ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২০, ২৬ চৈত্র ১৪২৬ আপডেট : কিছুক্ষণ আগে English
ব্রেকিং নিউজ
  •   ৬৯টি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল করোনা রোগীসহ সব ধরনের সেবা দিতে ২৪ ঘণ্টা প্রস্তুত

প্রকাশ : ০৮ মার্চ ২০২০, ১৯:৩৬

প্রিন্ট

করোনাভাইরাস

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কি বন্ধ ঘোষণা করা উচিত?

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কি বন্ধ ঘোষণা করা উচিত?

Evaly

নাজমুল হোসেন

মারণ ভাইরাস করোনা বা কোভিড-১৯ প্রথম আঘাত করে চীনের উহান প্রদেশে। সেখান থেকে বর্তমানে ১০৩টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। আক্রান্তের সংখ্যা লাখ ছাড়িয়ে গেছে। মারা গেছে প্রায় ৪ হাজার মানুষ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, চীনের বাইরে অন্য দেশগুলোতে ১৭ গুণ বেশি গতিতে ছড়াচ্ছে এ ভাইরাস।

সম্প্রতি জানিয়েছিলো বাংলাদেশ করোনা ভাইরাসের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। সে কথারই যেনো প্রতিফলন ঘটলো আজ (রোববার)। বাংলাদেশেও শনাক্ত হয়েছে করোনাভাইরাস। ইতিমধ্যে তিনজন ব্যক্তি এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে।

আইইডিসিআরের পরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা রোববার জানান, আক্রান্তদের মধ্যে একজন নারী এবং দুজন পুরুষ। তাদের মধ্যে একজন ইতালিফেরত বাংলাদেশি।

মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, ‘তাদের সবার অবস্থাই স্থিতিশীল। তিনজনকেই হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। বাংলাদেশে করোনা ছড়িয়ে পড়ার মতো কোনো পরিস্থিতি হয়নি। স্কুল-কলেজ বন্ধ করে দেওয়ার মতো পরিস্থিতি হয়নি।’ তবে জেনে রাখা ভালো, করোনাভাইরাস বিস্তার রোধে সংযুক্ত আরব আমিরাতে গত রোববার (৮ মার্চ) থেকে স্কুল-কলেজসহ সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চার সপ্তাহের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

এছাড়া আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের দিল্লি সরকারের সাহায্যপ্রাপ্ত প্রাইমারি স্কুল, পৌরসভা পরিচালিত প্রাইমারি স্কুল এবং বেসরকারি প্রাইমারিসহ সব স্কুল ৩১ মার্চ পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

করোনাভাইরাসের প্রভাব যেন শিক্ষার্থীদের ওপর না পড়ে তাই শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে করোনাভাইরাসের বিস্তাররোধে প্রতিরোধমূলক এবং সতর্কতামূলক পদক্ষেপের অংশ হিসেবে দেশগুলোতে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

সেদিক দিয়ে চিন্তা করলে বাংলাদেশের মতো একটি ঘনবসতিপূর্ণ দেশে যদি আগাম প্রস্তুতি ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকারের তরফ থেকে বন্ধ ঘোষণা না করা হয় তাহলে করোনাভাইরাস ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে যাওয়ার আশংকা থেকে যায়।

কারণ করোনা প্রতিরোধ ব্যবস্থার সতর্কতায় বলা আছে, যেসব জায়গায় মানুষ বেশি জড়ো হয় সেসব স্থান এড়িয়ে চলতে হবে। বাংলাদেশের মতো মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোতে জুমার নামাজের সময় বাড়ি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। সৌদি আরব ইতোমধ্যেই ওমরাহ বন্ধ করেছে। ইরানেও গত শুকওবার জুমার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়নি।

সে হিসেবে বাংলাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে জনসংখ্যার একটি বৃহৎ অংশ শিক্ষা আরোহনের উদ্দেশ্যে অংশগ্রহণ করেন। এছাড়া রাজধানীসহ সারাদেশের শহরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে যেতে শিক্ষার্থীরা যানবাহন হিসেবে গণপরিবহন ব্যবহার করে। করোনাভাইরাস প্রতিরোধে এটাও বলা আছে, গণপরিবহন এড়িয়ে চলা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। বাস, ট্রেন কিংবা অন্য যে কোন ধরণের পরিবহনের হাতল কিংবা আসনে করোনাভাইরাস থাকতে পারে।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সহপাঠীদের মেলামেশা (করমর্দন, আলিঙ্গন) ছড়াতে পারে করোনাভাইরাস।

যদি সাময়িকভাবে দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ ঘোষণা করা হয় তাহলে রাস্তা কিংবা গাড়ি উভয় জায়গায় লোকবলের ঘনত্ব অনেকাংশেই কমে যাবে। সেটা হতে পারে করোনা দ্রুত বিস্তার রোধে একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত।

করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা বাড়ছেই। এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৬ হাজার ১৯৫ জন এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। বিশ্বব্যাপী ১০৩টি দেশ ও অঞ্চলে এই ভাইরাসের প্রকোপ ছড়িয়ে পড়েছে।

এনএইচ/

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত