ঢাকা, শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৯, ২ কার্তিক ১৪২৬ আপডেট : কিছুক্ষণ আগে English

প্রকাশ : ০৮ অক্টোবর ২০১৯, ০৯:০৭

প্রিন্ট

ভিক্ষুকের ঘরে মিললো ১০ লাখ টাকা

ভিক্ষুকের ঘরে মিললো ১০ লাখ টাকা
কলকাতা প্রতিনিধি

ভারতের মুম্বইয়ের এক ভিক্ষুকের ঘর থেকে উদ্ধার হল ফিক্সড ডিপোজিট ও নগদ অর্থসহ ১০ লাখেরও বেশি ভারতীয় রুপি।

সম্প্রতি মুম্বইয়ের গোভান্ডি স্টেশনের কাছে ট্রেনের ধাক্কায় মৃত্যু হয় ভিক্ষাজীবী বিরজু চন্দ্র পান্নারমজি আজাদের। স্টেশনের কাছেই এক ঝুপড়িতে থাকতেন ৮২ বছর বয়সী বিরজু। গত ৪ অক্টোবর লাইন পারাপার করতে গিয়ে মারা যান তিনি। এলাকাবাসীর সাহায্যে মৃত বিরজুর দেহ চিহ্নিত করে পুলিশ।

পরে তার মৃতদেহ নিয়ে তার ঝুপড়িতে আসে পুলিশ। কিন্তু তার ঝুপড়ির ঘরে ঢুকে অবাক হয়ে যায় পুলিশ। বিরজুর এক কামরার ঘরে ঢুকে দেখা যায় ছোট ছোট ব্যাগ ও বালতিতে ভরা প্রচুর কয়েন। সেসব যত্ন করে রাখা। কয়েনগুলিতে মরচে ধরে গিয়েছে। বিপুল ওইসব কয়েন গুনতে ৮ ঘণ্টা লেগে যায় পুলিশের। দেখা যায়, সবেমিলিয়ে রয়েছে ১ লাখ ৭৭ হাজার রুপি।

অন্যদিকে, বিভিন্ন ব্যাঙ্কে রয়েছে ৮ লাখ ৭৭হাজার টাকার ফিক্সড ডিপোজিটের কাগজ। সবেমিলিয়ে মোট ১০ লাখ ৫৪ হাজার টাকার মালিক ওই ভিক্ষুক।

গত শুক্রবার মুম্বইয়ের মানখুর্দ এবং গোবান্ধি স্টেশনের মধ্যে ট্রেনের ধাক্কায় আজাদের মৃত্যুর পরে আত্মীয়ের খোঁজে বস্তিতে হানা দেয় জিআরপি। সেখান থেকেই এই তথ্য মেলে। জানা গিয়েছে, জিআরপি আজাদের ছেলের খোঁজ করছে। সে রাজস্থানে থাকে বলে জানা গিয়েছে।

প্রথমে লাইনের ধারে পড়ে থাকতে দেখা গিয়েছিল বিরজুর মরদেহ। পুলিশের তরফে দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু উল্লেখ করে মামলা শুরু করা হয়। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা তার লাশ সনাক্ত করেন। বিরজু ট্রেনে ভিক্ষা করতেন। তার প্রতিবেশীরা বলছে, ওই ঝুপড়িতে তিনি একাই থাকতেন।

বস্তিতে বিরজুর ঘরে খুঁজে বের করা পুলিশের সাব ইনস্পেক্টর প্রবীণ কাম্বলে জানিয়েছেন, তারা ঘরে চারটি বড় ডাব্বা এবং একটা ব্যারেল পেয়েছেন। ওই ডাব্বাগুলির মধ্যে ১, ২, ৫, এবং ১০ রুপির কয়েন আলাদা করে প্লাস্টিকে বাধা অবস্থায় ছিল। শনিবার বিকেলে সেই কয়েন গোনার কাজ শুরু হয়। রোববার গিয়ে সেই কাজ শেষ হয়। সেখানে ১ লাখ ৭৭ হাজার টাকা পাওয়া গিয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

একটি স্টিলের পাত্রে প্যান কার্ড, সিনিয়র সিটিজেন কার্ড এবং আধার কার্ডও পাওয়া গিয়েছে। যেগুলির সবই বিরজুর নামে। সেইসব সরকারি কাজগে দেয়া তথ্য অনুযায়ী আজাদের জন্ম ১৯৩৭ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি। আগে তিনি শিবাজি নগরের বৈগানওয়াডির বাসিন্দা ছিলেন। এইসব কাগজপত্রের সঙ্গে পাওয়া দিয়েছে দুটি আলাদা ব্যাঙ্কে রাখা ৮ লাখ ৭৭ হাজার টাকার ফিক্সড ডিপোজিটের সার্টিফিকেট। পাশাপাশি সেভিংস অ্যাকাউন্টের পাশবুকও পাওয়া গিয়েছে।

ভাসি জিআরপির সিনিয়র পুলিশ ইনস্পেক্টর এনকে সাস্তে জানিয়েছেন, বিরজু একাই থাকতে পছন্দ করতেন বলে জানিয়েছেন প্রতিবেশীরা। বস্তির ঘর থেকে পাওয়া কাগজপত্র থেকে জানা গিয়েছে, ওই ভিক্ষুক রাজস্থানের রামগড়ের বাসিন্দা।

ছেলে সুখদেবকে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে নমিনি করে গিয়েছেন। সুখদেবকে খুঁজে বের করার জন্য রাজস্থানের পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছে মুম্বাই পুলিশ।

এমএ/

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত