ঢাকা, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২০, ২৭ আষাঢ় ১৪২৭ আপডেট : কিছুক্ষণ আগে English

প্রকাশ : ২৯ মে ২০২০, ১১:৪৫

প্রিন্ট

উত্তুঙ্গ মননে যাপিত জীবনের সংজ্ঞা

উত্তুঙ্গ মননে যাপিত জীবনের সংজ্ঞা
রাজীব কুমার দাশ

এ মুহূর্তে নিজের আপনজনকে জীবনের সংজ্ঞা জিজ্ঞেস করতেই ভয়ার্ত ফ্যাকাসে চাহনিতে উত্তর আসতে পারে-- জানিনা, কিংবা অপ্রত্যাশিত কান্না! আপনজনের কান্না খেকো কষ্টের তীরগুলো বিঁধে আপনি বাকরুদ্ধ! নিজেকে সামলে যাপিত দিনের স্মৃতি হাতড়ে উত্তর-দক্ষিণ মেরু পাড়ি দিয়ে- কোনো উত্তর না পেয়ে বিড়-বিড় অব্যক্ত স্বরে বললেন- ‘জীবনের সংজ্ঞা- এমনই-যেখানে যেমন’।

# প্রস্তর যুগে মানুষ গাছের পাতা-ছাল পড়ে লজ্বা নিবারণ করেছে। কাঁচা মাংস খেয়েছে,পাথরে ঘষে আগুন জ্বেলেছে। সভ্যতার ক্রমবিকাশে জীবন বন্দনায় ধাপে-ধাপে মানুষ অনুভব করেছে জীবনের মানে-সংজ্ঞা! দর্শন-সাহিত্য-মনোবিজ্ঞান-সমাজবিজ্ঞান-বিজ্ঞানের জটিল আপেক্ষিকতা নিয়ে একচেটিয়া মতামত কেউই দিতে পারেননি। প্রাণের বিশুদ্ধ নির্যাসই জীবন। এক প্রাণ-এক জীবন! জীবনের বাঁক ভয়ানক করস্রোতা! ভয়ানক ঘূর্ণিবাঁকে- কে-কখন-কোথায়-কিভাবে হারিয়ে যায়? তা একমাত্র ভুক্তভোগি-ই জানে।

#সিরিয়া-আফ্রিকা হাড্ডিসার শিশুদের কাছে জীবনের সংজ্ঞা হলো- ‘এখনো চোখে ঘুম নেই, ক্ষুধার রাজ্যে পাহারায় থাকি; কোথাও স্বপ্নে আছে ভাত?’। বেশ্যাদের প্রতি মুহূর্তে জীবনের সংজ্ঞা পাল্টায়; নতুন খদ্দের ওদের নতুন পৃথিবী উপহার দেয়। ওখানে কাঁদতে হয়,বাঁধতে হয়, নাইতে হয়, গাইতে হয়, জ্বলতে হয়, এমনকি মরতে হয়! ওদের জীবনের সংজ্ঞা বুঝি এমনই হয়! দিনের আলোতে বেশ্যা বলা- চরম সৎ মানুষটি রাতের আঁধারে হয়ে যায়- নিষিদ্ধ রুমের সিদ্ধ পুরুষ। নতুন বেশ্যাগমন না করলে ঘুম আসেনা-মনটা হয়ে যায় চরমে-চরম। ফোর প্লে বোঝে না,অর্গাজম বোঝে না, স্ত্রী’র কাছে কেতাদুরস্ত আনাড়িপনা করে রাতারাতি বনে যান-- ‘তবুও আমি সতী’।

#চরম ঘুষখোরের কাছে জীবন সংজ্ঞায়িত হয়- টাকার মাপকাঠিতে! চোরের চুরি, ভেজালের উদ্বাহু, মিথ্যুকের ফন্দিফিকির, সন্ত্রাস’র বড় ভাই, চেয়ার প্রতিযোগিতা- উল্লষ্ফন। সবই সংজ্ঞা-সংজ্ঞা-সংস্কৃতি বংশ পরম্পরা! আজ করোনা অতিমারী যাপিত জীবনের সবার সংজ্ঞা বিশ্বময় এক কাতারে মেলানোর বার্তা দিয়ে গেছে। জীবনের সংজ্ঞা চরমে-চরম হতে পারে না, হতে পারে-পরম। জীবন বন্দনায় বেজে ওঠে প্রীতি-সাম্যের সুর-লয়-তাল! আমাদের সবার জীবনটা অনেক-অনেক মহিমান্বিত। এ জীবন হতে অনেক-কিছুই সাম্য বন্দনায় পৃথিবীকে নন্দনতত্ত্বে নন্দনকানন বানিয়ে দেয়া যায়। দরকার একটু ইচ্ছে শক্তি।

#সমাজের প্রান্তিক অবস্হানে চলে যাওয়া নিম্ন মানুষের পরিবারে নেমে আসে বিপর্যয়! অভাবজনিত, ক্ষুধাতাড়িত জীবনে ভেঙ্গে পড়ে মূল্যবোধ-সম্পর্কের গভীর বুনোট। অভাব ও খিদের কাছে ধর্ম-উচ্চবিত্ত-মধ্যবিত্ত-নিম্নবিত্ত সব একাকার। রাক্ষুসে ক্ষুধার কাছে হেরে যায়-কবি, সাহিত্যিক, ইতিহাস, সাহিত্য ও বিজ্ঞান। হেরেছে প্রাচীন -মধ্য-আধুনিক সমৃদ্ধ সভ্যতা। প্রিয়তমা- হয়েছে পতিতা, প্রিয় সন্তান পরিবার পরিজন হয়েছে দেশান্তরি। মানুষ পঙ্গপালের মতো যা সামনে পেয়েছে তাই উদরস্হ করেছে। ক্ষুধার বিরুদ্ধে সংগ্রাম প্রাচীন যুগ হতে এখনো নিরবধি চলছে-আগামিতে ও চলবে।

#ক্ষুধার সাহিত্যকে আর দীর্ঘতম করা যায় না। ক্ষুধা একটি স্বাভাবিক জৈব সংকেত। তাই-জীবনের সংজ্ঞা ব্যাপ্তিকাল ক্ষুধা এক অনন্য স্হান দখল করে নিয়েছে, কারো কাছে মহান! কারো কাছে পেটে জ্বলন্ত ক্ষুধাসুর। আমার দৃষ্টিতে জীবনের সংজ্ঞা সময়ের চোরাবালিতে ‘যার কাছে যেমন’। আপেক্ষিক ঘরনা নিয়ে শুধু লুকোচুরি খেলা। এক লহমে সাধু-শয়তান।

#উত্তুঙ্গ মননে বদলে দিতে পারে আমাদের যাপিত এবং আগামি দিনের দৃষ্টিভঙ্গী। সমৃদ্ধ মনন-নন্দনের সমাহারে জাতি পরম দেশপ্রেম লালন করে দূর্বার গতিতে সামনে এগিয়ে যায়। জাতীয় চেতনার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় জাতীয়তাবাদ পূর্ণতা পায়। আমাদের দেশের শতভাগ সৎ ব্যক্তিত্বসম্পন্ন-জনকল্যাণমুখি ঘরনার সেবকগণ করোনাসংকট নিয়ে জনবান্ধব ঘরনাকেন্দ্রিক কাজ করে চলেছেন।

পুলিশ সুপার, গাজীপুর জনাব, শামসুন্নাহার পিপিএম, অনন্য উচ্চতায়- ঋজু ব্যক্তিত্বে অতিমারী করোনাসংকট মোকাবেলায় কাজ করে চলেছেন। যার নেতৃত্বে আইনি সেবার পাশাপাশি সামাজিক ও পারিবারিক সুরক্ষা-বন্ধন, সামাজিক উন্নয়ন ও স্হিতি, দেশের দক্ষ-টেকসই মানব সম্পদ উন্নয়নে অহর্নিশ বহুমাত্রিক ঘরনার জনবান্ধব সেবা এখন সকল কমিউনিটির দোরগোড়ায়। এ বৈশ্বিক মহামারি’তে পুলিশ সুপার, গাজীপুর-দূরদর্শী নেতৃত্বে জনমুখি সেবায় যাপিত করে চলেছেন সকল কমিউনিটির লোকজন। নিজেই সবার ঘরে-ঘরে গিয়ে সামাজিক সন্মানে সহায়তা করে চলেছেন। একদিন সবার জীবনে রাঙ্গা-প্রভাত দোরগোড়া'য় সহাস্যে উঁকি দেবে। চরম হতাশা করোনা-সংকট মেঘ কেটে যাবে। সবার হৃদয়ে গেঁথে থাকবে জাতীয় বীরদের নাম। নিজের জীবনকে চরম ঝুঁকিতে ফেলে প্রতিদিন জনকল্যানই যাঁর পাথেয়- বিন্দু-বিন্দু সিন্ধু জয়গান-প্রজন্ম প্রভাতফেরি মিছিলে ধ্বনিত হবে এ মহীয়সী’কে ঘিরে নাম’টি ‘শামসুন্নাহার পিপিএম’।

লেখক- রাজীব কুমার দাশ।

কবি ও প্রাবন্ধিক

পুলিশ পরিদর্শক, বাংলাদেশ পুলিশ।

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত
best