ঢাকা, সোমবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ১ পৌষ ১৪২৬ আপডেট : ১ ঘন্টা আগে English

প্রকাশ : ১৯ নভেম্বর ২০১৯, ১৭:১৪

প্রিন্ট

যাদুর বাক্স আর মাটির হাঁড়ি

যাদুর বাক্স আর মাটির হাঁড়ি
প্রতীকী ছবি
নাজমুল হুদা

উক্রিপুর রাজ্যের রাজকন্যা ‘কৃষ্ণকুমারী’। তিনি সব সময় তার প্রিয় মাটির হাঁড়ি নিয়ে খেলতো। রাজকন্যার এই হাঁড়িটি সাধারণ কোনো হাঁড়ি ছিলো না। এটি কৃষ্ণকুমারীর সকল আবদার পূরণ করতো। তাই রাজকন্যাও সেটিকে কখনো হারাতে চায় না। জীবনের শেষ অব্দি, এমনকি পরের জীবনেও হাঁড়িটিকে নিয়ে থাকতে চায় রাজকন্যা।

কিন্তু এর মধ্যেই একদিন কৃষ্ণকুমারী জঙ্গলের পথে হাঁটতে গিয়ে একটি যাদুর বাক্স দেখতে পায়। সে সময় বাক্সটিতে কার্টুন হচ্ছিল। এটি দেখে বেশ ভালোই লাগে রাজকন্যার। তিনি বাক্সটিকে নিয়ে আসে ঘরে। এরপর থেকে কৃষ্ণকুমারী প্রতিদিন যাদুর বাক্সের সঙ্গে সময় কাটাতে শুরু করে এবং প্রিয় মাটির হাঁড়িকে ভুলে যেতে থাকে।

এদিকে মাটির হাঁড়ি কৃষ্ণকুমারীর সঙ্গ না পেয়ে তার আবদার পূরণের আশ্চর্যজনক ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। এভাবে অযত্নে হাঁড়িটি একসময়ে মাটির সাথে মিশে যায়।

পরে কিছুদিন বাদেই রান্নার জন্য প্রিয় হাঁড়িটির সন্ধান করে কৃষ্ণকুমারী। কিন্তু সে সময় আর কোথাও হাঁড়িটি খুঁজে পাননা তিনি। সে বুঝতে পারে তার প্রিয় হাঁড়ি আর নেই। আর কোনোদিন সে তার সঙ্গ পাবে না। সেটি মাটির সাথে মিশে গেছে।

এমতাবস্থায় নিজেকে চিন্তা থেকে মুক্ত রাখতে যাদুর বাক্সের সামনে বসে রাজকন্যা। তিনি তার যাদুর বাক্স দেখে বিনোদন পায় কিন্তু যাদুর বাক্স তার ক্ষুদার জ্বালা মেটাতে পারে না।

এভাবে কয়েকদিন চলার পর ক্ষুধায় মারা যায় কৃষ্ণকুমারী। এখন কৃষ্ণকুমারী আর তার মাটির হাঁড়ি দুই হারিয়ে গেছে কিন্তু যাদুর বাক্স রয়েই গেছে।

বি. দ্র: নতুন কাউকে পেয়ে পুরোনো দিনের বন্ধুকে ভুলে যাওয়া ঠিক না। বিপদের সময় পুরোনোরাই আগে এগিয়ে আসে।

বাংলাদেশ জার্নাল/এইচকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত