ঢাকা, বুধবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৯, ১ কার্তিক ১৪২৬ আপডেট : ২ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১২:০৯

প্রিন্ট

এনআরসিতে নাম নেই বিমান বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তার

এনআরসিতে নাম নেই বিমান বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তার
অনলাইন ডেস্ক

ভারতের আসাম রাজ্যের আলোচিত নাগরিকপঞ্জি বা চূড়ান্ত নাগরিক তালিকা (এনআরসি) প্রকাশ হয়েছে গত শনিবার। এই তালিকা থেকে ১৯ লাখের বেশি মানুষ বাদ পড়েছে। এদেরই একজন হলেন ছবিন্দ্র শর্মা ঘিমির। অথচ তিনি কোনো সাধারণ ভারতীয় নন, বিমান বাহিনীতে কাজ করেছেন দীর্ঘ ৩৮ বছর ধরে। কাজের স্বীকৃতি হিসেবে পেয়েছেন রাষ্ট্রপতি পদক। ‘ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট’ হিসেবে অবসর নিয়েছেন গত বছর।

অথচ তার নামই বাদ পড়েছে আসামের চূড়ান্ত নাগরিক তালিকা থেকে। যদিও তালিকায় তার বাবা-মা এমনকি সন্তানদের নাম উঠেছে। কিন্তু একই উত্তরাধিকার নথি পেশ করা সত্ত্বেও বাদ পড়েছে তার নাম।

এ নিয়ে বিশ্বনাথ জেলার বহুবাজারের বাসিন্দা চবিন্দ্র বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের কাছ থেকে পদক পেয়েছি আমি। ৯৭ বছরের বাবা ও দেশ আমায় নিয়ে গর্বিত। কিন্তু এতদিন দেশের সেবা করার পরও এখন আদালতে গিয়ে নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে হবে!’

বাবার লিগ্যাসি ডাটা ব্যবহার করে তার ভাই-বোনদের নাম এনআরসিতে ঢুকলেও বাদ পড়েছেন চবিন্দ্র। এর কারণ জানা নেই কারো।

ভারতীয় বিমান বাহিনীতে চাকরি করা অবস্থাতেই প্রথম খসড়ায় তার নাম বাদ পড়ে। নাম ছিল না দ্বিতীয় খসড়াতেও। বাবার ১৯৫১ সালের লিগ্যাসি হাতে তিনবার শুনানিতে গিয়েছিলেন। প্রতিবারই এনআরসি কর্মীরা ভুল স্বীকার করে তার নাম উঠানোর আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু চূড়ান্ত তালিকায় তার উঠেনি।

তিন তিনবার হিয়ারিং সত্ত্বেও নাম না ওঠায় হতাশ বিমান বাহিনীর এই সাবেক কর্মকর্তা। ছবিন্দ্র শর্মা ঘিমির বলেন, ‘ওরা কীভাবে ভুল করল বুঝে উঠতে পারছি না। একবার, দু’বার নয়, তিনবার।’

ছবিন্দ্র শর্মা একা নন, এনআরসি থেকে বাদ পড়েছেন লক্ষাধিক গোর্খা পরিবার। প্রথমিক তালিকায় নাম বাদ পড়ার পরেই গোর্খা সংগঠনগুলি মোদি সরকারের দ্বারস্থ হয়। গত বছর দিল্লি সরকার এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ১৯৫০ সালের ভারত-নেপাল চুক্তি অনুযায়ী ভারতে থাকা গোর্খাদের নাগরিকত্বে সন্দেহ করে ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালে পাঠানো চলবে না। কিন্তু বিজ্ঞপ্তি বাস্তবায়ন করেনি আসাম সরকার। ভোটার তালিকায় গোর্খাদের নামের পাশ থেকে সরানো হয়নি ‘ডি’। ফলে বিশ হাজারের বেশি গোর্খা পরিবারের নাম এমনিতেই বাদ। বাদ পড়েছেন ডি-ভোটার না হওয়া অনেক পরিবারও।

এমএ/

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত