ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২০, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ আপডেট : ১৬ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১৬ মে ২০২০, ২২:৩১

প্রিন্ট

একজন, দুইজন করেই দেশের প্রতিটি মানুষ ভালো থাকবে

একজন, দুইজন করেই দেশের প্রতিটি মানুষ ভালো থাকবে

Evaly

রিয়াজুল হক

ছোট একটি ঘটনা দিয়ে শুরু করি। একজন ধার্মিক ব্যক্তি ছিলেন। আল্লাহ তায়ালা তাঁকে অনেক ধন সম্পদ দান করেছিলেন। প্রতিবছর হিসেব করেই যাকাত আদায় করতেন। একদিন তিনি তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ার জন্য যখন উঠলেন, দেখলেন তার সিন্দুকের তালা এক চোর ভাঙ্গার চেষ্টা করছে। তিনি চোরকে দেখেও না দেখার ভান করে অযু করলেন, তাহাজ্জুদ নামাজ পড়লেন, দোয়া করলেন। ফজরের আযান দিল। তখন সেই ধার্মিক ব্যক্তি চোরের কাছে গিয়ে বলল, ভাই সকাল হয়ে গেল তবুও এ ছোট তালাটি ভাঙ্গতে পারলেন না? চোর ভয় পেয়ে পালিয়ে গেল। এরপর তিনি মসজিদে গিয়ে নামাজ আদায় করলেন এবং ইমাম সাহেবকে সকল ঘটনা খুলে বললেন।

ইমাম সাহেব প্রশ্ন করল, তুমি প্রথমেই কেন চোরকে ধরলে না? তখন সে জবাব দিল, আমি আপনার মুখে শুনেছি, যে যাকাত আদায় করে, তার সম্পদ আল্লাহ হেফাজত করে। আপনার কথার উপর আমার বিশ্বাস ছিল। আমি প্রতিবছর হিসাব করে আমার সম্পদের যাকাত আদায় করি। সেহেতু আমার সম্পদ কেউ চুরি করতে পারবে না। আজ রাতে আমি সেই প্রমান পেলাম। কারণ চোরটি সারারাত চেষ্টা করে ছোট একটি তালা ভাঙ্গতে সক্ষম হয়নি।

সব সময় দেখে এসেছি রমজানের সময় মসজিদে ইফতার হয়। মহামারী করোনার কারণে মসজিদে এখন আর সেটা সম্ভব নয়।

ইফতারের সময় অনেক গরীব, অসহায় রোজাদার ব্যক্তি মসজিদে ইফতার করত। রিক্সাচালক, ভ্যানচালক মাগরিবের আযানের পূর্ব মুহূর্তে তাদের রিক্সা-ভ্যান যে কোন মসজিদের পাশে রেখে মসজিদের মধ্যে ইফতার করত। অনেক ভ্রম্যমান মানুষ, ছোট ছোট ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও মসজিদে ইফতার করত। মসজিদের আশেপাশে বসবাসকারী গরিব মানুষগুলো তাদের ছোট বাচ্চাদের মসজিদে পাঠিয়ে দিত। গরিব মানুষগুলোর ইফতারের সেই সুযোগ এখন বন্ধ। করোনাকালের এই সময়ে দিনমজুর, খেটে খাওয়া মানুষগুলোর কোন কাজও নাই। আয় রোজগার বন্ধ। অন্যের সাহায্য সহযোগিতা ছাড়া তাদের বেঁচে থাকার উপায় নাই।

আমরা অনেকেই যাকাত দিয়ে থাকি, অনেকেই আবার দেই না। কারো কারো ধারণা, এত কষ্ট করে আয় করলাম। এখন সেখান থেকে গরিব মানুষকে দিয়ে দিতে হবে। তাহলে আমার অর্জিত সম্পদ তো কমে যাবে। এই চিন্তা করে অনেকেই যাকাত দেন না।

রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, কোন বান্দা যখন যাকাত আদায় করেন, তখন আল্লাহর আদেশে একজন ফিরিশতা তার জন্য এভাবে দোয়া করতে থাকেন, ‘হে আল্লাহ! আপনার পথে যে দান-সদকা, যাকাত দেয়, তার সম্পদকে আপনি বৃদ্ধি করে দিন আর যে ব্যক্তি সম্পদ ধরে রাখে (যাকাত দেয় না) তার সম্পদ আপনি ছিনিয়ে নিন।’

আমাদের দেশে যাদের উপর যাকাত আদায় করা ফরজ, তারা যদি সঠিক হিসাব করে যাকাতের টাকা গরীব অসহায়দের মাঝে দিয়ে দেন, তাহলে দেশের এই পরিস্থিতিতেও কোন মানুষ না খেয়ে থাকবে না।

আমরা যারা যাকাত দিব, তারা অন্তত এই সময়টায় দেন। গরিব আত্মীয়, প্রতিবেশী এবং অন্যান্য অসহায় মানুষগুলোকে যাকাতের টাকা দিয়ে হলেও সহায়তা করুন। কোন রকম সেহরি-ইফতারি করে তারা রোজাটা থাকুক।

দূর-দূরান্তের মানুষের খোঁজ হয়তো আমরা নিতে পারব না। কিন্তু বাড়ির পাশে যারা বসবাস করছে,নিকটাত্মীয় যারা আছে, তাদের অবস্থা আমরা সকলেই জানি। লজ্জায় হয়তো তারা কিছু চাইতে পারবে না। যাকাতের টাকা দিয়ে তাদেরকে সহায়তা করুন। একজন, দুইজন করেই দেশের প্রতিটি মানুষ ভালো থাকবে।

লেখক: যুগ্ম পরিচালক, বাংলাদেশ ব্যাংক।

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত