখাতের বরাদ্দ সে পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হবে তার একটা রোডম্যাপ সরকারের করতে হবে। তা না হলেও টাকার অংকে বরাদ্দ বাড়লেও তা ব্যয় হবে না, ব্যয় হলে শিক্ষার মনোন্নয়নের মত আসল কাজে ব্যবহৃত হবে না।”

তিনি বলেন, “এবার যে বরাদ্দ বাড়ানো হল, জবাবদিহিতা ও তদারকির মাধ্যমে তার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে, যাতে শিক্ষার মানোন্নয়নে এ টাকা ব্যয় হয়।”

শিক্ষাক্রম রূপান্তরের উদ্যোগে দায়িত্বশীল নাগরিক গড়ার আশা

বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, শিক্ষার্থীদের ‘আগামী প্রজন্মের দায়িত্বশীল নাগরিক’ হিসাবে গড়ে তুলতে বর্তমান সরকার শিক্ষাক্রমের রূপান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে।

তিনি বলেন, “ফ্যাসিবাদের দীর্ঘ সময়ে ভেঙে পড়া রাষ্ট্রকাঠামোর সবচেয়ে সংকটাপন্ন খাতগুলোর একটি ছিল শিক্ষা। তারুণ্যের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে যে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে আজ আমরা গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে ফিরে এসেছি, সেখানে অবশ্যই আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে শিক্ষার্থীরা সৎ, যোগ্য, দক্ষ এবং দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে।

“মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিক্ষা কারিকুলামকে রূপান্তরের উদ্যোগ গ্রহণ করছেন, যাতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে নৈতিক মূল্যবোধ, সামাজিক দায়িত্ববোধ, নেতৃত্বের গুণাবলি এবং মানবিক চরিত্রের বিকাশ ঘটে। আমরা শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের জন্য এমন পরিবেশ করতে চাই যাতে তারা আধুনিক শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও সুযোগ-সুবিধার মাধ্যমে নিজেদের সর্বোচ্চ সম্ভাবনা বিকশিত করতে পারে।”

অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকার শিক্ষক্রমে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা, তৃতীয় ভাষা শিক্ষা, ক্রীড়া ও সংস্কৃতির বিকাশ, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা এবং ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ বা আনন্দময় শিক্ষাকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে চায়।

“আমরা সেই কাঠামো গড়ে তুলতে চাই, যেখানে একজন শিক্ষার্থী তার নিজ মেধা, পছন্দ বা আগ্রহ অনুযায়ী দক্ষ কারিগর, প্রযুক্তিবিদ, কৃষি উদ্যোক্তা, গবেষক, শিল্পী, শিক্ষক, ব্যবসায়ী, ক্রীড়াবিদ কিংবা অন্য যেকোনো পেশায় সমান মর্যাদা ও সাফল্যের সঙ্গে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে।

“প্রতিষ্ঠানসমূহে শিক্ষার্থীদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশে ক্লাব ভিত্তিক সহশিক্ষা কার্যক্রম যেমন- বিতর্ক, বিজ্ঞান মেলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও সাহিত্যচর্চাকে উৎসাহিত করা হবে। বাংলাদেশকে একটি দক্ষতাভিত্তিক অর্থনীতিতে রূপান্তর করতে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে পর্যায়ক্রমে সবার জন্য কারিগরি শিক্ষা চালু করা হবে।”

শিক্ষাক্রমে বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি বাধ্যতামূলক তৃতীয় ভাষা শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করা হবে তুলে ধরে তিনি বলেন, “তৃতীয় ভাষা যেমন-জাপানিজ, কোরিয়ান, ম্যান্ডারিন, আরবি, ফ্রেঞ্চ, জার্মান ইত্যাদি কারিকুলামে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এ লক্ষ্যে আমাদের সরকার তৃতীয় ভাষাজ্ঞানসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে সেসকল দেশে উচ্চশিক্ষায় গমনেচ্ছুদের ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধা প্রদান করছে।”

মেয়েদের জন্য বিনামূল্যে স্নাতক পর্যন্ত শিক্ষা সম্প্রসারণ করা, শিক্ষার্থীদের জন্য স্কুল ইউনিফর্ম, জুতা ও স্কুলব্যাগ সরবরাহ, প্রতিবন্ধী ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা নিশ্চিত করা, বিশেষায়িত সহায়ক প্রযুক্তি ও শিক্ষাসামগ্রী বিতরণ, মিড-ডে মিল কর্মসূচি চালু ও পর্যায়ক্রমে সারা দেশে সম্প্রসারণ এবং ছাত্রী ও শিক্ষিকাদের স্যানিটেশন ও হাইজিনকে প্রাধান্য দিয়ে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী।

তিনি প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচি, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন, বিনামূল্যে ওয়াই-ফাই সুবিধা সম্প্রসারণ, শক্তিশালী ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সংযোগ, অ্যাপ্রেনটিসশিপ ও ইন্টার্নশিপ সুবিধা এবং স্টার্ট-আপ চালু করার মাধ্যমে উদ্যোক্তা তৈরির প্রতিশ্রুতিও দেন বাজেট বক্তৃতায়।

অর্থমন্ত্রী বলেন, “আমরা ‘ব্রেইন ড্রেইন’-কে ‘ব্রেইন সার্কুলেশনে’ রূপান্তরের লক্ষ্যে কাজ করছি। বিদেশে বসবাসরত বৈশ্বিক জ্ঞান, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাসম্পন্ন উচ্চশিক্ষিত বাংলাদেশিদের দেশের শিক্ষা ও গবেষণা ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে।

“সরকার গবেষণা ও উদ্ভাবনে গুরুত্ব প্রদান এবং কার্যকর পৃষ্ঠপোষকতা নিশ্চিত করবে। আমরা মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি বিজ্ঞান, গণিত, ইংরেজি ও তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষার মান উন্নয়ন, কর্মমুখী প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করতে চাই।”

বাংলাদেশ জার্নাল/এনএম

  • সর্বশেষ
  • পঠিত