ঢাকা, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩ আপডেট : ১০ মিনিট আগে
শিরোনাম

১ বছরে ২০০ সাইবার হামলা

  জার্নাল ডেস্ক

প্রকাশ : ২০ জুন ২০২৬, ১৮:০৩

১ বছরে ২০০ সাইবার হামলা
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাজ্যের জরুরি জাতীয় অবকাঠামোগুলোয় গেল এক বছরে দুইশোরও বেশি সাইবার হামলা হয়েছে বলে দাবি করেছে দেশটির জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা।

যুক্তরাজ্যের ‘ন্যাশনাল সাইবার সিকিউরিটি সেন্টার’ বা এনসিএসসি সতর্ক করে বলেছে, পারমাণবিক ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও হাসপাতালের মতো সংবেদনশীল বিভিন্ন খাত এখন তীব্র ঝুঁকিতে রয়েছে।

এআইয়ের দ্রুত অগ্রগতির ফলে আগামী ২০২৮ সালের মধ্যে এ সাইবার হুমকি আরও মারাত্মক রূপ নিতে পারে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান।

সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী রিচার্ড হর্ন বলেছেন, রাশিয়া, চীন ও ইরানের মতো বৈরী বিভিন্ন রাষ্ট্র ক্রমাগত যুক্তরাজ্যের জরুরি পরিষেবাগুলোর পেছনে থাকা কম্পিউটার সিস্টেমগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে।

গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় অবকাঠামোর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাজ্যের পারমাণবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ কেন্দ্র, হাসপাতাল ও বিমানবন্দর।

তিনি বলেন, যুক্তরাজ্য বর্তমানে তার ‘আন্তর্জাতিক প্রতিপক্ষদের সঙ্গে চলমান এক প্রতিযোগিতার’ মুখে পড়েছে।

‘রয়াল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউট’-এ দেওয়া এক বক্তৃতায় তিনি বলেছেন, “এই প্রতিযোগিতা কোনো নির্দিষ্ট বা সংকীর্ণ জায়গার মধ্যে সীমিত নয়। কেউ কেউ যেমনটা মনে করেন বিষয়টি কোনো নির্দিষ্ট সীমানার ভেতরের রেসলিং ম্যাচের মতো নয়।

“বিষয়টি বরং ফুটবল বা বাস্কেটবল খেলার মতো, যা বড় এক মাঠ জুড়ে খেলা হয় এবং যেখানে সাফল্য নির্ভর করে আপনি পুরো মাঠজুড়ে কীভাবে খেলছেন বা নিয়ন্ত্রণ রাখছেন তার ওপর।”

এ সাইবার ঘটনা বা হামলাকে ‘কম্পিউটার সিস্টেম, নেটওয়ার্ক বা ডিভাইসের ক্ষতি করার, বিঘ্ন ঘটানোর বা অননুমোদিত অ্যাক্সেস বা নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার প্রচেষ্টা’ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেছে জিসিএইচকিউ গোয়েন্দা সংস্থার অংশ এনসিএসসি।

হর্ন বলেছেন, মে মাস পর্যন্ত এক বছরে যুক্তরাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় অবকাঠামো ও এর ‘সহায়ক ইকোসিস্টেম’কে ক্ষতিগ্রস্ত করার লক্ষ্যে চালানো দুইশোরও বেশি সাইবার হামলার মুখে পড়েছে এনসিএসসি। যার মধ্যে প্রায় ৭৫ শতাংশ হামলার পেছনেই ‘রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা বা বিভিন্ন দেশের কর্তৃপক্ষের সংযোগ রয়েছে’।

হর্ন সতর্ক করে বলেছেন, এআইয়ের অগ্রগতি এ হুমকিকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে, যা জাতীয় অবকাঠামোর বিভিন্ন সাইবার দুর্বলতাকে প্রকাশ করে দেবে, বিশেষ করে ২০২৮ সালের মধ্যে এ ধরনের হুমকি আরও স্পষ্ট ও মারাত্মক রূপ নিতে পারে।

তার ভাষায়, বিভিন্ন কোম্পানি ও সংস্থাকে এখন সাইবার নিরাপত্তার বিভিন্ন ‘মৌলিক বিষয়গুলোর’ ওপর জোর দিতে হবে, যেমন কোনো হামলা হলে সেখান থেকে কত দ্রুত আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসা যায় তা নিশ্চিত করা।

অ্যানথ্রপিকের নতুন ‘ক্লড মিথোস’ এআই মডেলের আত্মপ্রকাশের পর থেকে বিভিন্ন মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে যে, নানা কোম্পানি এখন এআইনিয়ন্ত্রিত সাইবার হামলার বড় ঝুঁকিতে রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, বেশিরভাগ সাইবার নিরাপত্তা লঙ্ঘনের ঘটনা এখনও সাধারণ ও পুরানো ঝুঁকি থেকেই ঘটছে, যেমন দুর্বল পাসওয়ার্ড বা অথেন্টিকেশন ব্যবস্থা এবং সিস্টেমে আগে থেকেই জানা থাকা এমন কিছু দুর্বলতা, যা সময়মতো সারাই বা ‘প্যাচ’ করা হয়নি।

এ সাইবার হুমকি সম্পর্কে হর্ন বলেছেন, এ সাইবার হামলা কর্পোরেট কোম্পানির ‘বোর্ডরুম থেকে শুরু করে আইটি হেল্প ডেস্ক, ঘরের সোফা’ পর্যন্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রের ওপর প্রভাব ফেলছে।

২০২৪ সালে তৎকালীন ‘ডাচি অফ ল্যাঙ্কাস্টার’-এর চ্যান্সেলর প্যাট ম্যাকফ্যাডেন সতর্ক করেছিলেন, যুক্তরাজ্যের বিরুদ্ধে এআই’কে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে এবং রাশিয়া দেশটির মূল অবকাঠামোগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে।

“রাশিয়া আমাদের গণমাধ্যম, টেলিযোগাযোগ, রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান এবং আমাদের জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। তারা বিদ্যুৎ গ্রিডও বন্ধ করে দিতে পারে।”

হর্নের এসব মন্তব্য গেল বছর যুক্তরাজ্যের গোয়েন্দা সংস্থা ‘এমআইসিক্স’-এর প্রধান ব্লেইস মেট্রেভেলির দেওয়া এক সতর্কবার্তারই প্রতিধ্বনি।

ওই সময় মেট্রেভেলি বলেছিলেন, রাশিয়ার সঙ্গে উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ার কারণে দেশটি বর্তমানে ‘শান্তি ও যুদ্ধের মাঝামাঝি এক অবস্থায়’ আটকে আছে।

এদিকে এপ্রিলে এনসিএসসি সাধারণ ব্যবহারকারীদের পাসওয়ার্ড ছেড়ে ‘পাসকি’ ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে।

সংস্থাটি বলেছে, “পাসকি হচ্ছে আপনার ডিভাইসে সংরক্ষিত এক ডিজিটাল স্ট্যাম্প, যা দিয়ে বিভিন্ন অ্যাপ ও ওয়েবসাইটে লগ-ইন করা যায়। আধুনিক বিভিন্ন সাইবার হুমকির সামনে প্রচলিত পাসওয়ার্ডগুলো যথেষ্ট নিরাপদ না হওয়ায় সব ধরনের ডিজিটাল সার্ভিসের ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীদের প্রথম পছন্দ হওয়া উচিত পাসকি।”

বাংলাদেশ জার্নাল/এসআইপি

  • সর্বশেষ
  • পঠিত