ঢাকা, শুক্রবার, ২৪ জানুয়ারি ২০২০, ১১ মাঘ ১৪২৭ আপডেট : ৫৯ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১১ ডিসেম্বর ২০১৯, ১১:১৭

প্রিন্ট

বিক্ষোভে অচল ত্রিপুরা-আসাম, আহত ২০

বিক্ষোভে অচল ত্রিপুরা-আসাম, আহত ২০
অনলাইন ডেস্ক

ভারতীয় পার্লামেন্ট লোকসভায় সোমবার মধ্যরাতে পাস হওয়া বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল বা Citizenship Amendment Bill(সিএবি)’র বিরুদ্ধে বিক্ষোভে ফেটে পড়েছে দেশের উত্তর পূর্ব রাজ্যগুলো, বিশেষ করে আসাম, মনিপুর ও ত্রিপুরা। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ত্রিপুরা ও আসামের বিভিন্ন এলাকায় কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছেন। আটক করা হয়েছে শত শত বিক্ষোভকারীকে।

বিক্ষোভ সামাল দিতে না পেরে রাজ্যের মোবাইল-ইন্টারনেট এবং এসএমএস পরিষেবা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ত্রিপুরার বিপ্লব দেব সরকার। বিভিন্ন এলাকায় জারি করা হয়েছে ১৪৪ ধারা।

মঙ্গলবার একই রকম অবস্থা হয়েছে আসামেও। রাজ্যের বিভিন্ন এলাকা থেকে আটক করা হয়েছে ৪ শতাধিক পিকেটারকে।

উত্তর-পূর্বের প্রভাবশালী ছাত্র সংগঠনের ডাকা ১১ ঘণ্টার বনধকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে ত্রিপুরা। এসময় আগরতলায় কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকেন বিক্ষোভকারীরা। বিভিন্ন স্থানে জাতীয় সড়ক ও রেল লাইনগুলো অবরোধ করে। তবে বন্‌ধের কারণে উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেল কর্তৃপক্ষ আগেই ট্রেন চলাচল বাতিল করে দেয়। তবে বেলা বাড়তেই গোলযোগ ছড়িয়ে পড়ে উত্তর ত্রিপুরা, ধলাই ও পশ্চিম ত্রিপুরার অ-উপজাতি অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে। ফলে বিপর্যস্ত হয় জনজীবন।

বনধ বা হরতাল চলাকালে বিক্ষোভকারীরা রাজ্যের অ-উপজাতিদের ওপর চড়াও হয়। উত্তর ত্রিপুরা জেলার কাঞ্চনপুরে উন্মত্ত বন্‌ধ সমর্থকদের ছত্রভঙ্গ করতে শূন্যে ১০ রাউন্ড গুলি ছুড়ে পুলিশ। কাঞ্চনপুরের আনন্দবাজার এলাকায় আতঙ্কিত অ-উপজাতি বাসিন্দারা বাড়ি ফিরতে না পেরে থানায় এসে আশ্রয় নেন। সেখানকার দশদা স্কুলে আশ্রয় নিয়েছেন ৭০টি পরিবার। তাদেরকে বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার হুমকি দিয়েছে বনধ সমর্থকরা।

ধলাই জেলার মনুঘাট ও ৮২মাইল বাজারের বিভিন্ন দোকানে অগ্নিসংযোগ করে বিক্ষোভকারীরা। তারা এসব দোকানে অবাধে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায় বলেও জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদ মাধ্যম আনন্দবাজার ও এনডিটিভি। তাদের আক্রমণে এক ব্যবসায়ী আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এক ব্যবসায়ী। প্রাণ বাঁচাতে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে হুড়োহুড়ি শুরু হয়ে যায়। বেশ কিছু মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর চালানো হয়। পরে হামলাকারীদের হঠাতে লাঠিচার্জ করে পুলিশ।

এছাড়া আগরতলা শহরের উত্তর গেট এলাকায় থেকে পুলিশ শতাধিক অবরোধকারীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

এদিকে কোনও রকম গুজব যাতে না ছড়ায় সেজন্য ত্রিপুরায় মোবাইল ইন্টারনেট এবং এসএমএস পরিষেবা আগামী ৪৮ ঘণ্টার জন্য বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য সরকার।

উত্তর জেলার কাঞ্চনপুরে এসডিএম অফিসের সামনে পথ অবরোধ করে বন্‌ধ সমর্থকরা। ফলে মঙ্গলবার বেলা ২টা পর্যন্ত কেউ অফিসে ঢুকতে পারেননি। লালঝুরি, দশদা এবং আনন্দবাজার থেকে কাঞ্চনপুরমুখী সমর্থকদের পুলিশ বাধা দেয়। এরপরেই তারা লাঠি, টাঙি, দা’নিয়ে নিয়ে রাস্তায় নেমে পড়ে। কাঞ্চনপুর, দশদা ও আনন্দবাজার এলাকায় তাণ্ডব শুরু করে তারা। দোকানপাট, গাড়ি ভাঙচুর করে। বাজারে ঢুকে তারা সমস্ত দোকানপাটে ভাঙচুর চালায়। তাদের হামলায় ১৩ জন আহত হয়। কয়েকটি গাড়িতেও তারা আগুন ধরায়।

পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ, টিএসআর এবং কেন্দ্রীয় আধা সামরিক বাহিনী নিয়ে রাস্তায় নামেন কাঞ্চনপুরের এসডিএম অভেদানন্দ বৈদ্য। নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে তারা ইট, পাটকেল, পেট্রল বোমা ছুড়তে শুরু করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে পুলিশ শূন্যে দশ রাউন্ড গুলি ছোড়ে। পরে কাঞ্চনপুর এবং আনন্দবাজার এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। পাশাপাশি, সিপাহিজলা জেলার দেওয়ানবাজারে বন্‌ধ সমর্থকদের ছোড়া কাঁচের বোতল, গুলতি এবং ইটপাটকেলের আঘাতে তিনজন পুলিশ কর্মী জখম হন। তাদের হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে।

এদিনই বিলের প্রতিবাদে উত্তর-পূর্বের ছাত্র সংগঠনের ডাকে ১১ ঘণ্টার বনধ্ পালিত হয় আসামেও। ফলে রাজধানী গৌহাটিসহ উত্তর-পূর্বের বিভিন্ন স্থানের জনজীবন থমকে যায়। প্রধান প্রধান সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে প্রতিবাদ করতে থাকে বিক্ষোভকারীরা। ফলে বন্ধ হয়ে যায় সকল প্রকার যানবাহন ও রেল চলাচল।

আসামের অন্যান্য অংশেও ব্যাপক প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়ে, স্লোগান দেওয়ার পাশাপাশি বিধানসভা ও রাজ্যের সচিবালয় সংলগ্ন এলাকায় নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়েন বিক্ষোভকারীরা। ডিব্রুগড় জেলায় সিআইএসএফ কর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষ বেঁধে যায় বিক্ষোভকারীদের, দুলিয়াজানে সংঘর্ষের ঘটনায় তিনজন আহত হন।

বিলটি পাস হওয়াকে ‘মারাত্মক’পদক্ষেপ বলে মন্তব্য করেছেন আসামের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈ। তার দাবি এই বিল পাসের পর বাংলাদেশ থেকে প্রচুর মানুষ সে রাজ্যে ঢুকে পড়বে।

সোমবার ৭ ঘন্টা উত্তপ্ত বিতর্কের পর লোকসভায় বিতর্কিত বিলটি পাশ হয়। বিলের পক্ষে পড়ে ৩১১টি ভোট এবং বিপক্ষে পড়ে ৮০টি।

২০১৫-এর আগে বাংলাদেশ, পাকিস্তান এবং আফগানিস্তান থেকে আসা অমুসলিম নাগরিকদের নাগরিকত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে এই বিলে। দেশের স্বনামধন্য ব্যক্তি, আন্দোলনকারী এবং বিরোধী রাজনৈতিক নেতানেত্রীরা অতি সত্ত্বর বিলটিকে প্রত্যাহারের দাবি তুলেছেন এবং সেটিকে ‘পক্ষপাতদুষ্ট’বলে মন্তব্য করেছেন তারা।

এমএ/

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত