ঢাকা, বুধবার, ১২ মে ২০২১, ২৯ বৈশাখ ১৪২৮ আপডেট : ৩৫ মিনিট আগে

প্রকাশ : ১৫ এপ্রিল ২০২১, ১৩:০৮

প্রিন্ট

শ্মশানে ভিড়, মৃতদেহ নিয়ে চিন্তা বাড়ছে দিল্লিতে

শ্মশানে ভিড়, মৃতদেহ নিয়ে চিন্তা বাড়ছে দিল্লিতে
ভারতে মৃত্যু বাড়ছে

অনলাইন ডেস্ক

ভারতে কোভিডের দ্বিতীয় ঢেউ আছড়ে পড়ার পর শেষ কয়েক সপ্তাহে বিভিন্ন রাজ্যে দৈনিক মৃত্যুর সংখ্যা হু হু করে বেড়েছে। এই মৃত্যু বৃদ্ধির জেরে শ্মশান, কবরস্থানে দেহ সৎকারের জন্য দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে। মধ্যপ্রদেশের ভোপালের শ্মশানের কী অবস্থা হয়েছে তার ভিডিও বুধবার বারবার ভেসে উঠেছে নেটে। একই অবস্থা দিল্লিতেও। সেখানেও দৈনিক মৃত্যু বাড়ার ফলে শ্মশান, কবরস্থানে বিশাল লাইন। শুধু তাই নয়, প্রতিনিয়ত এভাবে লাশ আসতে থাকলে সুষ্ঠভাবে সৎকার সম্পন্ন করা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে। আনন্দবাজার।

দিল্লির সবচে বড় শ্মশান নিগম্বোধ ঘাট। সৎকারের জন্য গত ক’দিন ধরে সেখানে দেখা যাচ্ছে দীর্ঘ লাইন। কোভিডে মৃত দাদুর দেহ সৎকার করতে নিগম্বোধ ঘাটে এসেছিলেন ২৭ বছরের গৌতম। তার দাদু মারা গেছেন মঙ্গলবার রাতে। বুধবার সকাল সাড়ে ৮টা নাগাদ দাদুর দেহ সৎকার করার জন্য নিয়ে এসেছিলেন তিনি। কিন্তু ৬ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও সৎকারের সুযোগ হয়নি বলে জানিয়েছেন তিনি। গৌতম সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, ‘সকাল সাড়ে ৮টায় এখানে এসেছি। ছ’ঘণ্টা পেরিয়ে গেছে। এখনও আমাদের সুযোগ আসেনি। পরিস্থিতি খুব খারাপ। কিছুক্ষণ অন্তরই দেখছি অ্যাম্বুল্যান্সে ২-৩টা করে দেহ আসছে।’

একই পরিস্থিতি কবরস্থানেও। কোভিড রোগীর লাশ এই পরিমাণে এলে আর কিছুদিন পরই কবর দেওয়ার জায়গা শেষ হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন দিল্লির এক কবরস্থানের রক্ষণাবেক্ষক। শামিম নামের ওই ব্যক্তি বলেছেন, ‘আগে দিনে ১-২টা করে দেহ আসত। এখন দিনে ১৭-১৮টা করে দেহ আসছে। শেষ ৫ দিনে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। এখানে আর ৯০ জনকে কবর দেওয়ার মতো জায়গা রয়েছে।’

শুধু দেহ সৎকার নয়। মর্গেও দেহ রাখার জায়গা হচ্ছে না বিভিন্ন রাজ্যের হাসপাতালে। ছত্তীসগঢ়ের রায়পুরের একটি সরকারি হাসপাতালের ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছিল নেটে। সেখানে দেখা গেছে, কীভাবে প্রকাশ্যে মাটিতে ফেলে রাখা হয়েছে দেহ। সংক্রমণ বৃদ্ধির জেরে হাসপাতালে শয্যা পেতে ছুটছেন আক্রান্তরা। দিল্লির এই ব্যক্তি জানিয়েছেন, তার শ্যালক সম্প্রতি আক্রান্ত হয়েছেন কোভিডে। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়রানির শিকার হতে হয়েছে বলে দাবি তার।

বুধবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ভেন্টিলেটরের সুবিধাযুক্ত আইসিইউ শয্যার ৮৫ শতাংশ ভর্তি হয়েছে দিল্লিতে। বিভিন্ন রাজ্যের প্রশাসনও অস্থায়ী কোভিড পরিষেবা কেন্দ্র খুলে রোগীদের চিকিৎসা করার চেষ্টা করছে। কিন্তু যেভাবে সংক্রমণ বাড়ছে তার জেরে এই চেষ্টা কতটা ফলপ্রসূ হবে তা নিয়ে চিন্তায় সরকার।

বুধবার দিল্লিতে নতুন করে কোভিডে আক্রান্ত হয়েছেন ১৩ হাজার ৪৬৮ জন। রাজধানীতে একদিনে আক্রান্তের দিক দিয়ে যা এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ। বুধবার সেখানে মৃত্যুও হয়েছে ৮০ জনের। বুধবারের পরিসংখ্যান অ্নুসারে দেশে কোভিডে একদিনে মৃত্য হয়েছে ১ হাজার ২৭ জনের। আক্রান্ত হয়েছেন ১ লক্ষ ৮৪ হাজারেরও বেশি।

বাংলাদেশ জার্নাল/নকি

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত