ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ আপডেট : কিছুক্ষণ আগে
শিরোনাম

বাজেট ‘ব্যবসায়বান্ধব’,কার্যকর বাস্তবায়ন জরুরি: ডিসিসিআই

  জার্নাল ডেস্ক

প্রকাশ : ১১ জুন ২০২৬, ২০:২৬

বাজেট ‘ব্যবসায়বান্ধব’,কার্যকর বাস্তবায়ন জরুরি: ডিসিসিআই
ছবি: সংগৃহীত

নতুন অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটকে ‘ব্যবসাবান্ধব’ হিসেবে বর্ণনা করে এর কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর জোর দিয়েছেন ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি তাসকীন আহমেদ।

তিনি বলেছেন, “সামগ্রিকভাবে ২০২৬-২৭ বাজেটকে ব্যবসা ও বিনিয়োগ সহায়ক হিসেবে বিবেচনা করা যায়। তবে উচ্চ রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন এবং ঘোষিত সংস্কারের পূর্ণ বাস্তবায়নের উপরই নির্ভর করবে এই বাজেটের প্রকৃত সাফল্য।”

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকালে সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট পেশ করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এরপর মতিঝিলে ডিসিসিআই কার্যালয়ে বাজেট নিয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় জানান সংগঠনের সভাপতি।

তিনি বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মোট ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট দেওয়া হয়েছে, যা বিগত বছরের তুলনায় ১৯.০৪ শতাংশ বেশি।

“রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ৩০ দশমিক ৩৪ শতাংশ বৃদ্ধি বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থায় চ্যালেঞ্জিং এবং ঘাটতি পূরণে ঋণনির্ভরতা ব্যাংক খাতের পুনরুদ্ধার ও বেসরকারি বিনিয়োগে ঋণপ্রবাহের জন্য ইতিবাচক নয়। তবে পরিচালন ব্যয় কমানোর লক্ষ্যমাত্রা আপাতদৃষ্টিতে ইতিবাচক।

“এছাড়া ৩ লাখ কোটি টাকার নতুন এডিপি, যা গত বছরের চেয়ে ৩০ শতাংশ বেশি। তবে চলতি বছরের মাত্র ৩৬ দশমিক ১৯ শতাংশ বাস্তবায়ন হার দুর্বল সক্ষমতার প্রমাণ। শুধু বড় বাজেট ও এডিপি নয় বরং সফল বাস্তবায়নের উপর জোর দিতে হবে।”

কর ব্যবস্থাপনা নিয়ে তাসকীন আহমেদ বলেন, উৎসে করকে অগ্রিম কর হিসেবে গণ্য করায় ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হয়েছে। শিল্পের কাঁচামালে উৎসে কর ৪ শতাংশে হ্রাস, ৬০টি নিত্যপণ্যে ০.৫ শতাংশ উৎসে কর, পাঁচ বছরের কর কাঠামো আগাম ঘোষণা এবং স্বাস্থ্যসেবা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও ইলেকট্রিক যানবাহন খাতে কর ছাড় ‘প্রশংসনীয়’।

ভ্যাটের হার না বাড়িয়ে করের পরিধি সম্প্রসারণ এবং ত্রৈমাসিক অনলাইন ভ্যাট রিটার্নের বিধানকেও স্বাগত জানান ডিসিসিআই সভাপতি।

তিনি বলেন, “মূল্যস্ফীতি সত্ত্বেও করমুক্ত আয়সীমা অপরিবর্তিত রাখা ও সর্বোচ্চ আয়কর ৩৫ শতাংশ নির্ধারণ হতাশাজনক এবং করমুক্ত সীমা ৫ লাখ টাকা করার দাবি জানাচ্ছে ডিসিসিআই। ক্যাশলেস লেনদেনে পিওএস মেশিন আমদানিতে শুল্ক হ্রাস ও আগাম কর শূন্য করা যুগান্তকারী পদক্ষেপ।”

বাংলাদেশ ব্যাংকের ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় সিএমএসএমই খাতে ৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করার প্রস্তাবকে ‘সাধুবাদ’ জানাচ্ছে ঢাকা চেম্বার।

তাসকীন আহমেদ বলেন, এসএমই উদ্যোক্তাদের ৫০ লাখ, নারী ও প্রতিবন্ধী উদ্যোক্তাদের ৭০ লাখ টাকা পর্যন্ত টার্নওভার করমুক্ত এবং ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ই-লোন চালু ‘প্রশংসনীয়’ উদ্যোগ। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য ফ্ল্যাট রেটে টার্নওভার কর ও আলাদা ভ্যাট রিটার্ন ফরম কর ব্যবস্থাপনাকে সহজ করবে বলে মনে করে ডিসিসিআই।

বৈদ্যুতিক গাড়ি, মোবাইল ফোন, ফ্রিজ, এসি ও প্রযুক্তিপণ্যে কর হ্রাস দেশীয় শিল্পে বিনিয়োগ বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি করবে বলেও আশা প্রকাশ করেন ডিসিসিআই সভাপতি। তার ভাষ্য, মুক্তবাণিজ্য অঞ্চল স্থাপনের উদ্যোগ বাণিজ্য ও বিনিয়োগের প্রসারে সহায়ক হবে।

এছাড়া স্থানীয় ইলেকট্রিক বাস ও ট্রাক উৎপাদনকারী শিল্পের কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে ৫ শতাংশ অতিরিক্ত ভ্যাট এবং সম্পূর্ণ শুল্ক অব্যাহতি এবং দেশীয় ই-বাইক উৎপাদনকারী ও সংযোজনকারী প্রতিষ্ঠানের উপকরণ আমদানিতে রেয়াতি সুবিধা প্রদানকে সাধুবাদ জানান তিনি।

বিদ্যুচ্চালিত যানে (ইভি) ২০৩০ সাল পর্যন্ত ভ্যাট অব্যাহতি, নিবন্ধনে অগ্রিম আয়কর হ্রাস এবং চার্জিং নেটওয়ার্ক আমদানিতে কর শূন্য করাকে ‘যুগান্তকারী’ উদ্যোগ বলছেন তাসকীন আহমেদ।

তবে গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য কূপ খননের পদক্ষেপ ‘প্রয়োজনের তুলনায় বেশ কম’ বলে মন্তব্য করে তিনি।

ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, “আমদানি নির্ভর জ্বালানিতে সুনির্দিষ্ট মূল্য কাঠামো না থাকলে স্বল্পমেয়াদি ভর্তুকি বিনিয়োগের পরিবর্তে অপচয় বাড়াবে। সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের মতামতের ভিত্তিতে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি মূল্য কাঠামো প্রণয়নেরও ডিসিসিআই আহ্বান জানাচ্ছে।”

বাজেটে ‘সিঙ্গেল উইন্ডো (এক জায়গায় সব সেবা) বাধ্যতামূলক করা, সাত দিনে ওয়ার্ক পারমিট, বিদেশি ঋণের সুদে উৎসে কর ২০ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশে হ্রাস এবং উৎসে কর কর্তনজনিত ব্যয় অগ্রহণযোগ্যতার বিধান বাতিল, বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলেও মনে করছে ডিসিসিআই।

ডিসিসিআই সহ-সভাপতি রাজিব এইচ চৌধুরী, সহ-সভাপতি সালিম সোলায়মানসহ পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ জার্নাল/এসআইপি

  • সর্বশেষ
  • পঠিত