ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ জানুয়ারি ২০২০, ৮ মাঘ ১৪২৭ আপডেট : ৩০ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১৪ জানুয়ারি ২০২০, ১০:৫৮

প্রিন্ট

বিক্ষোভ নিয়ে টুইট করে ট্রোলড লেখক চেতন ভগত

বিক্ষোভ নিয়ে টুইট করে ট্রোলড লেখক চেতন ভগত

অনলাইন ডেস্ক

চেতন ভগত একজন জনপ্রিয় ভারতীয় উপন্যাসিক। দেশ-বিদেশ জুড়ে তার লেখার প্রচুর পাঠক ছড়িয়ে রয়েছে। আর তার মতো একজন জনপ্রিয় লেখক কিনা ভারতের চলমান বিক্ষোভ নিয়ে টুইট করে ট্রোলড হয়েছেন। এসময় অনেকে তার মতো একজন উচ্চশিক্ষিত ব্যক্তির জ্ঞানের বহর নিয়েও পশ্ন তুলেছেন।

মোদি সরকারের বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের (সিএএ) গোটা ভারত জুড়ে চলছে বিক্ষোভ। সম্প্রতি এ নিয়ে বিক্ষোভ করার সময় বিজেপি সমর্থিত ছাত্র সংগঠনের হামলার শিকার হন দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের (‌জেএনইউ)‌ শিক্ষার্থীরা। এই হামলার প্রতিবাদে ভারতের অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতেও সরকার বিরোধী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে যা এখনও অব্যাহত।

এই বিক্ষোভের বিরুদ্ধে টুইট করেই ট্রোলড হয়েছেন লেখক চেতন ভগত। টুইটে তিনি লেখেন, দেশে কমপক্ষে ৪০ হাজার কলেজ আছে। অবশ্যই জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের সঙ্গে যা হয়েছে তা নিন্দনীয়। তা বলে এক ঘটনা নিয়ে আর কতদিন প্রতিবাদ চলবে!

টুইটে তিনি আরো লেখেন, ‘জেএনইউ তো শুধুই একটি কলেজ! দেশে এর থেকেও বড় ঘটনা ঘটছে। দেশের মানুষ এর থেকেও বড় সমস্যায় জর্জরিত!’

চেতনের এই পোস্ট শেয়ার হতেই বিদ্রুপে ফেটে পড়েন নেটিজেনরা। একে তো মোদি সরকারের পক্ষ নিয়ে কথা, তারওপর জেএনইউ’কে কলেজ বানিয়ে ফেলা, কার না রাগ হয় বলুন! অনেকের মাথায় তো এটা আসছে না, চেতনের মতো বুদ্ধিজীবী কী করে কলেজ আর বিশ্ববিদ্যালয়কে এক করে ফেললেন!

ফলে দ্রুত সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয় চেতনের এই পোস্ট। স্থানীয় সংবাদ মাধ্যম এনডিটিভি জানায়, ইতিমধ্যে সাত হাজার বার এটি রি-টুইট হয়েছে, লাইক পড়েছে ৪১.৫ হাজারটি।

চেতনের কাছে অনেকের প্রশ্ন, ‘অবশ্যই দেশে আরও কলেজ আছে। কিন্তু ভুয়া ভিডিও দেখে কোন কলেজের পড়ুয়াদের দেশদ্রোহী তকমা দেওয়া হয়? মুখোশধারী গুণ্ডাবাহিনি রড, লাঠির বাড়ি মেরে রক্তাক্ত করে শিক্ষার্থীদের?’

আরেকজন লেখেন, ‘চেতনের মতো জনপ্রিয় সাহিত্যিকের মুখে এই ধরনের কথা মানায় না। তিনি কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় একাকার করে দিলেন! কলেজ কি কৃষিজমি! যে আগাছা তোলার মতো পড়ুয়াদের লাঠি-রডের বাড়ি মেরে মুড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হবে?’

প্রসঙ্গত, বিতর্কে জড়িয়ে পড়া এই লেখকের জন্য কোনো নতুন ঘটনা নয়। এর আগে ২০১৮ সালে ভারতে #মিটু আন্দোলনের সময় চেতনের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ এনেছিলেন এক নারী। এ ঘটনায় সামজিক মাধ্যমে ওই নারীর বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়ে নেয়ায় সে যাত্রায় বেঁচে যান চেতন।

তবে যতই ট্রোলড বা বিতর্কিত হউন না কেন, চেতনের প্রতিভাকে অস্বীকার করার জো নেই। চেতন ভগত একাধারে ঔপন্যাসিক, মোটিভেশনাল স্পিকার এবং টেলিভিশন উপস্থাপক। অসাধারণ প্রতিভাবান এই ব্যক্তির জন্ম ভারতের রাজধানী দিল্লিতে, ১৯৭৪ সালে। তিনি ১৯৯৫ সালে ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি দিল্লি থেকে স্নাতক মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এবং ১৯৯৭ সালে ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট আহমেদাবাদ থেকে এমবিএ ডিগ্রি নেন।

পড়াশোনা শেষে প্রায় ১১ বছর ব্যাংকে কাজ করেন চেতন ভগত। কিন্তু লেখালেখির আগ্রহের কারণে শেষে চাকরি ছেড়ে এটাকেই পেশা হিসাবে বেছে নেন। তিনি সাধারণত ইংরেজিতেই লেখালেখি করেন। ফলে তার পাঠক ছড়িয়ে রয়েছে গোটা বিশ্ব জুড়ে। তার লেখা বেস্টসেলার বইয়ের মধ্যে রয়েছে ‘ফাইভ পয়েন্ট সামওয়ান’‘ওয়ান নাইট @ এ কল সেন্টার’,‘দ্য থ্রি মিস্টেকস্ অব মাই লাইফ’,‘টু স্টেটস: দ্য স্টোরি অব মাই ম্যারেজ’‘রিভুল্যুশন ২০২০’ও ‘হাফ গার্লফ্রেন্ড’। এর মধ্যে চারটি উপন্যাস অবলম্বনে বলিউডে নির্মিত হয়েছে সিনেমা। সেগুলো হচ্ছে-‘থ্রি ইডিয়টস’, ‘কাই পো চে’,‘টু স্টেটস্’ও ‘হাফ গার্লফ্রেন্ড’।

২০০৮ সালে দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের তথ্য অনুযায়ী ভারতের ইতিহাসে চেতন ভগত ইংরেজি ভাষায় সবচেয়ে বেশি বিক্রিত বইয়ের লেখক। এছাড়া টাইম ম্যাগাজিনের বিশ্বের শ্রেষ্ঠ ১০০ ক্ষমতাধর ব্যক্তির তালিকায় যুক্ত হয়েছে চেতন ভগতের নাম।

এমএ/

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত