শরীয়তপুরে স্বামীকে বেঁধে রেখে গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগ
জার্নাল ডেস্ক
প্রকাশ : ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৮:৪৭

শরীয়তপুরের নড়িয়ায় স্বামীকে বেঁধে রেখে এক গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। গ্রামবাসীর সহায়তায় আজ মঙ্গলবার ভোরে পুলিশ ওই নারীকে উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করেছে। সেই সঙ্গে আটক করা হয়েছে তিন ব্যক্তিকে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ওই গৃহবধূর স্বামীকে নেওয়া হয়েছে পুলিশ হেফাজতে।
নড়িয়া থানা সূত্রে জানা যায়, গতকাল সোমবার রাতে শরীয়তপুর সদর উপজেলার একটি গ্রামের ওই গৃহবধূর স্বামীকে পূর্বপরিচিত কয়েকজন বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান। এরপর স্বামীকে উপজেলার একটি নির্জন স্থানে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়। একপর্যায়ে তাঁকে দিয়ে ফোন করিয়ে স্ত্রীকে সেখানে ডেকে আনেন ওই ব্যক্তিরা। এরপর রাত সাড়ে ১১টার দিকে ওই নারীকে দুই ব্যক্তি ধর্ষণ করেন। ওই নারীর চিৎকার শুনে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা সেখানে ছুটে যান। তাঁরা ৯৯৯–এ ফোন করে পুলিশকে জানান।
স্থানীয় মানুষের সহায়তায় ভোরে অসুস্থ অবস্থায় ওই নারীকে উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে পাঠায় নড়িয়া থানার পুলিশ। তাঁকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নারী সার্জারি ওয়ার্ডে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। পরে অভিযান চালিয়ে আজ সকালেই ঘটনার সঙ্গে জড়িত অভিযোগে তিনজনকে আটক করে পুলিশ। আটক ব্যক্তিরা হলেন রাব্বি (২৮), হজরত আলী খন্দকার (৪২) ও ইমন খন্দকার (২৬)।
এসব তথ্য নিশ্চিত করে নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাহার মিয়া বলেন, ‘আমরা যতটুকু জানতে পেরেছি, ওই নারীর স্বামীর সঙ্গে স্থানীয় একটি পক্ষের মাদক বিক্রির কোনো বিষয় নিয়ে বিরোধ চলছিল। পুলিশ তদন্ত করে পুরো বিষয় খতিয়ে দেখছে। আর ধর্ষণের ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।’
ওই নারীর বিষয়ে কথা হয় শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) মিতু আক্তারের সঙ্গে। তিনি জানান, ধর্ষণের শিকার হয়েছেন জানিয়ে এক নারীকে আজ ভোরের দিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁর চিকিৎসা চলছে। ধর্ষণের বিষয় নিশ্চিত হওয়ার জন্য সোয়াব ও ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। রাসায়নিক পরীক্ষার ফলাফল পাওয়ার পর প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।
ওই নারী আজ দুপুরে সদর হাসপাতালের শয্যায় বসে বলেন, ‘গতকাল রাতে কয়েকজন ব্যক্তি আমার স্বামীকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। পাশের একটি গ্রামের নির্জন স্থানে নিয়ে তাকে জিম্মি করে। এরপর রাত ১০টার দিকে আমাকে ফোন করে নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার নিয়ে সেখানে যেতে বলে। গিয়ে দেখি, আমার স্বামীকে একটা গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছে। আরেকটি গাছের আড়ালে নিয়ে আমার মুখ চেপে দুই ব্যক্তি ধর্ষণ করেছে আমাকে। তাদের থেকে বাঁচার জন্য অনেক কাকুতি–মিনতি করেছি, তাদের পায়ে ধরেছি। কিন্তু কেউ কোনো কথা শোনেনি।’
বাংলাদেশ জার্নাল/জে










