ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৪ অক্টোবর ২০১৯, ৮ কার্তিক ১৪২৬ আপডেট : ৪ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২২:৪৭

প্রিন্ট

স্টলে স্টলে ছুটছে বইপ্রেমীরা

স্টলে স্টলে ছুটছে বইপ্রেমীরা
ঢাবি প্রতিনিধি

অমর একুশে গ্রন্থমেলা এখন শেষের দিকে। এবারের গ্রন্থমেলা শেষ হতে আর মাত্র তিনদিন বাকি। প্রতিবছর মেলার এ সময়টাতে অন্য সময়ের চেয়ে বেশি বিক্রি হয়। এবারও তার ব্যত্যয় হচ্ছে না। মেলার শেষ সপ্তাহে বিক্রি বরাবরই ভালো থাকে। এবারের মেলার শেষ সপ্তাহের দিনগুলোতে বিক্রি অনেক ভালো। এতে সন্তুষ্ট প্রকাশক ও বিক্রয়কর্মীরা।

সোমবার সরেজমিন বইমেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে এমন চিত্রই দেখা গেছে।

প্রকাশক ও বিক্রয়কর্মীরা জানান, মেলার শুরুর দিকে প্রতিবছরের ন্যায় এবারও দর্শনার্থীদের সমাগম কম ছিলো। হয়নি আশানুরূপ বিকিকিনি। এবারের মেলায় পরিসরের সাথে সাথে স্টলের সংখ্যা ও বিক্রির পরিমাণ বেড়েছে। দর্শনার্থীদের চাহিদার ক্ষেত্রেও এসেছে পরিবর্তন। মেলায় প্রবীণ প্রসিদ্ধ লেখকের পাশাপাশি নবীন লেখকদের বইয়ের বিক্রির পরিমাণও বেড়েছে। সকলের আগ্রহের জায়গায় পরিণত হয়েছে প্রাণের বইমেলা।

বিকেলে বইমেলায় গিয়ে দেখা যায়, মেলায় জনস্রোত না থাকলেও প্রচুর জনসমাগম হয়েছে। মেলা এখন শেষের দিকে। আর তাই শুরুর দিকে সময় করে উঠতে না পারা বইপ্রেমীরা এখন ছুটে আসছেন মেলায়। স্টলে স্টলে ঘুরে কিনছেন পছন্দের বই।

বিকেলে বইমেলায় আসেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্রী শবনম। তিনি বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, মেলার পরিবেশ অনেক সুন্দর। এখানে এলেই মনে হয় কোন উৎসবে এসেছি। এক অন্যরকম ভালো লাগা কাজ করে। মেলায় এসে হুমায়ুন আহমেদের দুটি উপন্যাস এবং জাফর ইকবালের একটি সায়েন্স ফিকশন কিনবো।

বিক্রেতারাও আজ বই বিক্রিতে অনেক ব্যস্ত। বিক্রি ভালো হওয়ায় তারাও সন্তুষ্ট।

ঐতিহ্য প্রকাশনীর বিক্রয়কর্মী জনি বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, মেলায় আজ বিক্রি বেশ ভালো। শেষ অবধি এমন বিক্রি হোক এটাই কামনা করি।

আগামী প্রকাশনীর বিক্রয়কর্মী সোহেল বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, মেলায় আজ বিক্রি অনেক ভালো। শেষদিন পর্যন্ত এমন থাকবে, এটাই আশা করি।

মেলায় নতুন বই: আজ সোমবার অমর একুশে গ্রন্থমেলার ২৫তম দিনে মেলায় নতুন বই এসেছে ১৪৫টি। এর মধ্যে গল্পগ্রন্থ এসেছে ২১টি, উপন্যাস ১৫টি, প্রবন্ধ ৬টি, কবিতা ৫৬টি, গবেষণা ১টি, ছড়ার বই ৪টি, শিশুসাহিত্য ৫টি, জীবনী ৫টি, রচনাবলী ১টি, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বই ১টি, বিজ্ঞান বিষয়ক গ্রন্থ ১টি, ভ্রমণ বিষয়ক বই ৩টি, ইতিহাসভিত্তিক বই ৩টি, চিকিৎসা/স্বাস্থ্য ৫টি, ধর্মীয় ১টি, অভিধান ১টি, সায়েন্স ফিকশন ১টি এবং অন্যান্য গ্রন্থ এসেছে ১৫টি।

গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চের অনুষ্ঠান: আজ সোমবার অমর একুশে গ্রন্থমেলার ২৫তম দিনে মেলা চলে বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত। বিকেল ৪:টায় গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় বাংলাদেশের অনুবাদ সাহিত্যের চালচিত্র শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। এতে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক কাজল বন্দ্যোপাধ্যায়। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন মানিক মোহাম্মদ রাজ্জাক, আনিসুর রহমান, আলম খোরশেদ এবং রাজু আলাউদ্দিন। সভাপতিত্ব করেন হাবীবুল্লাহ সিরাজী। অনুষ্ঠানের শুরুতে চকবাজারে অগ্নিকাণ্ডে হতাহতদের স্মরণে ঘোষিত জাতীয় শোক দিবস-এর অংশ হিসেবে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয় এবং আজকের নির্ধারিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান স্থগিত রাখা হয়।

প্রাবন্ধিক বলেন, বাংলাদেশে নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও অনূদিত বইয়ের তালিকার দিকে লক্ষ্য করলে মনে হয় উদারচিত্ততা, প্রগতিশীলতা, বামপন্থি চিন্তাভাবনা ইত্যাদির প্রতি আকর্ষণ উবে যায় নি। এক সময়ে ফ্রাঙ্কলিন পাবলিকেশন্স, প্রগতি প্রকাশনী, রাদুগা, পিপলস পাবলিশিং হাউস ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানের পরিকল্পনায় এখানে বিপুল পরিমাণে অনূদিত বইয়ের বাজার গড়ে উঠেছে। কেউ স্থানীয়ভাবে বড় লেখকদের দিয়ে অনুবাদের কাজ করিয়েছে। তার ফলে অনুবাদকেন্দ্রিক বিশ্বসংযোগ বেড়েছে। তবে অনুবাদের ক্ষেত্রে অনেক সময়েই আদর্শিক লক্ষ্য প্রাধান্য পেয়েছে। আবার ফরমায়েশি কাজের কিছু সীমাবদ্ধতাও ছিল। তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে অনুবাদের যে প্রাবল্য দেখা দিয়েছে তার মধ্য থেকে বস্তুনিষ্ঠ এবং যথাযথ অনুবাদের নিশ্চয়তা বিধান করা অতীব জরুরি।

আলোচকবৃন্দ বলেন, অনুবাদের ক্ষেত্রে মূলের প্রামাণ্যতা নিশ্চিত করা যেমন জরুরি তেমনি মুল লেখকের গ্রন্থসত্ত্ব সংক্রান্ত অনুমতি প্রাপ্তিও প্রয়োজন। সৃজনশীল সাহিত্যের অনুবাদ এবং গবেষণা কিংবা আনুষঙ্গিক বিষয়ের অনুবাদে যেমন পার্থক্য লক্ষ করা যায় তেমনি অনুবাদক-ভেদে একই বিষয়ের ভিন্নরকম উপস্থাপনাও পরিলক্ষিত হয়। এই বৈচিত্র্যের মধ্য দিয়েই বাংলাদেশে অনুবাদ-সাহিত্য অগ্রসর হয়েছে। অনুবাদ কেবল ইংরেজি বা পাশ্চাত্য ভাষা-নির্ভর না হয়ে পৃথিবীর সকল ভাষাব্যাপ্ত হলেই আমরা বাংলা অনুবাদ সাহিত্যকে একটি পূর্ণাঙ্গ অবয়বে দেখতে পাব।

সভাপতির বক্তব্যে হাবীবুল্লাহ সিরাজী বলেন, আমাদের অনুবাদ সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করতে হলে এর সংখ্যা যেমন বাড়াতে হবে তেমনি এর গুণগত মানের উন্নয়নও ঘটাতে হবে। এজন্য বিদেশি ভাষার সাহিত্যকে আমরা বাংলা ভাষার গুণগত মান বজায় রেখে অনুবাদের উদ্যোগ নেব। আমাদের দেশের সাহিত্যকে যদি বিশ্বের দরবারে পৌঁছুতে চাই তাহলে অনুবাদই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।

লেখক বলছি অনুষ্ঠানে নিজেদের নতুন প্রকাশিত গ্রন্থ বিষয়ে আলোচনায় অংশ মোস্তফা হোসেইন, তারেক রেজা, নাহিদ কায়সার, তুষার কবির এবং সৈয়দ জাহিদ হাসান।

কবিকণ্ঠে কবিতা পাঠ করেন কবি মাহমুদ আল জামান, সোহরাব পাশা, নুরুন্নাহার শিরীন, শিহাব শাহরিয়ার, পিয়াস মজিদ, অনিকেত শামীম, আমিনুর রহমান, এবং ফিরোজ আহমদ। আবৃত্তি পরিবেশন করেন আবৃত্তিশিল্পী মিজানুর রহমান সজল এবং মাসুম আজিজুল বাশার।

গুণীজন স্মৃতি পুরস্কার ঘোষণা: বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী আজ অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৯ উপলক্ষ্যে বাংলা একাডেমি পরিচালিত চারটি গুণীজন স্মৃতি পুরস্কার ঘোষণা করেন। ২০১৮ সালে প্রকাশিত বিষয় ও গুণমানসম্মত সর্বাধিক সংখ্যক গ্রন্থ প্রকাশের জন্য কথাপ্রকাশ-কে চিত্তরঞ্জন সাহা স্মৃতি পুরস্কার-২০১৯, ২০১৮ সালে প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে গুণমান ও শৈল্পিক বিচারে সেরা গ্রন্থ বিভাগে গোলাম মুরশিদের বিদ্রোহী রণক্লান্ত : নজরুল-জীবনী গ্রন্থের জন্য প্রথমা প্রকাশনকে, মইনুদ্দীন খালেদের মনোরথে শিল্পের পথে গ্রন্থের জন্য জার্নিম্যান বুক্সকে এবং মারুফুল ইসলামের মুঠোর ভেতর রোদ গ্রন্থের জন্য চন্দ্রাবতী একাডেমিকে মুনীর চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার ২০১৯ প্রদান করা হয়। ২০১৮ সালে প্রকাশিত শিশুতোষ গ্রন্থের মধ্য থেকে গুণমান বিচারে সর্বাধিক গ্রন্থ প্রকাশের জন্য পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স লিমিটেড-কে রোকনুুজ্জামান খান দাদাভাই স্মৃতি পুরস্কার-২০১৯ এবং ২০১৯ সালের অমর একুশে গ্রন্থমেলায় অংশগ্রহণকারী প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানসমূহের মধ্য থেকে নান্দনিক অঙ্গসজ্জায় সেরা প্রতিষ্ঠান হিসেবে মধ্যমা (এক ইউনিট), বাতিঘর (বহু ইউনিট), পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স লি.-(প্যাভেলিয়ন)-কে শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার ২০১৯ প্রদান করা হয়। আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৯-র সমাপনী অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে এসব পুরস্কার পুরস্কারপ্রাপ্তদের হাতে তুলে দেয়া হবে।

আগামীকালের কর্মসূচি: আগামীকাল মঙ্গলবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) মেলা চলবে বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত। বিকেল ৪টায় গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে ‘চলচ্চিত্রজন মৃণাল সেন, আমজাদ হোসেন ও আনোয়ার হোসেন: শ্রদ্ধাঞ্জলি’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। এতে প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন সাজেদুল আউয়াল। আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন ম. হামিদ, তপন বাগচী এবং বিধান রিবেরু। সভাপতিত্ব করবেন সৈয়দ হাসান ইমাম। সন্ধ্যায় রয়েছে কবিকণ্ঠে কবিতাপাঠ, কবিতা-আবৃত্তি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

বাংলাদেশ জার্নাল/এনএইচ

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত