ঢাকা, শনিবার, ১৭ আগস্ট ২০১৯, ২ ভাদ্র ১৪২৬ আপডেট : ৫ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ২২ জুলাই ২০১৯, ১২:২১

প্রিন্ট

হত্যার পর কসাইকে দিয়ে স্ত্রীর দেহ কাটালেন স্বামী

হত্যার পর কসাইকে দিয়ে স্ত্রীর দেহ কাটালেন স্বামী
প্রতীকী ছবি
অনলাইন ডেস্ক

থানায় স্ত্রীর নিখোঁজ হওয়ার ডায়েরি করে পুলিশকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছিলেন স্বামী। কিন্তু তার সেই অপচেষ্টা কোনো কাজেই এলো না। সিসিটিভি ফুটেজেই ধরা পড়ে গেলেন স্বামী উপেন্দ্র রজক। ওই ব্যক্তি নিজের স্ত্রীকে খুন করেই ক্ষান্ত হননি। কসাই ডেকে মরদেহ টুকরো টুকরো করে কেটে ব্যাগে ভরে গঙ্গায় ভাসিয়ে দিয়েছিলেন।

এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে ভারতের শিবপুরে।

স্ত্রীকে খুন করার পর মরদেহ গঙ্গায় ভাসিয়ে দেন। এরপর পুলিশকে বিভ্রান্ত করতে গত ১৮ জুলাই বিকেলে শিবপুর থানায় চলে যান শিবপুরের গিরিশ চ্যাটার্জ লেনের বাসিন্দা উপেন্দ্র রজক। থানায় স্ত্রী হারিয়ে গেছে বলে সাধারণ ডায়েরি করেন।

এদিকে সেদিন সকালেই বালির জেটিয়াঘাটে একটি ব্যাগ থেকে উদ্ধার হয় এক নারী কাটা মুন্ডু ও দেহাংশ। আর একটি ব্যাগে মেলে কয়েকটি ধারাল অস্ত্র। এ নিয়েতদন্তে নামে বালি থানার পুলিশ। কাটা মুন্ডুর ছবি তুলে তারা বিভিন্ন থানায় পাঠিয়ে দেয়। তখনই শিবপুর থানার মিসিং ডায়েরির খবর আসে।

তখন ওই নারীর দেহ শনাক্তকরণের জন্য ডাকা হয় সোনির স্বামী উপেন্দ্র রজককে। কিন্তু তিনি স্ত্রীর মরদেহ চিনতে অস্বীকার করেন। এক পর্যায়ে তিনি দাবি করেন, একাধিক পুরুষের সঙ্গে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক ছিল তার স্ত্রী সোনির। তাদেরই কারো হাত ধরে পালিয়ে গেছে সোনি।

এরপর জিটি রোডের বিভিন্ন জায়গার সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে পুলিশ। বালিখালের কাছে সিসিটিভিতে দেখা যায়, তিনজন যুবক ট্যাক্সি থেকে তিনটি ব্যাগ নামাচ্ছে। পরে ব্যাগগুলি নিয়ে রিকসায় করে জেটিয়াঘাটের দিকে চলে যাচ্ছে।

ট্যাক্সি চালক ও রিকশা চালককে জেরা করে জানা যায়, হাওড়া ময়দান থেকে ট্যাক্সিতে ওঠে ওই তিন যুবক। ততক্ষণে সিসিটিভি ফুটেজে স্পষ্ট, এই তিনজনের মধ্যে একজন উপেন্দ্র রজক। এরপরই উপেন্দ্রকে ফের জেরার জন্য ডেকে পাঠায় পুলিশ। জেরার এক পর্যায়ে ভেঙে পড়েন উপেন্দ্র এবং স্ত্রীকে হত্যা করার কথা স্বীকার করেন উপেন্দ্র।

তিনি জানান, স্থানীয় কসাই দিলওয়ার খান-ই ঘুমের ওষুধ কিনে আনে। গত ১৭ জুলাই রাতে স্ত্রীকে সেই ঘুমের ওষুধ খাইয়েই অজ্ঞান করা হয়। এরপর তারপর তাকে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়। স্ত্রীর দেহ টুকরো ও লোপাটের জন্য দিলওয়ারকে তিরিশ হাজার টাকা দেন উপেন্দ্র।

তবে উপেন্দ্র কেন তার স্ত্রী সোনিকে কেন খুন করেছেন এখনও তার নিশ্চিত কারণ জানতে পারেনি পুলিশ। তবে উপেন্দ্র দাবি করেছেন, বিবাহ বহির্ভুত সম্পর্কের জেরেই তিনি স্ত্রীকে খুন করেছেন। ঘটনা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

এমএ/

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত
close
close