বলিভিয়ায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা
জার্নাল ডেস্ক
প্রকাশ : ২০ জুন ২০২৬, ১৭:৪৭

বলিভিয়ায় জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় ও তীব্র অর্থনৈতিক চাপের জেরে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা ব্যাপক সরকারবিরোধী বিক্ষোভের মুখে সৃষ্ট রাজনৈতিক সংকট নিরসনে দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো পাজ।
শনিবার (২০ জুন) জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে পাজ এই ঘোষণা দেন।
শ্রমিক ইউনিয়ন, কৃষক এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট ইভো মোরালেসের সমর্থকদের সমর্থনপুষ্ট এই বিক্ষোভ এখন সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নিয়েছে। বিক্ষোভকারীরা প্রেসিডেন্ট পাজের পদত্যাগ দাবি করছে।
গত ৫০ দিন ধরে চলা টানা সড়ক অবরোধের কারণে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে খাদ্য, জ্বালানি ও চিকিৎসা সরঞ্জামের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। পুরো দেশের অর্থনীতি স্থবির হয়ে পড়েছে।
শনিবারের ভাষণে প্রেসিডেন্ট পাজ বলেন, দেশের প্রধান সড়কগুলো মুক্ত করতে আমি জরুরি অবস্থা জারির নির্দেশ দিয়েছি। বলিভিয়ার নাগরিকরা এভাবে অবরোধের কাছে জিম্মি হয়ে থাকতে পারে না; যা তাদের কাজ করা, পড়াশোনা, চিকিৎসা সেবা নেওয়া এবং নিজেদের ভরণপোষণের রসদ জোগানোর অধিকারকে বাধাগ্রস্ত করছে।
প্রেসিডেন্ট জানান, এই আদেশ জারির ফলে এখন থেকে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুনরুদ্ধার এবং সড়ক সচল করতে সেনাবাহিনী ও পুলিশ সরাসরি মাঠে নামতে পারবে।
রয়টার্স জানিয়েছে, জরুরি অবস্থা কার্যকর হওয়ার সময় প্রেসিডেন্টকে ডিক্রি জারি করার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এ বিষয়ে দেশটির কংগ্রেসকে অবহিত করতে হবে। কংগ্রেস জরুরি অবস্থা অনুমোদন বা প্রত্যাখ্যান করার জন্য ৭২ ঘণ্টা সময় পাবে।
গত মাসেই পাজ দেশের অভ্যন্তরীণ সংঘাত নিরসনে সামরিক বাহিনীকে হস্তক্ষেপের অনুমতি দিয়ে একটি আইন স্বাক্ষর করেছিলেন। যদিও তিনি এর আগে বলেছিলেন, আলোচনার সমস্ত পথ ব্যর্থ হলেই কেবল শেষ বিকল্প হিসেবে জরুরি অবস্থা জারি করা হবে। শনিবারের ভাষণে তিনি দাবি করেন, বৈধ দাবিদাওয়া নিয়ে আলোচনার সব পথ শেষ হওয়ার পরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মধ্যপন্থী নেতা রদ্রিগো পাজ মাত্র সাত মাস আগে বলিভিয়ার ক্ষমতায় বসেন। তার এই জয় বলিভিয়ার ইতিহাসে এক বড় ধরনের পরিবর্তন ছিল, কারণ এর মাধ্যমে দেশটিতে প্রায় দুই দশকের বামপন্থী শাসনের অবসান ঘটে। ২০০৬ সাল থেকে দেশটির শাসনক্ষমতায় প্রায় একছত্র আধিপত্য ছিল বামপন্থী দল ‘মুভমেন্ট টু সোশালিজম’ (এমএএস)-এর। এক প্রজন্মের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাওয়া দেশটিকে উদ্ধারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিলেন পাজ।
ক্ষমতা গ্রহণের পর পাজ ওয়াশিংটনের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের উদ্যোগ নেন, যা ২০০৯ সাল থেকে শীতল অবস্থায় ছিল।
জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে গত সেপ্টেম্বরে মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে ১৫০ কোটি ডলারের একটি অর্থনৈতিক সহযোগিতা চুক্তিও ঘোষণা করেন তিনি।
চলতি বছরের মে মাসে প্রেসিডেন্ট পাজ বাজেট ঘাটতি কমাতে দেশটির দীর্ঘদিনের জ্বালানি ভর্তুকি প্রত্যাহার করলে এই গণ-অসন্তোষের সূত্রপাত হয়। বর্তমানে বলিভিয়ায় বৈদেশিক মুদ্রার তীব্র ঘাটতি চলছে, এক সময়ের সমৃদ্ধ প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানি তলানিতে ঠেকেছে এবং মূল্যস্ফীতি গত ৪০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
প্রেসিডেন্টের পদত্যাগের পাশাপাশি শ্রমিক ইউনিয়নগুলো এখন মজুরি বৃদ্ধি এবং বাজারে ডলার ও জ্বালানি সংকট সমাধানের দাবি জানাচ্ছে। সূত্র:সিএনএন
বাংলাদেশ জার্নাল/সিএম










