ঢাকা, রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৭ আশ্বিন ১৪২৬ আপডেট : ২ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১৪ আগস্ট ২০১৯, ০৯:৩১

প্রিন্ট

কাশ্মীরে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনুন: এইচআরডব্লিউ

কাশ্মীরে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনুন: এইচআরডব্লিউ
এইচআরডব্লিউয়ের দক্ষিণ এশিয়া বিভাগের পরিচালক মীনাক্ষী গাঙ্গুলি
অনলাইন ডেস্ক

ভারত অধিকৃত কাশ্মীরে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনা এবং সেখানকার জনগণের মানবাধিকার ফিরিয়ে দেয়ার দাবি জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। এইচআরডব্লিউয়ের দক্ষিণ এশিয়া বিভাগের পরিচালক মীনাক্ষী গাঙ্গুলি তার কাশ্মীরের সাম্প্রতিক অবস্থা নিয়ে লেখা এক নিবন্ধে এ আহ্বান জানিয়েছেন।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ওই নিবন্ধে মীনাক্ষী অভিযোগ করে বলেন, ভারত সরকার জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করার পর এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেছে। কিন্তু এখনও সেখানকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি, নিরাপত্তার ঘেরাটোপে বন্দি রয়েছেন কাশ্মীর। এখনও কারাবন্দি হয়ে আছেন তাদের প্রধান প্রধান নেতারা। ফোনের নেটওয়ার্ক সীমিত করে দেওয়া হয়েছে, ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করে রাখা হয়েছে। এমনকি ঈদের দিনও কাশ্মীরিরা তাদের প্রধান মসজিদে নামাজ পড়তে পারেননি।

প্রতিবাদরত কাশ্মীরি জনগণের ওপর সরকারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নির্যাতন চালিয়েছে বলে অভিযোগ করে মীনাক্ষী বলেন, শোনা যায়, কাশ্মীরিরা তাদের প্রিয়জনদের সঙ্গে দেখা করতে পারছেন না, রোগীরা পর্যাপ্ত চিকিৎসাসেবা পাচ্ছে না। বিক্ষোভে অংশ নেয়া সাধারণ মানুষের ওপর পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ছুড়েছে, বহু মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এমনকি গ্রেপ্তারির হাত থেকে মানবাধিকার কর্মীরা পর্যন্ত রেহাই পাননি।

কাশ্মীরি জনতার ওপর ভারতীয় সেনাদের নির্যাতনের কথা উল্লেখ করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘ভারতের জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যে ১৯৮০ এর দশকের শেষের দিক থেকে শুরু হওয়া পাকিস্তান-সমর্থিত বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনে ইতোমধ্যেই ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। এইসব হত্যাকাণ্ড, নির্যাতন এবং গুমের পিছনে ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর হাত রয়েছে। অবশ্যই এই অঞ্চলের জন্য আরও বেশি মানবাধিকার লঙ্ঘণের প্রয়োজন নেই।’

একই সঙ্গে তিনি ভারতীয় কর্তৃপক্ষের প্রতি মুসলিম অধ্যুষিত এই রাজ্যটিতে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে জননিরাপত্তা আইন বা সশস্ত্র বাহিনীর বিশেষ ক্ষমতা আইনের মতো অবমাননাকর আইনগুলো বাতিল করার আহ্বান জানান। তার মতে এসব এসব বিশেষ আইনগুলো কাশ্মীরি জনগণের ওপর নানা ধরনের ভয়াবহ নির্যাতনের জন্য দায়ী।

প্রসঙ্গত, ভারত সরকার গত ৫ আগস্ট হঠাৎ করে দীর্ঘ ৭০ বছর ধরে প্রচলিত জম্মু-কাশ্মীর রাজ্যের বিশেষ মর্য াদা বাতিল করে। এর আগের দিন রাত থেকেই গোটা রাজ্যে জারি করা হয় ১৪৪ ধারা। বন্ধ ঘোষণা করা হয় সকল স্কুল-কলেজ কলেজ। একই সঙ্গে গ্রেপ্তার করা হয় সেখানকার বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের।

কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের পর গোটা উপত্যকা যে ‘শান্ত’ রয়েছে বিভিন্নভাবে তা প্রমাণ করারই আপ্রাণ চেষ্টা চোলিয়ে যাচ্ছে মোদি সরকার। কিন্তু ১৪৪ ধারা অমাণ্য করে সেখানে বিভিন্ন সময়ে বিক্ষিপ্ত বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। এসময় সেনাদের গুলিতে বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারী নিহত এবং অনেককে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছে।

অবরুদ্ধ কাশ্মীর

সূত্র: দুনিয়া নিউজ

এমএ/

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত