ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২০, ১ শ্রাবণ ১৪২৭ আপডেট : ৪ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ২৯ জুন ২০২০, ২১:৩১

প্রিন্ট

নেতাকর্মী-জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়হীনতায় জনগণ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে

নেতাকর্মী-জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়হীনতায় জনগণ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে
অসিত বরণ বিশ্বাস

চার দলীয় জোট সরকারের আমলে এদেশ যখন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে, দেশ ও জাতি জামায়াত-বিএনপির দুঃশাসন, হত্যা, গুম, অনিয়ম, অন্যায়-অত্যাচার ও দুর্নীতির হাতে জিম্মি, গণতন্ত্র যখন মুখথুবড়ে পড়ে আছে জাতি তখন দুঃশাসন থেকে বাঁচতে মরিয়া। ঠিক তখন আবারো মরার উপর খাড়ার ঘাঁ এর মত অগণতান্ত্রিক তত্বাবধায়ক সরকার দ্বারা জনগণ তার গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়। দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামের পর চার দলীয় জোট ও তত্বাবধায়ক সরকারের অবসান ঘটলে আপনার নেতৃত্বে ক্ষমতায় আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে। ২০০৮ সালে সারা দেশে বিপুল জনসমর্থনের মাধ্যমে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে।

ক্ষমতায় আসার পর আমাদের কিছু এমপি-মন্ত্রীরা বঙ্গবন্ধুর আদর্শের বাইরে গিয়ে ক্ষমতার দাপট ও ব্যক্তিগত আধিপত্য বিস্তার ও গ্রুপিং লবিং এর রাজনীতি শুরু করে বেপরোয়া হয়ে যায়। যার কারণে তারা জনগণ, নেতা-কর্মী বিমুখ ও জনসমর্থনের তলানিতে গিয়ে পড়ে। পরবর্তীতে ২০১৩ সালে শুরু হল জামায়াত-বিএনপি ও হেফাজত ইসলামের লাগাতার হরতাল, বোমাবাজি, অগ্নিসংযোগ, রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্নকরণসহ মানুষ ও পশু হত্যার মত নির্মম কর্মকাণ্ড। সারাদেশ তখন বিশাল এক ক্রান্তিকাল সময় পার করার মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হচ্ছিল। তখন জামায়াত বিএনপি ও হেফাজতের রক্তচক্ষু ও অন্যায় আন্দোলনে ভীত হয়ে এলাকা এমনকি দেশ ত্যাগ ও করেছিল কিছু স্বার্থান্বেষী এমপি-মন্ত্রী আপনি জানেন। যার ফলে ঐ আন্দোলনের প্রতিরোধ গড়ে তুলতে অনেকটা হিমশিম খেতে হয়। তারপর আসে ৫ জানুয়ারি ২০১৪ দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন।

তৎকালীন সময় জনপ্রিয়তা তলানিতে ঠেকে যাওয়া এমপিরা সেই নির্বাচনে মনোনয়ন কিনতে সাহস করিনি। তারা আপনার বিশ্বাস ও আস্থার প্রতিদান ঘটাতে ব্যর্থ হয়। ওনারা ভেবেছিলেন এ নির্বাচন হবে মাত্র কয়েকদিনের। কিন্তু একমাত্র আপনার দক্ষ নেতৃত্ব, চৌকস ও সৃজনশীল পরিচালনায় সারাদেশ তৃণমূলের নেতা-কর্মীদেরকে একত্রে সুসংগঠিত করে বিশ্বের বিভিন্ন মোড়লদের হুমকি ধামকিকে উপেক্ষা করে জনমনে আস্থা ফিরিয়ে এনে আবারও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে। কিন্তু এখানেও নির্বাচিত কিছু সংখ্যক সাংসদরা মনে করেন এ বিজয় তাদের ব্যক্তি যোগ্যতার ফসল। যার কারণে তারা নির্বাচনী এলাকায় তাদের ভিতর আচরণগত অনেক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। এমনকি তারা ব্যক্তিগত ও ক্ষমতার বহিঃপ্রকাশ ঘটানোর জন্য দলীয় ত্যাগী, পরিশ্রমী নেতা কর্মীদেরকে অবমূল্যায়ন করে ব্যক্তিগত ক্ষমতার বলয়, চাটুকার ও সহচর বৃদ্ধিতে মত্ত থাকে। যার ফলশ্রুতিতে জামায়াত বিএনপির অনেক নেতা কর্মীর আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশ ঘটে যাদেরকে আমরা হাইব্রিড হিসেবে চিনি আপনি জানেন।

অনেক সময় দলীয় ও দুর্দিনের ত্যাগী বঙ্গবন্ধুর আদর্শের কর্মীদেরকেও জামায়াত বিএনপি বানানো হয়েছে। আর প্রকৃত জামায়াত বিএনপিরা জনপ্রতিনিধিদের ছত্রছায়ায় থেকে দিব্যি সুবিধা নিয়েই চলেছে। যার কারণে সারাদেশে আওয়ামী লীগ তথা সহযোগী অঙ্গ সংগঠনের নেতা কর্মীরা হয়েছে লাঞ্ছিত, বঞ্চিত ও উপেক্ষিত। এজন্য তৃণমূলে অঙ্গসংগঠনের মধ্যে অনেক দ্বিধা দ্বন্দ্ব ও গ্রুপিংয়ের জন্য নাজুক অবস্থা। কিন্তু তারপরও জনমনে আপনার জনপ্রিয়তার একটুও ভাটা পড়েনি। তার কারণ হচ্ছে আপনার সময়োপযোগী পদক্ষেপ, মানবতা, গরীব দুঃখী ও অসহায় মানুষদের জন্য আপনার উন্নয়নমুখী কার্যক্রম, যেমন বয়স্কভাতা, বিধবা ভাতা, মাতৃগর্ভকালীন ভাতা, শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি, বিনামূল্যে বই বিতরণ, মুক্তিযোদ্ধা ভাতা, ১০ টাকা কেজি প্রতি চাউল বিতরণ ইত্যাদি। সাথে সাথে সারাদেশে উন্নয়নের জোয়ার বইয়ে দেয়া এবং পদ্মাসেতুর মত উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডকে আলোর মুখ দেখানো। এভাবে দেখতে দেখতে উন্নয়নের মধ্য দিয়ে আবারও জাতীয় নির্বাচন ও সরকার গঠন।

সারাবিশ্বকে চমকে দিয়ে নারী নেতৃত্বের রেকর্ড গড়া ও বিশ্বে তৃতীয়তম প্রধানমন্ত্রীর খেতাবও এখন আপনার ঝুলিতে। নতুন করে নতুন এমপি ও মন্ত্রী পরিষদ নিয়ে আবারও পথ চলা শুরু। ভালোই এগিয়ে যাচ্ছিল উন্নয়নের মধ্যে দিয়ে দেশ কিন্তু হঠাৎ সারাবিশ্বকে (Covid 19 Corona Virus) নাড়িয়ে দিল। সারাবিশ্বকে পরিণত করল মৃত্যুপুরীতে।

গত ২৬ মার্চ লকডাউনে গেল সারাদেশ। এমতাবস্থায় গরীব দুঃখী ও অসহায় কর্মহীন হয়ে পড়া মানুষের মাঝে খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার জন্য ও ভাইরাস প্রতিরোধে আপনার সাহসী পদক্ষেপ প্রশংসার দাবিদার। আপনি বিভিন্ন সময় জনগণের দোরগোড়ায় বিভিন্ন রকমের ত্রাণ সামগ্রী দলীয় নেতাকর্মী ও জনপ্রতিনিধিদের দ্বারে পৌঁছে দিয়েছেন। কিন্তু দুঃখের বিষয় দেখা গিয়েছে ঐসব ত্রাণসামগ্রী কিছু জনপ্রতিনিধিরা নিজের বলেই চালিয়ে দিয়েছে। আবার কোথাও দেখা গিয়েছে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে দীক্ষিত কিছু নেতাকর্মী ও জনপ্রতিনিধিরা নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। এছাড়াও অনেক শিল্পপতি এমপি ও নেতাকর্মী আছে কিন্তু তারা সরকারি সাহায্য ব্যতীত জনগণের পাশে দেখা যায়নি। আপনি যখন ৫০ লক্ষ অসহায় পরিবারের মাঝে আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন সেখানেও অনিয়ম হয়েছে। বিভিন্ন পত্র পত্রিকার সংবাদ আমার বিশ্বাস আপনার দৃষ্টিগোচর হয়েছে।

সর্বশেষ গত ৫ মে ঘূর্ণিঝড় আম্ফানে বাংলাদেশর দক্ষিণ পশ্চিম উপকূল অঞ্চল খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, যশোর, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এমনকি নদী ভাঙনে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে এখনো পর্যন্ত মানুষ পানিবন্দি জীবন যাপন করছে। কিন্তু দুঃখের বিষয় এখানেও দলীয় নেতাকর্মী ও জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়হীনতার জন্য জনগণ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অধিকাংশ জাগায় অসম বণ্টন-নীতি ও আত্মীয়করণের অভিযোগ বিভিন্ন পত্র পত্রিকা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

এমতাবস্থায় প্রিয় নেত্রী আপনি যদি ব্যক্তিগত ইন্টেলিজেন্স ফোর্স ব্যাবহার করে তদন্ত করেন তাহলে সবকিছু আপনি সহজে বুঝতে পারবেন। আমরা দেখেছি সারা বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের সম্মেলনে সভাপতি সাধারণ সম্পাদকের পাশাপাশি কিছু পদ ঘোষণা করা হয়েছে কিন্তু একমাত্র খুলনায় এর ব্যতিক্রম হয়েছে যার কারণে সভাপতি/সম্পাদকরা দুর্দিনের ত্যাগীদের বাদ দিয়ে পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে নিজের লোক বাড়ানোর জন্য চেষ্টা করছে যা দলের জন্য পরবর্তীতে ব্যাপক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করি। তাই আপনার কাছে অনুরোধ সারা বাংলাদেশের রাজনৈতিক অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ করে তৃণমূলকে সুসংগঠিত করে আওয়ামী লীগকে শক্তিশালী করার মধ্য দিয়ে দেশ ও জাতিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। সর্বোপরি প্রিয় নেত্রী আপনার সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করি সবসময়| আপনি ভালো থাকলে বাংলাদেশ ভালো থাকবে। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।

লেখক: সাবেক ছাত্রনেতা ও তরুণ আওয়ামী লীগ নেতা

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত
best