ঢাকা, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ৪ আশ্বিন ১৪২৭ আপডেট : ২ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৭:৩৯

প্রিন্ট

সমাজের সকল স্তর আলোকিত হলেও প্রদীপের তলার অন্ধকার!

সমাজের সকল স্তর আলোকিত হলেও প্রদীপের তলার অন্ধকার!
মোহাম্মদ হাসান

প্রগতি ও প্রযুক্তির ছোঁয়ায় এগিয়ে চলেছে বিশ্ব। প্রবহমানতায় সেই স্রোতে গা ভাসিয়ে সকল স্তরেই বেশ খানিকটা উন্নতি করেছে এ দেশও। সমাজের সকল স্তরেই আধুনিকতার ছোঁয়া এসেছে। মডার্ন হয়েছে দেশের মেয়েরা। বেড়েছে শিক্ষার হারও। স্মার্টফোন, ইন্টারনেটের আধিক্য দেখা দিয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভালো-মন্দ সকল বিষয় নিয়ে মন্তব্য করতে সর্বদাই মুঠোফোন হাতে ব্যস্ত নেটিজেনরা।

কিন্তু সমাজের সকল স্তর আলোকিত হলেও প্রদীপের তলার অন্ধকার কার্যত রয়েই গিয়েছে। অর্থাৎ সমাজের বড় একটা অংশ এখনও দারি‌দ্র্য সীমার নীচেই বসবাস করছেন। এর ফলে এদের জীবনে অদূরেই রয়ে যায় শিক্ষা। ছোট থেকে শুরু হয় বেঁচে থাকার লড়াই। তার ফলে অনেকেই স্কুলমুখো হন না। হলেও পরিবারের পাশে দাঁড়াতে মাঝপথেই পড়াশোনা ছেড়ে চলে যান। ঠিকভাবে পেরোনো হয় না স্কুলের গণ্ডিও।

সঠিক শিক্ষা এবং জ্ঞানের অভাবেই হয়তো গ্রামাঞ্চলে ঝাড়ফুঁক, কুসংস্কার, অন্ধবিশ্বাসের মতো সমস্যা এখনও রয়ে গিয়েছে। আর এর জন্যই ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করার সুযোগ পেয়ে যান কিছু নিম্নরুচির ‘অ-মানুষ’। এর ফলে সমাজের নীচের সারিতে বসবাসকারীদের ঘরে সহজেই জাতপাত-ধর্মের ভিত্তিতে আগুন লাগিয়ে দেয় এক শ্রেণি।

ঘরে ঘরে গার্হস্থ্য হিংসার শিকার হন নিরীহ মেয়েরা। উপায়ন্তর না দেখে একপ্রকার বাধ্য হয়েই মুখ বুঝে মেনে নিতে হয় সকল অন্যায়, অপবাদ। কারণ ছোটবেলায় শিক্ষার আলোকে আলোকিত না হওয়ায় পরবর্তী কালে শ্বশুরবাড়িতে লাঞ্ছিত, অপমানিত হওয়া অনেক মেয়েই স্বনির্ভর হয়ে উঠতে পারেন না। ফলে সহ্য করতে হয় স্বামী থুড়ি শ্বশুরবাড়ির অত্যাচার।

তবে একথা মোটেই ভাববেন না শিক্ষার অভাবে সমাজে শুধুমাত্র নারীরাই অবহেলিত এবং বঞ্চিত। সঠিক শিক্ষা না থাকায় অকালে শিশুদের ভবিষ্যৎও নষ্ট হয়ে যায়। মাদকচক্রের কবলে পড়ে নিষিদ্ধ মাদক সেবনে জড়িয়ে পড়ে তারা। অসৎসঙ্গে পড়ে যাওয়ায় বেশ কিছু শিশুকে বিক্রিও করে দেওয়া হয়।

অচিরেই শিশু, কিশোর এবং তরুণদের একাংশের জীবন নষ্ট হয়ে যায়। অর্থাৎ সমাজের সকলস্তরে বিকাশ একরকম গতিতে হয় না। অনেকের জীবনেই উন্নয়নের আলো পৌঁছয় না। তাহলে উপায় কী? পিছিয়ে পড়া এইসব মানুষরাও তো আমাদেরই দেশের নাগরিক। কে এদের এগিয়ে নিয়ে যাবে! কেই বা পথ দেখাবে?

দীর্ঘদিন ধরেই সমাজের পিছিয়ে পড়া এই ধরণের মানুষদের এগিয়ে নিয়ে যেতে চেষ্টা করছে সরকার। শুরু হয়েছে নানা প্রকল্প।

তাদের সাহায্যার্থে এগিয়ে এসেছে একাধিক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা। সমাজের যে অংশের লোকজন পিছিয়ে রয়েছে তাঁদের সার্বিক উন্নতিকরণের মাধ্যমে সামনের সারিতে আনার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

তাহলে এখন প্রশ্ন হচ্ছে পিছিয়ে পড়া এই সকল মানুষদের পাশে দাঁড়িয়ে সাহায্যের হাত কি যে-কেউ বাড়িতে দিতে পারেন। সদিচ্ছা থাকলে এ কাজ যে কেউ করতে পারেন একথা ঠিক। কিন্ত সব ব্যাপারেরই একটা প্রক্রিয়া রয়েছে, নিয়ম রয়েছে। এটিও তার ব্যতিক্রম নয়। কাজেই সামাজিক এই কাজকে পেশা হিসেবে নিতে চাইলে পড়তে হবে সোশ্যাল সায়েন্স।

সমাজবিজ্ঞানী ও মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন হতাশা আর হঠাৎ করে ব্যাপক প্রযুক্তিগত উন্নয়নের কারণে অসহনশীলতা বাড়ছে।

ড. সায়মা হক বিদিশা বলেন, ‘বাঙালিদের সহনশীলতার বিষয়টা প্রেক্ষিতের উপর নির্ভর করে’।

তিনি বলেন, অনেক বিষয়ে ধৈর্য্যের পরিচয় দিলেও মাঝে মাঝে আইন হাতে তুলে নেয়ার মতো চরম অসহনশীলতার উদাহরণও দেখা যায়। এসব কারণেই গণপিটুনির মতো ঘটনা ঘটে। তবে অন্যায় দেখে চুপ থাকাটাও সহনশীলতা নয় বলে উল্লেখ করেন তিনি।

এদিকে মনোবিদরা বলছেন, মানুষের অসহনশীল হওয়ার পেছনে পারিবারিক ও সামাজিক কারণ রয়েছে। আবার হতাশা, ধৈর্য্য শিক্ষার অভাব এবং সমাজে হঠাৎ করেই প্রযুক্তিগত উন্নয়নও একটি বড় কারণ।

মনোবিজ্ঞানী এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক ড. মেহজাবীন হক বলেন, জিনগত ভাবে অনেকে অসহিষ্ণু হয়। আবার আমরা যে পরিবেশে বেড়ে উঠি সেখান থেকেও অনেক কিছু শিখি।

আবার দ্রুত ঘটে যাওয়া সামাজিক পরিবর্তনের সাথে খাপ খাওয়াতে না পারাও সহনশীল না হওয়ার একটি বড় কারণ বলে উল্লেখ করেন ড. মেহজাবীন হক।

তবে আমার অন্যকে দেখছি যে অল্প সময়ে মধ্যে কেউ বিশাল কিছু হয়ে যাচ্ছে, কিন্তু আমরা কিছু করতে পারছি না। যে কারণে আমরা সহনশীলতা দেখাতে পারছি না।

মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, পারিবারিক ও ব্যক্তিগত পর্যায়ে সচেতন না হলে মানুষের মধ্যে সহনশীলতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়।

লেখক: মোহাম্মদ হাসান, কলামিস্ট, সাংবাদিক।

বাংলাদেশ জার্নাল/এনএইচ

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত