তিন নারীর সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের কথা স্বীকার করলেন বিল গেটস
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ২৪ জুন ২০২৬, ২০:১৭

বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ধনী ও মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস তিন নারীর সঙ্গে তাঁর বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক ছিল বলে স্বীকার করেছেন। মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের ওভারসাইট কমিটিকে দেওয়া এক রুদ্ধদ্বার সাক্ষ্যপর্বে বিল গেটস এ কথা বলেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত যৌন নিপীড়ক প্রয়াত জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে বন্ধুত্বকে কেন্দ্র করে ১০ জুন ওভারসাইট কমিটিকে বিল গেটস এ জবানবন্দি দিয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার তাঁর সে সাক্ষ্যের একটি অনুলিপি প্রকাশ করেছে কমিটি।
মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের ওভারসাইট কমিটিকে দেওয়া সাক্ষ্যের শুরুতে বিল গেটস দুই রুশ নারীর সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক ছিল বলে স্বীকার করেন। তিনি তাঁদের নামও উল্লেখ করেন। তাঁরা হলেন ব্রিজ খেলোয়াড় মিলা আন্তোনোভা ও পারমাণবিক পদার্থবিদ কারিমা নিগমাতুলিনা। কয়েক ঘণ্টাব্যাপী জিজ্ঞাসাবাদের সময় মার্কিন কংগ্রেস সদস্যদের প্রশ্নের মুখে গেটস পরে আরেক নারী বিজ্ঞানীর সঙ্গে তৃতীয় একটি বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক ছিল বলে স্বীকার করেন।
জবানবন্দিতে গেটস বরাবরের মতো আবারও দাবি করেছেন, তিনি কখনোই এপস্টেইনের কোনো নিপীড়নের ঘটনা দেখেননি। তবে এপস্টেইনের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে অজান্তে ভুক্তভোগীদের কাছাকাছি গিয়ে থাকতে পারেন। কারণ, এপস্টেইনের প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কিছু নারী ও কিশোরী পরবর্তী সময় তাঁর নির্যাতনের শিকার হিসেবে চিহ্নিত হয়েছিলেন।
এপস্টেইনের সঙ্গে সময় কাটানোটা ‘ভুল ছিল’ বলেও উল্লেখ করেন গেটস। জনহিতকর কাজের জন্য পরিচিত গেটস ফেব্রুয়ারিতে বিল গেটস তাঁদের বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনের কর্মীদের কাছে স্বীকার করেছিলেন, তাঁর দুটি বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক ছিল। পরে এপস্টেইনও সেগুলোর কথা জেনে গিয়েছিলেন, তবে গেটস তখন এ বিষয়ে আর কোনো বিস্তারিত তথ্য দেননি।
মার্কিন কংগ্রেসে দেওয়া সাক্ষ্যে গেটস ইঙ্গিত দেন, দুই রুশ নারীর সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের বিষয়টি জানার পর এপস্টেইন তাঁকে ব্ল্যাকমেইল করার চেষ্টা করছিলেন। গেটস আরও দাবি করেন, ২০১১ সালে এপস্টেইনের সঙ্গে পরিচয়ের আগেই তাঁর চিকিৎসা-উদ্যোক্তা অ্যালিস জ্যাকবস নেসেলরোদতের সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক ছিল। বিল গেটস এ তথ্য জেনে বিস্ময় প্রকাশ করেন, এপস্টেইন তাঁর ওই সম্পর্কের বিষয়েও জানতেন। এর আগে তিনি কংগ্রেসকে বলেছিলেন, এপস্টেইন শুধু ‘আমরা যে দুটি সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করেছি’ সেগুলোর কথাই জানতেন।
সাক্ষ্য দেওয়ার সময় কংগ্রেসের সদস্যরা গেটসকে ২০১৩ সালের জুলাই মাসে এপস্টেইনের নিজেই নিজের কাছে পাঠানো একটি ই–মেইল দেখান। সেখানে গেটসের প্রসঙ্গে অ্যালিস জ্যাকবস নেসেলরোদতের নাম উল্লেখ করা ছিল।
এর আগে মার্কিন বিচার বিভাগ প্রকাশিত ওই ই–মেইলের সংস্করণগুলোতে গেটসের নাম কালো কালি দিয়ে গোপন রাখা হয়েছিল।
স্বেচ্ছায় কংগ্রেসে সাক্ষ্য দেওয়া গেটস জোর দিয়ে বলেন, এপস্টেইন তাঁর এসব সম্পর্কের তথ্য ব্যবহার করে তাঁকে ব্ল্যাকমেইল করতে সফল হননি। তবে তিনি মনে করেন, এপস্টেইনের চিন্তাভাবনা সেদিকেই এগোচ্ছিল।
এপস্টেইনের সঙ্গে গেটসের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিয়ে নতুন বিব্রতকর তথ্য প্রকাশের পর এ ধনকুবের এমন মন্তব্য করেছেন। মার্কিন বিচার বিভাগ গত বছরের ডিসেম্বর থেকে এপস্টেইন-সংক্রান্ত নথি প্রকাশ শুরু করলে সেই সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে আলোচনা ও প্রশ্ন ওঠে।
নথিগুলোতে দেখা যায়, ২০১৩ সালে নিজের জন্য লেখা একটি চিঠিতে এপস্টেইন দাবি করেছিলেন, বিল গেটস ‘রুশ নারীদের’ সঙ্গে যৌন সম্পর্কের পর একটি যৌনবাহিত রোগে (এসটিডি) আক্রান্ত হয়েছিলেন। সেখানে আরও উল্লেখ করা হয়, গেটস তাঁর তৎকালীন স্ত্রী মেলিন্ডা গেটসকে গোপনে দেওয়ার জন্য অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ চেয়েছিলেন।
গেটস বারবার এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তবে রুদ্ধদ্বার জবানবন্দিতে তিনি স্বীকার করেন, কোনো এক বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের মাধ্যমে তিনি সংক্রমিত হয়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করেছিলেন। তবে গেটস জোর দিয়ে বলেন, এপস্টেইনের চিঠিতে উল্লেখ করা অভিযোগগুলো সত্য নয় এবং তাঁর কখনো কোনো যৌনবাহিত রোগ ছিল না।
সূত্র : দ্য টেলিগ্রাফ
বাংলাদেশ জার্নাল/জে










