ইরানের সঙ্গে যৌথভাবে হরমুজ পরিচালনার পরিকল্পনা ওমানের
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ২৮ জুলাই ২০২৬, ২২:৫২

হরমুজ প্রণালি পরিচালনার জন্য ইরানের কাছে একটি ‘যৌথ আঞ্চলিক ব্যবস্থার’ নতুন প্রস্তাব দিয়েছে ওমান। এতে প্রণালিটি ব্যবহারকারী জাহাজগুলোর কাছ থেকে স্বেচ্ছা ফি নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
উপসাগরীয় অঞ্চলের এক সূত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ খবর জানিয়েছে। সূত্র জানায়, ওমানের প্রস্তাবটিতে আঞ্চলিক দেশগুলোর সমর্থন রয়েছে। ওমান গত সপ্তাহান্তে রাজধানী তেহরানে ইরানের কর্মকর্তাদের কাছে এই প্রস্তাব দেয়।
প্রস্তাবটি দেওয়া হয়েছে মালাক্কা প্রণালির ভিত্তিতে, যার সঙ্গে সংযোগ আছে ভারত ও প্রশান্ত মহাসাগরের এবং সীমান্তসংলগ্ন দেশ ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরের যৌথ উদ্যোগে এর ব্যবস্থাপনা চলে।
প্রস্তাবের আওতায় যে জাহাজগুলো হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করে সেগুলোর কাছ থেকে স্বেচ্ছায় একটি তহবিলে অর্থ দেবে যার মাধ্যমে নৌপথ পরিচালনা, পরিবেশ সুরক্ষা এবং অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার ব্যয় বহন করা হবে।
ইরান যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট অশোধিত তেল ও তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে সরবরাহ হত। বর্তমানে প্রণালিটির ব্যবস্থাপনা শান্তি আলোচনার অন্যতম প্রধান জটিল বিষয়ে পরিণত হয়েছে এবং এটি নতুন করে সংঘাত সৃষ্টির কারণ হয়ে উঠেছে।
ইরান বলছে, যুদ্ধের আগের মতো অবাধ জাহাজ চলাচল পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালি আর ফিরে যেতে পারে না। অন্যদিকে, উপসাগরীয় দেশগুলো বলছে, ইরানকে বাধ্যতামূলকভাবে কোনও ফি দেওয়ার ব্যবস্থা তারা মেনে নেবে না।
সোমবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি ওমান ও সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে হরমুজ প্রণালি নিয়ে আলোচনা করেন।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, “আরাকচি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা জোরদার, যৌথ কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এগিয়ে নেওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসী কর্মকাণ্ডে সৃষ্ট হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তাহীনতা দূর করতে সহযোগিতা জোরদারের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।”
ওদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প সোমবার বলেছেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ‘ভাল আলোচনা ’ করছে এবং সমঝোতায় পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, আলোচনা ব্যর্থ হলে যুক্তরাষ্ট্র আবারও ইরানে সামরিক হামলা শুরু করতে পারে।
বাংলাদেশ জার্নাল/এসআইপি










