ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর ২০১৯, ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ আপডেট : ১০ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ২৩ অক্টোবর ২০১৯, ১৫:১৩

প্রিন্ট

অবশেষে মায়ের কোলে নোবেলজয়ী অভিজিৎ

অবশেষে মায়ের কোলে নোবেলজয়ী অভিজিৎ
মায়ের সান্নিধ্যে অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়
অনলাইন ডেস্ক

অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন কলকাতার ছেলে অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়। এ খবর পাওয়ার পর থেকে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলেন মা নির্মলাদেবী। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শেষ হলো সেই প্রতীক্ষার প্রহর। অবশেষে দীর্ঘদিন পর ঘরে ফিরেছেন ছেলে।

ছেলেকে কাছে পেয়ে স্বভাবতই খুব খুশি অভিজিতের মা। ছেলের পছন্দের নানা পদ তৈরি করে রেখেছেন। শুধু কি নিজের মা নির্মলাদেবী, অভিজিৎেকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত গোটা কলকাতাবাসী।

কলকাতায় আসার আগে দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন অভিজিৎ। সেই সাক্ষাতের খবর ফলাও করে নিজেই টুইট করেছেন। এরপরই কলকাতার ফ্লাইট ধরেন নোবেল বিজয়ী এই অর্থনীতিবিদ। তাকে ঘিরে উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা যায় বিমানের পাইলট ও অন্যান্য কর্মীদের মধ্যেও। অভিজিৎবাবুর হাতে ফুল ও হাতে-লেখা চিঠি তুলে দিয়ে বিমান সংস্থা। বিমানকর্মীদের সঙ্গে ছবি তোলার অনুরোধ জানান পাইলট স্বয়ং। এভাবেই দমদম বিমানবন্দরের মাটি স্পর্শ করে তাকে বহনকারী বিমান।

নোবেলজয়ীকে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম, মন্ত্রী ব্রাত্য বসু, বিমানবন্দরের অধিকর্তা কৌশিক ভট্টাচার্য। তারা তাকে ফুলের তোড়া দিয়ে অভ্যর্থণা জানান। এরপর মেয়রের গাড়িতে করেই ফিরলেন বালিগঞ্জ সার্কুলার রোডের ফ্ল্যাটে, তার মায়ের কাছে।

কলকাতা পুলিশের কনভয় অভিজিৎকে যখন বাড়ির দরজায় পৌঁছে দেয় স্থানীয় সময় রাত তখন ৮টা। সাদা ফুলহাতা জামা, ছাইরঙা প্যান্ট আর লাল জহরকোট পরা অভিজিৎ গাড়ি থেকে নেমে ঢুকে গেলেন ভিতরে। বিশ্বজয়ী ছেলেকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত ছিলেন মা। শাঁখ বাজিয়ে আর উলুধাবনি দিয়ে বরণ করে নেন অভিজিৎকে।

অভিজিৎ খেতে খুব ভালবাসেন। নিজে রান্না করতেও ভালোবাসেন। তাই মঙ্গলবার দুপুর থেকেই ছেলের জন্য নিজে দাঁড়িয়ে থেকে কাতলা মাছের পেটির কালিয়া, মাংসের কাবাব, মুড়িঘণ্ট আর পায়েস রান্না করিয়েছেন মা নির্মলাদেবী।

এর আগে অভিজিতের পছন্দের সাবুর বড়া বানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে খাইয়েছিলেন নির্মলাদেবী। ভেবেছিলেন অভিজিৎ ফিরলে তাকে মোচার চপ বানিয়ে খাওয়াবেন। কিন্তু এ দিন বাড়িতে মোচা না-থাকায় সেটা সম্ভব হয়নি।

অভিগিতের নোবেল জয়ের খবর আসার পর থেকেই বাড়িতে লোকজনের আনাগোনা বেড়েছে। তবে ছেলে যে বেশি ভিড় পছন্দ করেন না সেটা জানালেন নির্মলা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি আরো জানান, অভিজিতের ধৈর্য খুব, তাই সে সব ঠিক সামলে নেবেন।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যে নির্মলাদেবীর সঙ্গে দেখা করে অভিজিতের জন্য উপহার দিয়ে গেছেন। তবে বাইরে বেরোনোর সময় পাননি বলে ছেলের জন্য কোনও উপহার কিনতে পারেননি অভিজিতের মা। এতে যদিও কিছু যায় আসে না। অেনেক দিন পর ছেলেকে কাছে পেয়েছেন। যত্ন করে খাওয়াবেন, গল্পও হবে খুব। যদিও অর্থনীতি, গবেষণা বা অভিজিতের আগামী কোনো বই নিয়ে আলোচনার সময়ই হবে না বলেই জানান তিনি। তবে কোনো পুরনো স্মৃতি নিয়ে গল্প করবেন মা আর ছেলে মিলে। ছেলেরা বন্ধুরা আসবেন দল বেধে। তাদের সঙ্গেও গল্প করবেন অভিজিৎ। তবে মা আর ছেলেতে মিলে কোথাও ঘুরতে যাওয়া হয়তো হবে না তাদের।

এমএ/

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত