ঢাকা, সোমবার, ৩০ নভেম্বর ২০২০, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৭ আপডেট : ১ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ২০ অক্টোবর ২০২০, ১৬:২৯

প্রিন্ট

মেক্সিকোর ওলমেক সভ্যতা

মেক্সিকোর ওলমেক সভ্যতা
প্রতীকী ছবি
ইতিহাস-ঐতিহ্য ডেস্ক

প্রত্নতাত্ত্বিকদের মতে, মেক্সিকোতে ওলমেক সভ্যতার ইতিহাস অনেক প্রাচীন। মায়া ও অ্যাজটেক সভ্যতার কথা খুব শোনা যায়, কিন্তু ওলমেক সভ্যতা এদের থেকেও বুড়ো।

মেক্সিকোর ক্যারিবিয়ান উপকূলে গড়ে উঠেছিলো এই সভ্যতা। ১৮৬২ সালে চাষিরা মাটি খুঁড়লে সন্ধান মেলে এই সভ্যতার। প্রাচীন এই সভ্যতার প্রাচুর্য দেখে অবাক হয়েছেন ঐতিহাসিকরা।

‘ওলমেক’ শব্দটি এসেছে অ্যাজটেক সভ্যতার ‘নাহুতল’ ভাষা থেকে। শব্দটির অর্থ হচ্ছে ‘রাবার পিপল’। ১৫-১৬ শতকে উপসাগরীয় এলাকার নাব্যদেশে যারা বসবাস করত তাদের এই নামে ডাকা হতো।

ওলমেকদের আদিনিবাস ধরা হয় আফ্রিকাকে। তারা প্রাক কলোম্বিয়ান সভ্যতার অধিবাসী। এরা দক্ষিণ মধ্য মেক্সিকোর গ্রীষ্মমণ্ডলীয় নিচু ভূমিতে বসবাস করতো।

খ্রিস্টপূর্ব ১৪০০ থেকে ৪০০ অব্দে ওলমেক সভ্যতা বিস্তৃতি লাভ করে। তারা সবসময় মাথায় ভারী হেলমেট পরতো। তারা মাথাকে শাসকের প্রতিকৃতি বলে মনে করতো। তাদের এই শিরণাস্ত্রর আলাদা আলাদা বৈশিষ্ট্য ছিল। এগুলো নানা ধরনের উপকরণ দিয়ে অলংকৃত করা হতো।

এ ধরনের ১৭টি প্রকাণ্ড শিরণাস্ত্র পরিহিত মাথা পাওয়া গেছে। এগুলোর সাইজ ৩.৪ মিটার থেকে শুরু করে ১.৪৭ মিটার পর্যন্ত।

অনেকে ওলমেকদের বলে থাকেন ‘নওবান’ —এটাই নাকি ওদের আসল নাম। তাদের সূক্ষ্ম খোদাইয়ের কাজ, বিরাট ভাস্কর্য, ভাষার ব্যবহার, শূন্য আবিষ্কার, গণিতশাস্ত্রে পাণ্ডিত্য ও বর্ষপঞ্জি প্রত্নতাত্ত্বিকদের চমক লাগিয়ে দিয়েছে। পরবর্তী বিখ্যাত সভ্যতাগুলোর মতোই তারা পুরো ৩৬৫ দিনের এক দিনপঞ্জিকা মেনে চলত। ওলমেকদের ছিল পিরামিড বানানোর দক্ষতা।

পশ্চিমা দুনিয়ায় ওলমেকরাই সম্ভবত প্রথম জাতি, যারা নিজেদের একটি লিখন-পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছিল। মায়া সভ্যতার বর্ণমালা ওলমেক সভ্যতার প্রভাবেই গড়ে উঠেছে বলে মনে করা হয়। প্রথমদিকে তারা অন্যান্য কৃষিনির্ভর সভ্যতার মতোই শস্য উৎপাদন করত। পরবর্তী সময়ে হঠাৎ করেই তারা বাণিজ্যের দিকে ঝুঁকে পড়ে। বাণিজ্যের প্রয়োজনে যাতায়াতের বিভিন্ন পথ তারা খুঁজে বের করে।

ওলমেক সভ্যতার কথা খুব বেশি করে প্রচারিত হয়নি। তিন হাজার দুইশ বছর আগে মেক্সিকোর তটবর্তী স্থানে এই সভ্যতার জন্ম হয়। দ্বাদশ শতাব্দী পর্যন্ত ওলমেক সভ্যতার উন্নতি ঘটে। তারপর হঠাৎ করে একদিন তাদের বিলুপ্তি ঘটে। রহস্যজনকভাবে হারিয়ে যায় তারা। ওলমেক সভ্যতার যথেষ্ট বিকাশ ঘটেছিল। প্রত্নতাত্ত্বিকেরা এখন পর্যন্ত চারটি স্থানে এই সভ্যতার নিদর্শন পেয়েছেন। স্থানগুলো হলো— লেগুনা ডি সিরোস, সান লরেঞ্চো, ট্রেস জাপোটেস ও লা ভেনতা।

লা ভেনতা শহরে ছোট সিঁড়িযুক্ত পিরামিড পাওয়া গেছে। খ্রিস্টপূর্ব ৮০০ বছর থেকে ৫০০ বছর পর্যন্ত এটি ছিল ওলমেক সভ্যতার সবচেয়ে সমৃদ্ধ শহর। চারটি ব্যাসল্ট পাথরের স্তম্ভের ওপর একটি চার কোনা আচ্ছাদন ছিল। যা দেখতে অনেকটা ছাতার মতো। স্থানটি ছিল শবদেহের সমাধিক্ষেত্র। এর ভিতরে আছে নকশা করা পাথরের টুকরো, অলংকৃত বেদি, পাথরের তৈরি বিশাল মূর্তি। সবুজ পাথরের তৈরি একটি মূর্তি পাওয়া গেছে। একটি পুরুষ বর্ষার দেবতাকে হাত দিয়ে তুলে ধরে আছে। আরেকটি মূর্তি হলো বাঁদরের ন্যায় মুখাকৃতির একটি মানুষের। সে তাকিয়ে রয়েছে আকাশের দিকে। কারো মতে মূর্তিটি নক্ষত্রগুলোর পুজো করছে। কারো মতে এটি হলো কোনো ওলমেক জ্যোতির্বিদের।

লা ভেনতার মাটির নিচ থেকে ৮ ইঞ্চি করে লম্বা অনেকগুলো মূর্তি পাওয়া গেছে। একটি লাল পাথরের মূর্তি রহস্যের সৃষ্টি করেছে। মূর্তিটি ঠিক কী বলতে চাইছে তার রহস্য এখনো জানা যায়নি। কারো মতে, মূর্তিটি হলো কোনো অপরাধী ব্যক্তির। সে মৃত্যুদণ্ডের আদেশের প্রতীক্ষা করছে।

বাংলাদেশ জার্নাল/এইচকে

আরো পড়ুন:

> ‘পুমা পুংকু’ এক বিস্ময়

> হারিয়ে যাওয়া রহস্যময় সভ্যতা

> ব্যাবিলনের শূন্য উদ্যান

> রহস্যঘেরা স্টোনহেঞ্জ

> গিজার পিরামিড এক ‘অচেনা রহস্য’

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত