ঢাকা, বুধবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৩ আশ্বিন ১৪২৬ আপডেট : ১ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১০:৪৩

প্রিন্ট

পাকিস্তানে অনার কিলিং মামলায় ৩ ব্যক্তির যাবজ্জীবন

পাকিস্তানে অনার কিলিং মামলায় ৩ ব্যক্তির যাবজ্জীবন
অনলাইন ডেস্ক

পাকিস্তানের সবচেয়ে আলোচিত এক ‘অনার কিলিং’(পরিবারের সম্মান রক্ষার্থে হত্যা) মামলায় তিন ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড সাজা দিয়েছে স্থানীয় এক আদালত। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন ওমর খান, সাবির এবং সাহির। সাজাপ্রাপ্তরা নিহত তিন নারীর নিকটাত্মীয়।

২০১১ সালে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে হাততালি দিয়ে গান করেছিলেন নিহত ওই তিন নারী। বিয়ের ওই ভিডিওটি প্রকাশ পাওয়ার পর ওই তিন নারীকে নির্মমভাবে হত্যা করেন তাদেরই বাবা ও ভাইয়েরা। কিন্তু তাদের মৃতদেহ কখনোই খুঁজে পাওয়া যায়নি। সেসময় ওই নারীদের সাথে থাকা দুইজন পুরুষ এখনো পলাতক। তাদের সঙ্গে বিয়েতে গান গাওয়া বাকি দু’ নারীর ভাগ্যে কী হয়েছে ,তা এখনো জানা যায়নি।

ঐ হত্যাকাণ্ডের পর সহিংস সংঘাতে আরো চারজন নিহত হয়।

পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের খাইবার পাখতুনওয়ালা প্রদেশের বেশাম আদালত এ মামলার পাঁচ পুরুষ আসামিকে বেকসুর খালাস দিয়েছে।

পাকিস্তানে ২০১১ সালে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায় কয়েকজন নারী গান গাইছেন এবং হাততালি দিচ্ছেন। তাদের মধ্যে চারজনের নাম জানা যায়; বাজীগা, সিরিন জান, বেগম জান এবং আমিনা। শাহিন নামের ১৮ বছরের কম বয়সী একজন নারীও সেখানে ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ভিডিওতে একজন পুরুষকেও নাচতে দেখা যায়। যদিও ঐ পুরুষ আর নারীদের কখনোই এক ফ্রেমে দেখা যায়নি। ভিডিওটি যিনি ধারণ করছিলেন তিনিও ছিলেন পুরুষ। ওই অনুষ্ঠানে এই দুই পুরুষের উপস্থিতি দেখেই রেগে যায় ওই তিন নারীর পরিবার। যেন দুই পুরুষের সামনে গান গেয়ে তারা পরিবারের মান সম্মান ধূলায় মিলিয়ে দিয়েছে। ফলে তাদের হত্যা করার সিদ্ধান্ত নেয় তাদের পুরুষ অভিভাবকেরাই।

উত্তর কোহিস্তানের দূর্গম অঞ্চলের মানুষেরা পরিবারের সম্মানের সাথে জড়িত বিষয়গুলোর সুরাহা করে রক্তের বিনিময়েই। আর একেই বলে অনার কিলিং। স্থানীয় প্রথা অনুযায়ী, কোনো নারীর বিরুদ্ধে অসামাজিক কার্যক্রমে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠলে তার পরিবারের সদস্যরা প্রথমে ঐ নারীকে হত্যা করে, পরে অভিযুক্ত পুরুষটিকেও। তা সে অভিযোগ যত তুচ্ছই হোক না কেন।

নিয়ম অনুযায়ী ওই ভিডিওতে যতজনকে দেখা গিয়েছিল, তাদের সবারই জীবন হুমকির মুখে পড়ে। এক পর্যায়ে ওই তিন নারীকে হত্যা করেন তাদের বাবা ও ভাইয়েরা। এ ঘটনায় সামাজিকভাবে অপরাধী ওই দুই পুরুষ এখনও পলাতক। বাকি দু’নারীর ভাগ্যে কী হয়েছে তা অনিশ্চিত।

তিনি নারীকে হত্যার প্রায় এক বছর পর অর্থাৎ ২০১২ সালে ঘটনাটি জানাজানি হয়। যখন ভিডিওর সঙ্গে জড়িত দু্ই ব্যক্তির একজনের ভাই, আফজাল কোহিস্তানি তার ভাইয়ের জীবন বাঁচাতে প্রচলিত রীতি লঙ্ঘন করে নারীদের হত্যার অভিযোগ তোলেন।

আফজাল কোহিস্তানির করা আবেদন পাকিস্তান সুপ্রিম কোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এবং সুপ্রিম কোর্ট হত্যাকাণ্ডের একটি তদন্তের নির্দেশ দেয়।

অবশেষে ২০১৯ সালে ওই তিন নারীর হত্যার ঘটনায় আদালতে আনুষ্ঠানিকভাবে মামলা রজু করা হয়। মামলার রায়ে বৃহস্পতিবার নিহত বাজিগা'র বাবা সাবির, সিরিন জানের বাবা সাহির এবং বেগম জানের ভাই ওমর খানকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।

তবে যেই আফজাল কোহিস্তানির কারণে পাকিস্তানের এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের খবর প্রকাশ পেয়েছে, তিনি জীবিত থাকতে এই শাস্তি দেখে যেতে পারেননি। চলতি বছরের মার্চে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় অ্যাবোটাবাদ শহরে গুলি করে হত্যা করা হয় আফজাল কোহিস্তানিকে। আর এই হত্যাকাণ্ডের পাকিস্তানের বিচার ব্যবস্থা নিয়েই প্রশ্ন তোলা হয়।

এর আগে ২০১৩ সালে এই হত্যাকাণ্ডের ওপর সাক্ষী দেয়ার কারণে আফজাল কোহিস্তানির তিন ভাইকে হত্যা করা হয়, পুড়িয়ে দেয়া হয় তাদের বাড়ি-ঘর। এখনো পলাতক রয়েছেন তার অন্য ভাইয়েরা।

আফজাল কোহিস্তানি

এমএ/

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত