ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০৬ আগস্ট ২০২০, ২২ শ্রাবণ ১৪২৭ আপডেট : ২৭ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৪:৫৮

প্রিন্ট

‘আমার মেয়ের আত্মা শান্তি পেয়েছে’

‘আমার মেয়ের আত্মা শান্তি পেয়েছে’
অনলাইন ডেস্ক

ভারতে পুলিশের এনকাউন্টারে বৃহস্পতিবার নিহত হয়েছে আলোচিত তেলেঙ্গানা ধর্ষণ মামলার চার অভিযুক্ত। এ ঘটনায় খুশি নির্যাতিতার গোটা পরিবার। এ ঘটনায় প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে নিহত ধর্ষিতার বাবা বলেন,‘আমার মেয়ের আত্মা শান্তি পেয়েছে।’

স্থানীয় এক সংবাদ মাধ্যমকে নিহত পশু চিকিৎসকের বাবা বলেন, ‘আমার মেয়ে মারা যাওয়ার পর ১০ দিন পেরিয়ে গেছে। আমি এ ক’দিন একটুও ঘুমাতে পারিনি। আমি এ ঘটনায় তেলেঙ্গানার রাজ্য সরকার ও পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। এখন আমার মৃত মেয়ের আত্মা শান্তি পাবে।’

এ প্রসঙ্গে তেলঙ্গানার আইনমন্ত্রী এ ইন্দ্রকরণ রেড্ডি জানিয়েছেন, ‘অভিযুক্তরা পুলিশের অস্ত্র ছিনতাই করে পালানোর চেষ্টা করে। গুলি চালায় পুলিশ। তাতেই মৃত্যু হয় অভিযুক্তদের’। ভগবান অভিযুক্তদের শাস্তি দিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

শুধু নির্যাতিতার পরিজনেরাই নন। ঘটনার ১০ দিনের মাথায় হায়দরাবাদ পুলিশের এনকাউন্টারে চার অভিযুক্তের খতম হওয়ায় খুশি তেলঙ্গনার ছাত্রীরাও। শুক্রবার স্কুলবাসের মধ্যে আনন্দে তাদের নাচতে দেখা যায়।

এ ঘটনায় আনন্দিত ২০১২ সালে দিল্লিতে গণধর্ষণে নিহত নির্ভয়ার মা আশা দেবীও। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘‌দারুণ খুশি হয়েছি। অবশেষে সুবিচার হল। আশা করব পুলিশকে কোনও শাস্তি পেতে হবে না। গত সাত বছর ধরে আদালতে গেছি।’‌

নির্ভয়ার বাবা বলেছেন, ‘‌মেয়ের ধর্ষণকারীরা আজও বেঁচে আছে। আর সাত বছর ধরে প্রতিদিন আমরা একটু একটু করে মরছি। হায়দরাবাদ পুলিশ খুব ভাল কাজ করেছে।’

এদিকে যে জায়গায় চার অভিযুক্তকে এনকাউন্টার করে পুলিশ, সেই জায়গায় গোলাপ ফুল ছড়িয়ে স্থানীয়রা অভিনন্দন জানান পুলিশকে। নির্যাতিতার প্রতিবেশীরা রাখি পরিয়েছেন পুলিশ কর্মকর্তাদের।

বিএসপির সর্বভারতীয় সভাপতি মায়াবতী বলেছেন, ‘‌উত্তরপ্রদেশে দিনদিন ধর্ষণের ঘটনা বাড়ছে। কিন্তু রাজ্য পুলিশ ঘুমাচ্ছে। হায়দরাবাদ পুলিশ দৃষ্টান্ত স্থাপন করল। তাছাড়া উত্তরপ্রদেশে জঙ্গলরাজ চলছে। দুষ্কৃতীরা এখানে অতিথির সম্মান পায়।’‌

ইতিমধ্যে সোশ্যাল মিডিয়াতেও এই ঘটনা নিয়ে চলছে জোর চর্চা। গণধর্ষণে অভিযুক্তদের নিহত হওয়ার ঘটনায় হায়দরাবাদ পুলিশকে সাধুবাদ জানিয়েছেন নেটিজেনরাও।

জানা যায়, ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য চার অভিযুক্তকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল হায়দরাবাদের সাদনগরে ৪৪ নন্বর জাতীয় স়ড়কের আন্ডার পাসের কাছে। কিন্তু ঘটনাস্থলে যাওয়ার পথে সাদনগরের চাতানপল্লিতে পুলিশের হেফাজত থেকে পালানোর চেষ্টা করে অভিযুক্তরা। এ সময় পুলিশের গুলিতে নিহত হন চার অভিযুক্ত আরিফ, নবীন, শিবা ও চেন্নাকেশাভুলু। শুক্রবার রাত তিনটে থেকে ভোর ছ’টার মধ্যে ঘটনাটি ঘটে বলে স্থানীয় সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ২৭ নভেম্বর ভারতের হায়দরাবাদে এক তরুণী পশু চিকিৎসককে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় পুরো ভারত প্রতিবাদে উত্তাল। গণধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় আদালতে একটি প্রতিবেদন জমা দেয় পুলিশ। সেখানে পুলিশ জানিয়েছে, মৃত্যুর পরও লরির কেবিনে নিয়ে গিয়ে ২৭ বছরের ওই তরুণীকে চার জনই একে একে ধর্ষণ করে।

তরুণীকে হত্যার পর তারা গাড়ি করে সাধনগরের কাছে জাতীয় সড়কে চলে আসে অন্ধকার জায়গা খোঁজার জন্য। সাধনগরের ছাটানপল্লির একটি কালভার্টের তলায় দেহটিকে কম্বলে জড়িয়ে পেট্রল ছড়িয়ে দেয়। তারপর তারা এতে আগুন ধরিয়ে দেয়। তরুণীকে যাতে চিহ্ণিত করতে না পারে, তার জন্যই তাকে নির্মভাবে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। পরদিন সামশাবাদের ৪৪ নম্বর জাতীয় সড়কের কাছে একটি সেতুর নিচ থেকে তার অগ্নিদগ্ধ দেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এমএ/

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত