ইরান চুক্তির জন্য সমর্থন যোগাতে বাহরাইনে রুবিও
জার্নাল ডেস্ক
প্রকাশ : ২৫ জুন ২০২৬, ১৫:২৬

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাক্ষরিত সমঝোতা চুক্তির প্রতি পারস্য উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর সমর্থন আদায় করতে তিন দিনের পশ্চিম এশিয়া সফরে এখন বাহরাইনে আছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।
সফরের এ চূড়ান্ত পর্যায়ে রুবিও বৃহস্পতিবার বাহরাইনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন, জানিয়েছে রয়টার্স।
ইরানের সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রাথমিক চুক্তি নিয়ে সন্দিহান হয়ে আছে যুক্তরাষ্ট্রের উপসাগরীয় আরব মিত্ররা। এই অঞ্চলের নেতাদের আশঙ্কা, ইরানকে ট্রাম্প প্রশাসনের দেওয়া অতিরিক্ত ছাড় তেহরানকে শক্তিশালী করবে আর এই অঞ্চলের নিরাপত্তা ভারসাম্য ও তেলের প্রবাহকে নতুন রূপ নিতে বাধ্য করবে।
এই শান্তি চুক্তি উপস্থাপন নিয়ে নিজের সংবেদনশীল দায়িত্বের কথা রুবিও নিজেও স্বীকার করেছেন।
মার্কিন নৌবাহিনীর পাঞ্চম নৌবহরের সদরদপ্তর বাহরাইনে অবস্থিত। বুধবার স্থানীয় সময় রাতে রুবিও দেশটিতে পৌঁছান। সফরকালে রুবিও গাল্ফ কোঅপারেশন কাউন্সিলের (জিসিসি) সঙ্গেও বৈঠক করবেন। বাদশা শাসিত ছয় সুন্নি আরব দেশের এই জোটে আছে সৌদি আরব, কাতার, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েত।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ চলাকালে ইরান জিসিসিভুক্ত প্রায় সবগুলো দেশে আঘাত হেনেছিল।
যুদ্ধ শেষ করতে গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যে সমঝোতা চুক্তি করেছে তারপর থেকে তেল সমৃদ্ধ পারস্য উপসাগরীয় আরব দেশগুলোতে রুবিওর তিন দিনের এ সফরই ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে প্রথম উচ্চস্তরের কূটনৈতিক মিশন।
বাহরাইনের আগে রুবিও আরব আমিরাত ও কুয়েত সফর করেন। এ সময় তিনি দেশ দুটির কর্মকর্তাদের এ বলে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেছিলেন যে প্রস্তাবি চুক্তিটি ইরানের প্রতি ‘অতিরিক্ত অনুকূল নয়’।
কুয়েতে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “আমাদের মিত্রদের, এ অঞ্চলে আমাদের দীর্ঘদিনের মিত্রদের নিরাপত্তা দুর্বল করে দেয় এমন কোনো কিছু আমরা করবো না।”
জিসিসিভুক্ত ছয় দেশের সবগুলো যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত মিত্র। যুদ্ধ চলাকালে এই মিত্ররা যুক্তরাষ্ট্রকে কিছু পরিমাণ লজিস্টিক সুবিধা যুগিয়েছিল। আর এ কারণে সবগুলো দেশ ইরানের পাল্টা হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির স্বীকার হয়েছিল।
এই সবগুলো দেশ একসঙ্গে পশ্চিম এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা স্থাপত্যের মেরুদণ্ড গড়ে তুলেছে। এগুলোর কোনো একটি যদি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের নিরাপত্তা সম্পর্ক পুনর্বিবেচনা করে তাহলে তা এই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক কৌশলের ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে।
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সমঝোতা চুক্তিতে এই দেশগুলোকে আংশিকভাবে যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি ও পুনর্গঠন খরচ বহন করতে হবে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। কিন্তু রুবিও বলেছেন, তিনি তার সফরে উপসাগরীয় দেশগুলোকে এ ধরনের কোনো তহবিল দিতে বলেননি।
রয়টার্স লিখেছে, যুক্তরাষ্ট্রের পারস্য উপসাগরীয় কিছু মিত্র ব্যক্তিগতভাবে সমঝোতা চুক্তিটি নিয়ে হতাশ। তাদের আশঙ্কা, এ চুক্তির পথ ধরে শিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার দরজা খুলে যেতে পারে। এসব সুন্নি প্রধান আরব দেশ ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানকে তাদের প্রধান প্রতিপক্ষ মনে করে।
তবে জিসিসির সুন্নি বাদশা শাসিত একমাত্র শিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ বাহরাইন মনে করে, আর্থিকভাবে মুক্ত ইরান তাদের দেশে অস্থরিতা উস্কে দিতে পারে।
বাংলাদেশ জার্নাল/সিএম










